হত্যা না আত্মহত্যা! মা-মেয়ের মৃত্যু নিয়ে স্বজনদের দুই মত

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে একই দিনে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, বিষপানে আত্মহত্যা। আর নিহত নারীর ভাইয়ের অভিযোগ, তাদের পরিকল্পিতভাবে বিষপানে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, বিষপানে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি করে গতকাল বুধবার দুপুরে মেয়ে ও স্ত্রীর চিকিৎসা না করে থানায় ইউডি মামলা করতে এলে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত মহিলার নাম সাবিনা আক্তার (২৫) ও তার প্রতিবন্ধী মেয়ের নাম শারমিন আক্তার (১৫)। তারা দুজনে নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামের আজহারুল ইসলামের স্ত্রী ও কন্যা। আজহারুল ইসলামের ২য় কন্যা সাথী আক্তার (১০) এবং তার বড় ভাই নুরুল ইসলামের স্ত্রী জরিনা বেগম জানায়, মহিলাটি প্রায় ২ বছর ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। নিজ পিত্রালয়ে গিয়ে বিভিন্ন ডাক্তারের চিকিৎসা নিলেও আরোগ্য লাভ করেননি। অন্যদিকে তার প্রতিবন্ধী মেয়ে শারমিন কথা বলতে পারে না, চলাফেরাও করতে পারে না। অসুস্থ শরীর নিয়ে তার সম্পূর্ণ দেখাশোনার পাশাপাশি অভাব অনটনের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে গত মঙ্গলবার সকালে তারা বিষপান করে। স্থানীয়রা টের পেয়ে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই মহিলার মৃত্যু হয়। আর মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে বাড়িতে এনে ফেলে রাখে। সন্ধ্যার পর মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মেয়েটির মৃত্যু হয়।

মহিলার স্বামী আজহারুল ইসলাম জানায়, স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী বিষয়টি অবগত করতে আমি থানায় চলে আসি। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অভিযোগের কারণে তারা আমাকে আটক করেছে। বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে।

ওই নারীর ভাই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর গ্রামের আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার বোন ও বোনের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে বিষপান করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

"