মুক্ত হৃদয় ও উন্মুক্ত সীমান্ত

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:১৭

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্জন অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয় না হয়ে পারে না। এ অর্জন সীমিত সম্পদের উন্নয়নশীল একটি দেশের জন্য অহংকার। অহংকার! তবে নেতিবাচক নয়। মানবিকতার ছন্দে দোলায়িত এক নান্দনিক উপহার। মণি-মানিক্যের সমাহারে গড়ে ওঠা কোনো অলংকার নয়। ভালোবাসার নির্যাসে গড়া মানবিক বোধের এ এক প্রতিচ্ছবি। আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। আমাদের এ অর্জনের কথা তার মতো করে প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, সীমিত সম্পদের উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত ও হৃদয় দুই-ই খুলে দিয়েছে। যেখানে বৃহৎ ও সম্পদশালী দেশগুলো শরণার্থীদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের এ উদারতা মানবতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকার দাবি করতেই পারে।
মহাসচিব বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের মমত্ববোধ ও উদারতা দেখিয়ে দিয়েছে মানবতার সর্বোচ্চ রূপ। যা লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে। সংকট সমাধানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, বিশ্বকেই এর সমাধান দিতে হবে। আমরাও মনে করি, সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে বিশ্বকে। আমাদের দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীন। এ দুই দেশ এখনো পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্য সমাধান প্রশ্নে চোখে পড়ার মতো কোনো ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেনি বা হয়নি। দেশ দুইটির একটিকে আমরা গণতান্ত্রিক এবং অপরটিকে সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবেই জেনে এসেছি। নীতিগতভাবে দেশ দুইটির নিপীড়িতদের পক্ষে থাকার কথা। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রশ্নে তারা এর প্রতিফলন দেখাতে পারেনি অথবা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন জানি বিশ্ব রাজনীতি এখন পুঁজির উপাসকে পরিণত হয়েছে। এখানে গণতন্ত্র অথবা সমাজতন্ত্রের বোধ কফিনের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। 
ব্যক্তি চিন্তায় কারো হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। এ কথা সত্য। তবে ব্যক্তি যখন সমষ্টির অংশ হয়ে ওঠে তখন ব্যক্তি আর ব্যক্তির পারিপার্শ্বিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তাকে সমষ্টির কোলেই আশ্রয় নিতে হয়। রোহিঙ্গা সমস্যা এখন আর ব্যক্তি পর্যায়ে নেই। এটা সামষ্টিক এবং বিশ্বের। বিশ্বকে আজ ভাবতে হবে, তারা নিপীড়িতের পক্ষে দাঁড়াবে না নিপীড়কের পক্ষে থাকবে? আমরা জানি, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র নীতিগতভাবে কখনোই নিপীড়কের পক্ষে থাকতে পারে না। এ কারণেই আশা করতে পারি ভারত ও চীন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকায় এগিয়ে আসবে। যা রোহিঙ্গাদের সব অধিকারসহ দেশে ফিরে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জনে সহায়ক হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।