অবিশ্বাস্য বেলজিয়াম, জাপানের বিদায়

বেলজিয়াম ৩ : ২ জাপান

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৮, ০৮:২৯

অনলাইন ডেস্ক

প্রথমার্ধে ঠিকঠাক বোঝা যায়নি, ঠিক কী হতে চলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে যেন ভূত চেপে বসল রোস্টভ এরিনায়। বিরতির পর একটি নয় দুটি নয়, পাঁচ গোলের থ্রিলার দেখল ফুটবল দুনিয়া। রূপকথার আশা জাগিয়েও বেলজিয়ামের ছন্দ আর গতির কাছে থমকে গেল জাপানের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নটা। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও কান্নাভেজা চোখ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো এশিয়ার পরাশক্তি জাপানকে। শেষ মুহূর্তের গোলে কপাল পুড়ল নীল সামুরাইদের। কদিন ধরেই ফেভারিট দলগুলো শিকারে পরিণত হয়ে আসছে। রাশিয়ার রঙ্গমঞ্চ থেকে ছিটকে গেছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও স্পেনের মতো বড় দলগুলো। কাল শেষ ষোলোতে একই ভাগ্য বরণ করার আশঙ্কা জেগেছিল বেলজিয়ামের ক্ষেত্রেও। ৬৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বেলজিয়ানদের অসহায় আত্মসমর্পণও তো দেখছিল কেউ কেউ। কিন্তু জোড়া গোলে পিছিয়ে থাকার পরও ইউরোপিয়ান জায়ান্ট দলটি যেভাবে ফিরে এলো, সেটার বিশেষণ হতে পারে এক কথায় ‘অবিশ্বাস্য’। এ যেন হলিউড সিনেমার থ্রিলারকেও হার মানলো। রূপকথার এই প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল বেলজিয়াম। শুক্রবার সেমিফাইনালে ওঠার ম্যাচে ইউরোপের কালো ঘোড়াদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই জাপানকে কিছুটা চাপে রেখে খেলতে শুরু করে বেলজিয়াম। তবে সুযোগ বুঝে দু-একটা আক্রমণের ফণা তুলেছিল এশিয়ার প্রতিনিধি দলটিও। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দুই দল ব্যস্ত সময় কাটালেও কাক্সিক্ষত জালের ঠিকানা দুই দলের কেউ খুঁজে পায়নি।

বিরতির পর মাঠে ফেরার তৃতীয় মিনিটেই বাজিমাত জাপানের। গেঙ্কি হারাগুচির দুর্দান্ত এক গোলে গোটা বিশ্বকে চমকে দেয় এশিয়ার এই দলটি। এই গোলের উচ্ছ্বাসটা তখনো শেষ হয়নি রোস্টভ এরিনায়। এরই মধ্যে আবারও গোলের বাঁশি বাজাতে হলো রেফারিকে। এবার যেন সত্যিই সবকিছু অলৌকিক মনে হচ্ছিল। বেলজিয়ামের জালে দ্বিতীয়বার বল জড়িয়ে উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে জাপানিজরা।

পরপর দুই গোল হজম করে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যায় বেলজিয়াম। গোটা ফুটবল দুনিয়ার বিস্ময়ও আকাশ ছুঁয়ে ফেলে ৫২ মিনিটে। গোল করেন ইনুই। ২ গোলে এগিয়ে ম্যাচের লাগামটা পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিল জাপান। সেখান থেকে মধুর একটা প্রত্যাবর্তনেরই গল্প লিখল বেলজিয়াম; যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটা ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

৬৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে বেলজিয়াম। হতাশায় মুষরে পড়েনি ইউরোপের পরাশক্তি এই দেশটি। বরং ক্রমশই আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে বেলজিয়ানরা। এর মধ্যে ৬৫ মিনিটে মাঠে নেমে পুরো ম্যাচের ক্যানভাসের রং পাল্টাতে শুরু করেন মাওরিসিও ফেলাইনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা ফুটবলার বেঞ্চ ছেড়ে উঠে আসতেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট।

যেটার পরিণাম ৬৯ মিনিটে জাপানকে একটি গোল ফিরিয়ে দেন ভেরটঙ্ঘেন। দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমান তিনি। ৫ মিনিটের মধ্যে রাজসিকভাবে পুরোপুরি ম্যাচেও ফিরে আসে বেলজিয়ানরা। দুর্দান্ত এক হেডে ম্যাচে সমতা ফেরান ঝাঁকড়া চুলের এই তারকা ফুটবলার। থ্রিলার ম্যাচটার রোমাঞ্চ তখন রীতিমতো বৃহস্পতির তুঙ্গে উঠে গিয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষে ২-২ গোলের ড্র দেখছিলেন ফুটবল পণ্ডিতরা। ম্যাচ অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে গড়াবে সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দর্শকরা। কিন্তু শেষ বাঁশির কয়েক সেকেন্ড আগে পাশার দান উল্টো দেওয়া গোলটা করে বসলেন চাদলি। কর্নার কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া জাপান শিকার হলো পাল্টা আক্রমণের। ২৫ মিনিটের ব্যবধানে তৃতীয় গোল বেলজিয়ামের। আর তাতেই এ যাত্রায় বেঁচে গেল বেলজিয়ানরা। খাদের কিনারা থেকে ফিরে এলো ইউরোপের কালো ঘোড়ারা। এই বিশ্বকাপে তাদের ঘিরে কেন এত মাতামাতি, সেটা তারা বুঝিয়ে দিল শেষ আধঘণ্টায়। আর তাতেই জাপানের রূপকথা, আশা ও স্বপ্নের সমাধী ঘটে গেল। না হলে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারত জাপান।

পিডিএসও/হেলাল