উলিপুরে নদীভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০৬

এ কে এম মজাহারুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর পানি কমলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত উলিপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। ১৫ দিনের অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়িসহ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে ঘর-বাড়ি সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। ভাঙনের কারণে গৃহ হারা মানুষ খাদ্য ও আবাসিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকালার মধ্যে থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা হিন্দুপাড়া, মাঝিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ডাক্তারপাড়া, ফকিরপাড়া গ্রামের ৫১টি পরিবার, গুনাইগাছ ইউনিয়নের সন্তোষ অভিরাম, টিটমা, কাজিরচক-শুকদেবকু-ের ২০টি পরিবার, বজরা ইউনিয়নের সাতালস্কর, চর-বজরার ৪৬টি পরিবার, হাতিয়া ইউনিয়নের কামারটারি ও হাতিয়া গ্রামের ৮১টি পরিবারসহ দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। অবিরাম ভাঙনের মুখে ঘর-বাড়ি সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন। ভাঙনের হুমকিতে পরেছে গুনাইগাছ ইউনিয়নের কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়া টি বাঁধসহ পাঁচটি গ্রাম ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি মন্দির। 
থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা গ্রামের নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই জানান, গত বছর থেকে এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চলতি বছর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। ওই ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য তারামনি বর্ম্মনী বলেন, পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দারচরে অপরিকল্পিতভাবে তিস্তা নদীর পশ্চিম পারে মাটি ভরাট করে বৃহৎ সোলার প্যানেল প্রকল্প স্থাপনের কারণে নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। 
থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী সরকার জানান, ওই এলাকায় প্রতি বছর নদী ভাঙছে, ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করা হয়েছে। কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নদী ভাঙনরোধ সম্ভব হবে। গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খোকা জানান, শুকনো মৌসুমে নাগড়াকুড়া এলাকায় টি বাঁধের নিকটবর্তী এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি আজ হুমকির সম্মুখীন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো ফল হয়নি। 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ইউনিয়ন প্রতি এক টন করে চাল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। 
এ বিষয়ে ইউএনও মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ভাঙনরোধের ব্যবস্থার জন্য জানানো হয়েছে।