পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের শেষ যে কথা হয়েছিল...

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপালে স্থানীয় সময় গত সোমবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ল্যান্ড করার আগে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদের কথোপকথনের একটি রেকর্ড ইউটিউবে প্রচার হয়েছে। ওই কথোপকথনের শুরুতে বিমানের পাইলট অবতরণের নির্দেশনা চান। এক পর্যায়ে টু জিরো রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি পান। ওই মুহূর্তে কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়-

‘ডু নোট প্রসিড টুয়াওয়ার্ডস ফ্রম দি টু জিরো। ক্লিয়ার টু হোল্ড।’

পাইলট বলেন, ‘মেকিং এ রাইট হোল্ডিংস। উই আর গেট ল্যান্ডিং।’

কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়,‘ বাট ডু নট ল্যান্ড। ইউ ক্যান হোল্ড এ প্রেজেন্ট পজিশন। রানওয়ে টু জিরো।’ পাইলটের উত্তর, ‘উই লাইক টু ল্যান্ড টু জিরো।’

কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, ‘ওকে ল্যান্ড’। পাইলট বলেন, ‘টু সিক্স জিরো কমপ্লিটলি ল্যান্ড।’ কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হয়, ‘কনফার্ম ইউ রানওয়ে সাইট।’

পাইলট জবাব দেন- ‘নেগেটিভ স্যার।’

কন্ট্রোল রুম বলে, ‘বাংলা স্যার ২১১ টার্ন রাইট। কনফার্ম ইউ হ্যাভ রানওয়ে নট ইন সাইট? ক্যান ইউ হোল্ড প্রেজেন্ট পজিশন? আই সে এগেইন টার্ন।’

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে এরকম কথোপকথন থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আফিফ। তিনি দাবি করেন, এ দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট ও ক্যাপ্টেনের কোনো ভুলভ্রান্তি ছিল না। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামও একই দাবি করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে ক্যাপ্টেনের কোনো প্রবলেম আমরা আসলে খুঁজে পাইনি।

ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের বিমানে তিনি ১৭০০ ঘণ্টা ফ্লাই করেছেন। বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশনে ৫০০০ ঘণ্টার ওপরে কাজ করেছেন। কাঠমান্ডু এয়ারফিল্ডে শতাধিক ল্যান্ডিং ওনার আছে। এয়ারফিল্ড, এয়ারক্রাফট ওনার জন্য নতুন কিছু না। আমাদের মনে হয় না, এখানে ক্যাপ্টেনের কোনো ভুলভ্রান্তি আছে।

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার ছেত্রির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে নামার অনুমতি পাওয়ার পর উড়োজাহাজটির পাইলট বলেন, তিনি উত্তর দিকে অবতরণ করতে চান। তখন কন্ট্রোল টাওয়ার জানতে চায় সমস্যা আছে কিনা। জবাবে পাইলট জানান, সমস্যা নেই। অবতরণের অসংগতি দেখে কন্ট্রোল টাওয়ার পাইলটকে জানিয়ে দেয় যে তার অবতরণ সঠিক হচ্ছে না। এর জবাবে পাইলটের কোনো উত্তর কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানায়নি।

 

"