কাশিয়ানীতে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নিয়োগ পরীক্ষা!

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০২

লিয়াকত হোসেন লিংকন, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)

আদালতের মামলা উপেক্ষা করে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত ১৬ মে পত্রিকায় ওই স্কুলের শূন্য পদে একজন নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এতে মোট ১২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি সুলতান মোল্যা ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তার মনোনীত প্রার্থী পার্থ প্রতিম শীলকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করেন। পরে এক ছাত্রীর অভিভাবক নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত নোটিশ জারি করে নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে ওই দরখাস্তের জবাব দিতে এবং ওই আদেশের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। 
গত ৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে রায় দেন আদালত। পরবর্তীতে মামলার বাদী শহিদুল শেখ জেলা দায়রা জজ আদালতে মিস আপিল করেন। আপিলের সমনের কপি পিয়নের মাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও সভাপতির কাছে পাঠালেও তারা সমনে স্বাক্ষর করেননি। কিন্ত চলতি মাসের ১৬ তারিখে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আপিলের পরের দিন গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের সভাপতি সুলতান মোল্যা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, ডিজির প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ বীনাপানি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র মন্ডলসহ সংশ্লিষ্টদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে গোপনে ওই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মিল্টন বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পার্থ প্রতিম শীলকে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করছেন সভাপতি বলে অভিযোগ।
মামলার আইনজীবী আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ম্যানেজিং কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন বেআইনি। তারা আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন। পরবর্তীতে নতুন করে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত থেকে মামলার বিষয়ে কোনো চিঠি পাইনি। তবে মামলা হয়েছে আমি শুনেছি।’ 
কাশিয়ানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দলীয় এক রাজনৈতিক নেতার চাপের কারণে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়েছি।’