ইবিতে কোটার শর্তও শিথিল!

প্রভাবশালী শিক্ষক কর্মকর্তাদের সন্তানদের সুযোগ দানের অভিযোগ

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৮, ০১:৩৩

এ আর রাশেদ, ইবি

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাপের মুখে অবশেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। কোটায় ভর্তিতে ভর্তি পরীক্ষার শর্ত শিথিল করে ৩২ নম্বরের পরিবর্তে ২৬.৪০ করা হয়েছে। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় প্রভাবশালী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এ শর্ত শিথিল করা হয়েছে বলে মনে করছে বিশ^বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল।
বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে গড়ে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩২ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু সেই শর্ত শিথিল করে সেখানে ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ ২৬.৪০ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 
এদিকে কোটায় ভর্তিতে শর্ত শিথিল করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। সারাদেশে যখন কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে সেখানে বিশ^বিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় থেকে সরে এসে কোটায় ভর্তির শর্ত শিথিল করাটাকে নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জৈষ্ঠ অধ্যাপক এ বিষয়ে বলেন, ‘শর্ত শিথিল করার প্রয়োজন থাকলে তা ভর্তি পরীক্ষার আগেই করা প্রয়োজন ছিলো। হঠাৎ করে পরীক্ষার পর এখন কেন শর্ত শিথিল করা হচ্ছে? আর যদি কারো সুবিধা দিতে শর্ত শিথিল করা হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি দাড়াবে পোষ্য কোটাদের পৌষ মাস আর মেধাবীদের সর্বনাস!’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ^বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু প্রভাবশালী শিক্ষক-কর্মকর্তারা কোটার শর্ত শিথিল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন শক্ত অবস্থানে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।’ 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির বড় একটি অংশের দাবির প্রেক্ষিতে ও দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোটার শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’