গত বছর নির্যাতন-দুর্ঘটনায় ১৫১১ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৭ সালে এক হাজার ৫১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে; যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে বিভিন্ন ঘটনায় ৯৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। দেশে শিশু পরিস্থিতি নিয়ে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শিশু পরিস্থিতি-২০১৭’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জন শিশু মারা গেছে। আর অন্যান্য দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৬৭৯ জন, স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যায় ২১ জন, যৌন নির্যাতনে একজন, ধর্ষণে ১৮ জন শিশু মারা যায়। অন্যদিকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পর আহত হয়ে ১৯৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অপহরণের পর ১০ জন, বাল্যবিয়ের কারণে একজন, নির্যাতনে সাতজন এবং আত্মহত্যা করে ২০৩

জন শিশু মারা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বছর বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছে পাঁচ হাজার শিশু; যা ২০১৬ সালের চেয়ে তিন হাজার দুজন বেশি। ২০১৬ সালে আহত হয়েছিল এক হাজার ৯৯৮ জন শিশু।

২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৭ জন, অন্যান্য দুর্ঘটনায় ১২০, স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জটিলতায় তিন হাজার ৮৩৮, যৌন নির্যাতনে ১০০, ধর্ষণের কারণে ৪৫৪, ধর্ষণচেষ্টার কারণে ৪৫, হত্যাচেষ্টার কারণে ২৮, অপহরণের কারণে ৬২, অপহরণচেষ্টার কারণে ১৬, বাল্যবিয়ের কারণে এক, নির্যাতনের কারণে ২৫২ ও আত্মহত্যাচেষ্টার কারণে সাতজন শিশু আহত হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৪১৪ জন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়; যা ২০১৬ সালের চেয়ে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৪ জন বেশি। গত বছর শুধু শিক্ষা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ২৫২ জন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করে মামুন বলেন, ‘গত বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষক স্বল্পতা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ভাঙাসহ নানা কারণে এসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

শিশুমৃত্যু, হত্যা, ধর্ষণ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুরা প্রতিবেশী, উত্ত্যক্তকারী, বন্ধু, স্বজন, শিক্ষকদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া মাদকাসক্ত, শিক্ষকদের বকা, পড়াশোনা থেমে যাওয়া, পরীক্ষার ফরম পূরণ না করতে পারার কারণে আত্মহত্যা করেছে শিশুরা। তবে গত বছর ২০১৬ সালের চেয়ে আইন প্রয়োগ ও বিচার-সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আলাদা শিশু অধিদফতর করা, শিশু সুরক্ষা কাঠামো গঠন, শিশু অধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং বাড়ানো, শিশুশ্রম ইউনিট সক্রিয় করা, শিশু গৃহকর্মকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিশেষ বিধানের অপব্যবহার রোধ করতে সুপারিশ করা হয়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা রঞ্জনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

"