ব্রাজিল জিতবে

যোগ্য দল হিসেবে জিতেছে ফ্রান্স-উরুগুয়ে

প্রকাশ | ০২ জুলাই ২০১৮, ১০:০৭

মামুনুল

শক্তিমত্তায় ব্রাজিল অবশ্যই মেক্সিকোর চেয়ে এগিয়ে। ব্রাজিল সব বিশ্বকাপেই খেলেছে। শিরোপা জিতেছে সর্বোচ্চ পাঁচবার। প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে না পারলেও পরের দুই ম্যাচে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দিনে দিনে তাদের খেলার উন্নতি হচ্ছে। নেইমারও ধীরে ধীরে তার ছন্দে ফিরে আসছে। দল হিসেবে তারা ভালো করছে। মেক্সিকোর জন্য ব্রাজিলকে হারানোটা অনেক কঠিন হবে। ইনজুরি থেকে দানিলো, মার্সেলো ফিরে আসছেন। তারা আরো শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামবে। তাছাড়া বড় ম্যাচ খেলার মতো অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ব্রাজিল দলে আছে। বড় বড় তারকা আছে। তাদের ফরোয়ার্ড লাইন বিশ্বের অন্যতম সেরা। মিডফিল্ড অন্যতম সেরা। রক্ষণভাগ সেরা। সব দিক দিয়েই ব্রাজিল এই ম্যাচে এগিয়ে থাকবে।

বেলজিয়াম যে দল তাতে তাদের বিপক্ষে জাপানেরও সুযোগ কম। বেলজিয়াম দলে লুকাকু আছে, হ্যাজার্ড আছে, কোম্পানি আছে। তারা ফাইনাল খেলার মতো দল। এবং তারা যদি শিরোপাও জিতে নেয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বেলজিয়াম টিমটা আসলে কমপ্লিট প্যাকেজ। অনেক শক্তিশালী। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষেও তারা জিতেছে। তবে নির্দিষ্ট দিনে জাপান যদি তাদের সেরাটা খেলতে পারে, যেমনটা কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলেছিল তাহলে হয়তো ভিন্ন কিছুও হতে পারে। অবশ্য শতাংশের হিসেবে সেটা খুবই সামান্য। ওভার কনফিডেন্ট বেলজিয়ামের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের বিদায় নেওয়াটা বাস্তবতা। আসলে ওয়ান ম্যান আর্মি দিয়ে দুই-একটা ম্যাচ ভালো খেলা যায়। বিশ্বকাপ জেতা যায় না। সব ম্যাচেই জয় পাওয়া যায় না। সেটাই হয়েছে। এক মেসি কিংবা রোনালদো কত দূর টেনে নিতে পারবেন। তাদের পক্ষে তো আর সব দিনই অতি মানবীয় কিছু করে দেখানো সম্ভব না।

ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ভুলের কারণে হেরেছে। ফ্রান্স আর্জেন্টিনার দুর্বলতার সুযোগ যখনই পেয়েছে সেটাকে কাজে লাগিয়েছে। তারা পাল্টা আক্রমণে একাধিক গোল করেছে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা অনেক ভুল করছে। সেটার জন্য তাদের ভুগতে হয়েছে। তাদের ভুলের কারণেই ফ্রান্স কিন্তু পাল্টা আক্রমণে গিয়ে গোল পেয়েছে। পাল্টা আক্রমণে রুখে দেওয়ার জন্য রক্ষণভাগে নিরাপত্তা থাকা দরকার। সবাই যদি ওপরে উঠে খেলে তাহলে তো আর নিরাপত্তা বুহ্য থাকে না।

প্রথম ভুলটা করেছে রোহো। সে যদি এমবাপেকে ওখানে বাধা না দিত তাহলে এমবাপে গোল করতে পারত না। ওখান থেকে শট নিলে কোনোভাবেই গোল হতো না। বল বাইরে চলে যেত। দ্বিতীয় গোলটি ছিল ফ্রান্সের জন্য ম্যাচে ফেরার টার্নিং পয়েন্ট। এরপর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ভুলের কারণে দুইটি গোল পেয়েছে ফ্রান্স। যোগ্য দল হিসেবেই ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। তারা অনেক দূর যাওয়ার মতো দল।

পর্তুগালকে মূলত কাভানি ও সুয়ারেজ হারিয়ে দিয়েছে। তারা দুইজন দুর্দান্ত খেলেছে। কাভানি জোড়া গোল করল। কাভানি ও সুয়ারেজ পর্তুগালের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে। প্রথম ম্যাচ থেকেই তারা দুইজন দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। খুবই শক্তিশালী ফরোয়ার্ড লাইন। তাদের দুইজন স্টপারও অসাধারণ। অবশ্য এই ম্যাচে রোনালদো বেশ ম্যাচিউর আচরণ করেছে। বয়স হয়েছে। অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ হয়েছে। হারটা সে সহজেই মেনে নিয়েছে। উরুগুয়েও যোগ্য দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল