ঈদে কয়েক লাখ পর্যটক থেকে কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য

* পর্যটকদের বরণে জেলা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের প্রস্তুতি * সীমিত করা হয়েছে সুন্দরবন পূর্র্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০৯

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাগেরহাটের অন্যতম পর্যটন স্থান সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও পর্যটন স্থানগুলোতে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও জেলা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।   
দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঈদের ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা বন বিভাগের। এতে প্রায় কোটি টাকা আয় হবে বলে তাদের ধারণা।
পর্যটক আকর্ষণের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে এরই মধ্যে সীমিত করা হয়েছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বনরক্ষীদের ছুটি। এ ছাড়াও ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রিসোর্ট সেন্টার, শহরের দশানী পার্ক ও শহরের দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌর পার্কসহ জেলার পর্যটন স্থানগুলোকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে আলোকসজ্জাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদৌস প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ^ ঐতিহ্যের অংশ ষাটগম্বুজ মসজিদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। ঈদের সময় জেলার বাইরে থেকে চোখে পড়ার মতো দর্শনার্থীরা এখানে ঘুরতে আসেন। এ সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ সদস্যসের একটি টিমসহ জেলা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

বাগেরহাট শহরের দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌর পার্কের ক্যান্টিনের এক অংশের মালিক রাজু আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ঈদে পৌর পার্কে ঘুরতে আসা ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। ঈদে আমাদের বেচা কেনাও ভালো হয়। ঈদের তিন দিন পর্যন্ত পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকে। এ ছাড়া দড়াটানা নদীর পাড়ের দৃষ্টিন্দন দৃশ্য সব সময়ই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। যে কারণে শুধু ঈদে নয়, সব সময়ই এখানে ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় লেগে থাকে। এবারের ঈদেও পর্যটক সমাগম হবে বেশ। জেলা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অনুরোধে আমরা এবং সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা পর্যটকদরে আতিথ্য দিতে পুরো প্রস্তুত।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে করমজলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। ঈদের দিন মূলত স্থানীয় লোকজন এখানে ঘুরতে আসে। ঈদের পরদিন থেকে দর্শনার্থী বা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে করমজলকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন স্থাপনা মেরামতসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। 
সুন্দরবন (পূর্ব) বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহামুদুল হাসান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরন পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটন-স্পটগুলোতে আগমন ঘটে হাজার হাজার পর্যটকের। ম্যানগ্রোভ এই বনে বর্তমানে পর্যটন মৌসুম না হলেও ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, শরণখোলা রেঞ্জসহ সন্নিহিত বন ও লোকালয়ে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে আগত দেশি-বিদেশি ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণীসহ বনজসম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঈদের ছুটি সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে পরিচালিত আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাহারা ‘স্মার্ট প্রেট্রোলিং’ চলমান থাকবে। তিনি আরো বলেন, এবার যেহেতু দেশের রাজনীতি, সড়কসহ সার্বিক অবস্থা বেশ ভালো। তাই আমাদের আশা ঈদের ছুটিতে সমাগম হবে কয়েক লাখ পর্যটক। আর তাদের কাছ থেকে আয় করা যাবে কোটি টাকা।