প্রাণের বইমেলা

ইকরি! হালুম! টুকটুকি!

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সিসিমপুরের স্টল। ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণ মাতিয়ে রাখে সিসিমপুর। জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র ইকরি, হালুম, টুকটুকিও আসে মঞ্চে। শিশুদের মুখে ‘ইকরি! হালুম! টুকটুকি!’ এমন কলরবে সিসিমপুর প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে ছিল। কার্টুনগুলো হেলেদুলে নেচে গেয়ে মাতিয়ে রাখে শিশুদের। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এ আনন্দে পিছিয়ে নেই।

গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে ছিল শিশু প্রহর। এ সময় মেলায় শিশুদের প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশু চত্বরের সিসিমপুর। আদবর থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছে আশিক। সিসিমপুর মঞ্চে ৬ বছর বয়সি শিশু আশিক তার পছন্দের কার্টুন হালুমের সঙ্গে। কথা হয় তাদের সঙ্গে। আশিক বলেন, ‘টিভিতে কার্টুনগুলো দেখেছি। টিভি আর সিসিমপুরের কার্টুন প্রায় একই রকম। তাই বাবাকে বললাম ছবি তুলতে। বাসায় গিয়ে মিলিয়ে দেখব তাদের সঙ্গে কেমন দেখা যায়।’ মেলায় শিশুদের নিয়ে এলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সিসিমপুরের স্টলে যেতেই হয়। সিসিমপুরে না গেলে পূর্ণতা পায় না এমনটাই জানালেন মেলায় আসা কয়েকজন অভিভাবক। শ্যামলী থেকে এসেছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী শিশির আক্তার। শিশির বলেন, ‘সিসিমপুরের হালুম-শিকু-ইকরিদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে। বিকেল পর্যন্ত থাকব। কিছু বইও কিনব।’

শিশু কর্নারের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঘাসফড়িংয়ের কর্নধার শ্যামল কুমার দাস বললেন, ‘তিন-ছয় বছরের বাচ্চারা বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় আসছেন। কম লেখা এবং বেশি ছবির বই খুব পছন্দ করে তারা। তাই চার রঙের বই ছেপেছি। বিক্রিও ভালো।’

কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দ্বিতীয় সপ্তাহেই এবারের মেলা বেশ জমে উঠেছে। রাজনৈতিক সহিংসতার ভয় মানুষের কেটেছে। আগামী দিনগুলোতে ভিড় আরও বাড়বে।

গতকাল শনিবার মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে গল্প ৪১টি, উপন্যাস ৪৫টি, প্রবন্ধ ১৩টি, কবিতা ৪৯টি, গবেষণা চারটি, ছড়া চারটি, শিশুসাহিত্য ১১টি, জীবনী সাতটি, রচনাবলি তিনটি, ভ্রমণ কাহিনি পাঁচটি, ইতিহাস পাঁচটি, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য তিনটি, মুক্তিযুদ্ধের সাতটি, বিজ্ঞান চারটি, রম্য-ধাঁধা একটি, অনুবাদ তিনটি, সায়েন্স ফিকশন তিনটি এবং অন্যান্য ২০টি বইসহ মোট ২২৫টি নতুন বই রয়েছে।

আজকের আয়োজন : আজ রোববার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে রুশ বিপ্লবের শতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ডা. সারওয়ার আলী, সৈয়দ আজিজুল হক এবং ইমতিয়ার শামীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

"