খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক প্রশস্তকরণে কর্মযজ্ঞ!

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা

পণ্য আমদানি-রফতানিতে গতি বাড়াতে মংলা বন্দর ও ভোমরা স্থলবন্দরের যোগাযোগের জন্য খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের (খুলনা রোড) উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভোমরা বন্দর থেকে ঢাকা ও মোংলা বন্দরে যাতায়াত দ্রুত ও সহজ হবে। এ সড়কে ২৭ টন ওজনের যানবাহনের ভার বহনের ক্ষমতা থাকবে। এজন্য সড়কের দুই পাশের অন্তত এক হাজার ৫০০ গাছ কাটা পড়বে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে এক হাজার ৪০০ গাছ কাটার নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, খুলনার জিরোপয়েন্ট থেকে আঠারো মাইল পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের পুরুত্ব ছিল ৩৫০ মি.মি থেকে ৪০০ মি.মি.। এখন বিভিন্ন লেয়ারে পুরুত্ব হবে ৯০০ মি.মি. থেকে ১ মিটার। সড়কে ভারবহন ক্ষমতা থাকবে ডাবল এক্সেল (৬ চাকা) ১৫ টন, ট্রিপল এক্সেল (১০ চাকা) ২২ টন এবং ফোর এক্সেল (১৪ চাকা) সাড়ে ২৭ টন। আগে সড়ক প্রশস্ত ছিল ২০ ফুট। দু’পাশে অতিরিক্ত ৭ ফুট করে এখন প্রশস্ত হবে ৩৪ ফুট। সড়কের জিরো পয়েন্ট, কৈয়া বাজার, ডুমুরিয়া, কাঁঠালতলা, চুকনগর এবং আঠারো মাইল ৬টি পয়েন্টে বাস স্টপেজ নির্মাণ করা হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খুলনার জিরোপয়েন্ট, ডুমুরিয়া, খর্নিয়া ও আঠার মাইল এলাকায় এরই মধ্যে সড়কের দু’পাশে খনন করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বালু, ইট ও পাথর দিয়ে ভরাটের কাজও শুরু হয়েছে। খর্নিয়ার মেছাগুনায় বালু, খোয়া ও আংগারদোহায় বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ করা হয়েছে।

কাটা হচ্ছে এক হাজার ৫০০ গাছ : সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য দু’পাশের প্রায় এক হাজার ৫০০ নানা প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে সড়কের ২৪তম কিলোমিটার থেকে ৪৯তম কিলোমিটার পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৪০০ গাছ কাটার জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সওজ, নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ (পশ্চিমাঞ্চল) পলাশ সরকার জানান, ঠিকাদার নিয়োগের ২০ দিনের মধ্যে প্রশস্তকরণে বাধা সৃষ্টিকারী এসব গাছ কেটে ফেলা হবে। তিনি বলেন, ডুমুরিয়ার চুকনগর থেকে আঠার মাইল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় এ অংশের গাছ আগেই কেটে ফেলা হচ্ছে।

মান নিয়ে প্রশ্ন : খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক প্রশস্তকরণে ঠিকাদার তমা কনস্ট্রাকশন, মোজাহার এন্টারপ্রাইজ একটি গ্রুপে ও অন্য গ্রুপে তাহের ব্রাদার্স, মঈনুদ্দিন বাঁশি ও মোজাহার এন্টারপ্রাইজ কাজ করছে। তবে নির্মাণ কাজের ধীরগতিসহ সড়কের পুরনো অংশের পিচ ও খোয়া দিয়ে যেনতেনভাবে বর্ধিত অংশের গর্ত ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে গাছ কর্তনে ঠিকাদার নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

তবে সওজ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মামুন কায়সার জানান, ডুমুরিয়ার একটি অংশে সড়কের পাশে ট্রাক উল্টে যানজটের সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরনো অংশের পিচ ও খোয়া দিয়ে বর্ধিত অংশের গর্ত ভরাট করা হয়। আর কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ দ্রুত চলছে, আমরা আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে।

চার লেনের প্রয়োজনীয়তা : বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ্জামান জানান, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে মোংলা বন্দরকে ঘিরে এখানে কর্মযজ্ঞ বাড়বে। সেই সময় ভোমরা বন্দর থেকে মংলায় পণ্য আমদানি-রফতানি করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যানজট বাড়বে। এ কারণে সড়কটিতে চার লেনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খুলনার জিরোপয়েন্ট থেকে আঠারো মাইল পর্যন্ত মহাসড়কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প (খুলনা জোন) এর আওতায় খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা (আর-৭৬০) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া আঠার মাইল থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ১২৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সড়কের দুই পাশে ৭ ফিট করে মোট ১৪ ফিট সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।

"