প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার নিয়ে সিলেটে ডিজিটাল প্রতারণা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

এম এ রউফ, সিলেট

বিদ্যুৎ বিলে হয়রানি আর নানা অনিয়ম দূর করতে দেশে প্রিপেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য পোস্টপেইড মিটারের বদলে নতুন প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ চলছে। কিন্তু সিলেটে এই প্রিপেইড মিটার নিয়ে চলছে নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম। বসানো হচ্ছে মানহীন প্রিপেইড মিটার। অন্যদিকে লোড বাড়াতে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে নিচ্ছে বাড়তি টাকা। প্রিপেইড বিলে ‘বিবিধ’ নামে একটি শ্রেণিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে সিলেটে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনাও।

জানা যায়, সম্প্রতি সিলেট মহানগরীর বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন মার্কেটে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়। আগের পোস্টপেইড মিটার সরিয়ে নতুন প্রিপেইড মিটার বসাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা। সুতরাং প্রিপেইড মিটারেও ভোগান্তি থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানান, তাদের প্রিপেইড মিটার যখন-তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হুট করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সংযোগ। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে লোড বাড়ানোর কথা বলা হয়। কিন্তু লোড বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো ফি ধার্য না থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, লোড চার কিলোওয়াট বাড়ালে মিটারে দেখাচ্ছে দুই কিলোওয়াট। প্রিপেইড বিলে ‘বিবিধ’ নামে একটি শ্রেণিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত রিচার্জ সেন্টার না থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে গ্রাহকরা সিলেট নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডে এক বিদ্যুৎ কর্মচারীকে আটকে রাখেন কাউন্সিলর কার্যালয়ে। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় গ্রাহকরা তার কাছে নানা অভিযোগ জানান। নির্বাহী প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে কিছু গ্রাহকের সমস্যার সমাধান এবং বাকি সমস্যাগুলো পরবর্তীতে সমাধানের আশ্বাস দেন।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের শিপলু, দেলওয়ার, জুনেদ, প্রদীপ, নবাব নামের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রিপেইড মিটার বসাতে এবং লোড বাড়াতে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। এছাড়া কোনো গ্রাহকের কতটুকু লোড প্রয়োজন, এটা জিজ্ঞেস না করেই কর্মচারীরা মিটার বসিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মুহিত জাবেদ বলেন, ‘প্রিপেইড মিটার বসানোর ক্ষেত্রে যদি জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য নেয়া হতো, তবে ঝামেলা হতো না। গ্রাহকরা অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন, আমরা বিদ্যুৎ অফিসকে জানাচ্ছি। তাতেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, এজন্য গ্রাহকরা যেকোনোভাবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ বলেন, ‘লোড বাড়াতে টাকা নেওয়ার কথা না। কেউ টাকা দাবি করে, তাহলে গ্রাহক যেন না দেয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

"