প্রাণের বইমেলা

বইমেলায় বসন্তের রং

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

গতকাল ফাল্গুনের প্রথম দিনে বসন্তের রং লেগেছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। নারীরা বাসন্তী রঙের শাড়ি, আর পুরুষেরা বাহাড়ি রঙের পাঞ্জাবি পড়ে এসেছিলেন বইমেলায়। শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত মেলাপ্রাঙ্গণের চারপাশে লোকে-লোকারণ্য। মেলাও সরগরম। বেচাবিক্রি ভালো হয়েছে। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এদিনেও মেলায় বেচাবিক্রি নিয়ে আশাবাদী আয়োজক কমিটি ও প্রকাশনা সংস্থাগুলো।

গতকাল মঙ্গলবার মেলার প্রবেশদ্বার খোলে বিকেল ৩টায়। শুরু থেকেই ভিড় ছিল। তরুণীদের কেউ লাল, কেউ হলুদ শাড়িতে, কেউবা বাসন্তী, পোশাকে এসেছিলেন মেলায়। খোঁপায় ছিল ফুল, হাতে রেশমি চুড়ি। তরুণদের পাঞ্জাবি কিংবা মানানসই ফতুয়া। মেলায় বসুন্ধরার আসমা আক্তার বলেন, ‘সাজগোজ ও পোশাক গত বছরের মতো হয়েছে। ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় কিছু বই কিনে ফিরব।’ বিলাস প্রকাশনীর এক নারী বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে না পারলেও হলুদ শাড়ি, রেশমি চুড়ি পরেছি। বিক্রি অন্য দিনের চেয়ে ভালো হয়েছে।’

গতকাল মঙ্গলবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারীর নিরাপদ পরিসর ও পরিবেশ শীর্ষক আলোচনা সভা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুশি কবীর। আলোচনায় অংশ নেন সুলতানা কামাল, হোসনে আরা শাহেদ, সুভাষ সিংহ রায় এবং নূরুন্নাহার মুক্তা। সভাপতিত্ব করেন আয়শা খানম।

খুশি কবীর বলেন, ‘নারীর আত্মসম্মান ও মর্যাদাবোধ গড়ে ওঠে পরিবারে। আত্মবিশ্বাসের অভাব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারীরা পিছিয়ে পড়েন। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন যতই হোক কেন, নারীর উন্নয়ন না হলে আর সব উন্নয়ন মøান হয়ে যাবে।’

সভাপতির বক্তব্যে আয়শা খানম বলেন, ‘নারীর জন্য পরিসর তৈরির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যেখানে নারীরা নানাভাবে অবদান রেখে গেছেন। নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির সংগ্রামে পুরুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৩তম দিনে মেলায় নতুন ১৫০টি বই এসেছে।

আজকের আয়োজন : আজ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৪তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে শিশু সংগঠন নিষ্ক্রিয়তা ও শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোহিত কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন সুব্রত বড়ুয়া, দিলারা হাফিজ এবং হাসান শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিল্পী হাশেম খান। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

"