ব্রেকিং নিউজ

ক্যানসার হাসপাতালের লটারির ড্র

কর্মরতদের লটারি কিনতে বাধ্য করে আহছানিয়া মিশন

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্মরতদের লটারির টিকিট কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আহছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, লটারির চড়া দামও কেটে রাখা হয়েছে বেতন থেকেই। এই নিয়ে আহছানিয়া মিশনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ক্ষোভ থাকলেও চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এই অসন্তোষের মধ্যেই গতকাল শনিবার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের লটারির ড্র হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটা ভালো উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে টাকা দিতে এত সমস্যা কিসের?’ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আহছানউল্লাহ ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড ট্রেনিং (এআইটিভিইটি) শাখার একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, মিশনের লটারি কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। আর লটারি না কিনলেও ৫ হাজার ৬০০ টাকা বেতন থেকে পর্যায়ক্রমে কেটে নেওয়া হয়েছে।

এআইটিভিইটিতে কর্মরতরা চড়া মূল্যে টিকিট কিনতে বাধ্য হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমকে খুশি করতে এআইটিভিইটির সহকারী হিসাবরক্ষক মুন্সি মশিউর রহমান ও কেয়ারটেকার অসিদ রঞ্জন দাশ এ কাজ করেছেন। তাদের কারণেই সবাইকে অন্য সব শাখার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি টাকার লটারি কিনতে হয়েছে। এই নিয়ে এআইটিভিইটিতে চরম অসেন্তাষ দেখা দিয়েছে। এআইটিভিইটির কারওয়ান বাজার শাখায় ৪৫ জন ফুল টাইম শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন মোট ৬০ জন।

এআইটিভিইটি থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকার লটারি কেনার নির্দেশনা জারি করা হয় ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে। নির্দেশনা জারির একাধিক কপি এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অন্য এক নির্দেশনায় মিশনের অধীনে থাকা আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার পর্যায়ে লটারি কিনতে হয়েছে তিন হাজার টাকার। এ ছাড়া প্রফেসর পর্যায়ে দুই হাজার টাকার, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ১ হাজার ৫০০ টাকার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এক হাজার টাকার, লেকচারার ৮০০ টাকার, অফিস হেডদের ১ হাজার ২০০ টাকার, কর্মকর্তারা ৬০০ টাকার এবং অন্য কর্মচারীদের ২০০ টাকার লটারি কিনতে হয়েছে।

আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (তেজগাঁও শাখা) শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা পর্যায়ক্রমে মিশনের নির্ধারণ করে দেওয়া লটারি কিনেছেন। তবে মিশনের চাপিয়ে দেওয়া লটারি কিনতে বাধ্য করায় তাদের মনে অসন্তোষ আছে।

সম্প্রতি ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের কাছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ তুলে ধরলে তিনি নীরব থাকেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী রফিকুল আলমকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে লটারির প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটা ভালো উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে টাকা দিতে এত সমস্যা কিসের?’ তিনি আরো বলেন, ‘এআইটিভিইটি আমাদের প্রতিষ্ঠান। আমরা সবাই এমন পরিমাণ টাকা দিয়েছি।’

এ সময় মিশনের বেঁধে দেওয়া অর্থের পরিমাণ জানালে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আমাদেরই বেঁধে দেওয়া। নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের সবাই এই পরিমাণ অর্থ দিচ্ছে। আর কারো একবারে টাকা দিতে সমস্যা হলে বেতন থেকে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সমপরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হবে।’

গত ৯ এপ্রিল ২০১৪ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্ছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা কাজের উদ্বোধন করেন। ১৫তলা বিশিষ্ট এই ক্যানসার হাসপাতালটি সম্পূর্ণরূপে চালু করার জন্য আরো অর্থের প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে আহ্ছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের তহবিল গঠনের জন্য ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে চতুর্থবারের মতো সরকার অনুমোদিত আহ্ছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতাল লটারি-২০১৮-এর টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।

"