হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-বেলজিয়াম

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৮, ০৯:৫৩

আমির হোসেন

রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেভারিট দলগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে আছে বেলজিয়াম। খুব পেছনে রাখা যাবে না ইংল্যান্ডকেও। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বেলজিয়াম অবস্থান করছে তিনে। আর ইংল্যান্ড দ্বাদশে। র‌্যাঙ্কিং বাদ দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সে চোখ বুলানো যাক। বেলজিয়াম তাদের প্রথম ম্যাচে পানামার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে। ইংল্যান্ড কষ্টেশিষ্টে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে। পরের ম্যাচে উভয় দলের পারফরম্যান্সে আসে বিস্ময়কর পরিবর্তন। বেলজিয়াম ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেয় তিউনিশিয়াকে। আর ইংল্যান্ড হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে ৬-১ গোলের বন্যায় ভাসায় নবাগত পানামাকে। তাতে উভয় দলেরই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়। দুই পর্বের খেলা শেষে বেলজিয়ামের পয়েন্ট ৬। ইংল্যান্ডেরও ৬। গোল ব্যবধান বেলজিয়ামের ৬। ইংল্যান্ডেরও তাই। প্রতিপক্ষের জালে দুই ম্যাচে বেলজিয়াম ৮ বার বল জড়িয়েছে, ইংল্যান্ড ৮ গোল দিয়েছে দুই প্রতিপক্ষকে। বেলজিয়াম ২ গোল হজম করেছে। ইংল্যান্ডও হজম করেছে সমান ২ গোল।

তাহলে ‘জি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কে হবে? সেটা নির্ধারণকল্পে আজ মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ড। দুই দলেই রয়েছে তারকার ছড়াছড়ি। উভয় দলের খেলোয়াড়ই রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে। গোলের স্রোতধারা বইয়ে দিচ্ছেন তারা। তাই এই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মর্যাদা পাচ্ছে হাইভোল্টেজ ম্যাচের। এই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করছে কে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, আর কে হবে রানার্সআপ। যে জিতবে সে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু ড্র হলে? সেক্ষেত্রে ফেয়ার প্লেয়ের ওপর নির্ভর করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হবে। যারা কম হলুদ কার্ড দেখেছে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। আগের দুই ম্যাচ মিলিয়ে ইংল্যান্ড একটি বেশি হলুদ কার্ড দেখেছে বেলজিয়ামের চেয়ে।

বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের লড়াই ছাপিয়ে এই ম্যাচে লড়াই হবে রোমেলু লুকাকু ও হ্যারি কেনের মধ্যে। পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে কেন গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে শীর্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দুই ম্যাচেই তিনি করেছেন ৫ গোল। দুই ম্যাচের দুইটিতেই জোড়া গোল করে ৪ গোল নিয়ে কেনের পেছনেই আছেন রোমেলু লুকাকু। তাদের দুইজনের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকবে ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু আজ তারা দুইজন মাঠে নামবেন তো? আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ায় উভয় দল তাদের একাদশে পরিবর্তন আনবে। সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম তাদের সেরা দুই খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেয় কিনা দেখার বিষয়। মঙ্গলবার অবশ্য দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি লুকাকু।

আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হলেও জয়ের জন্যই মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। যেমনটা বলেছেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড, ‘আসলে এটা একটা মোমেন্টাম। আমরা সেটা ধরে রাখতে চাই। প্রতিটি ম্যাচ জেতার মানসিকতা নিয়েই আমরা মাঠে নামব। আমরা জয়ের ধারায় থাকতে চাই। সেটা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে। আমরা কার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি সেটা নিয়ে ভাবছি না। কারণ বিশ্বকাপে খেলতে আসলে এমন বড় বড় দলের বিপক্ষেই খেলতে হবে।’

বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার মারোয়ানে ফেলিয়ানি জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের খেলার ধরন সম্পর্কে তারা অবগত। তিনি ও লুকাকু খেলছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ভিনসেন্ট কোম্পানি খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। আশা করছেন দারুণ একটি ম্যাচ হবে। ফেলিয়ানি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ডে খেলছি। প্রিমিয়ার লিগ সম্পর্কে আমার জানা শোনা অনেক। আমি মনে করি দারুণ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ভিনসেন্ট কোম্পানি ও আমার পর বেলজিয়ামের অনেক খেলোয়াড়ই ইংল্যান্ডে খেলছে। আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। আমরা যে অল্প কয়জন বেলজিয়ান ইংল্যান্ডে খেলছি তারা প্রতেক্যেই তাদের নিজ নিজ নামে সুপরিচিত।’

ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের অতীত পরিসংখ্যান কী বলছে? এর আগে বিশ্বকাপে দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল দল দুইটি। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এখনো ইংল্যান্ড অপরাজিত। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তারা ৪-৪ গোলে ড্র করেছিল। আর ১৯৯০ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল । তাদের অজেয় থাকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে হ্যারি কেন-রাশফোর্ডরা?

সব মিলিয়ে রেকর্ড কথা বলছে ইংল্যান্ডের পক্ষেই। সব মিলিয়ে আগের ২১ বারের দেখায় বেলজিয়াম জয় পেয়েছে মাত্র ১ বার। ড্র করেছে ৫ বার। হেরেছে ১৫ বার! এবার লুকাকু-ফেলিয়ানি-কোম্পানিরা পারবে কী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন চিত্রনাট্য রচনা করতে?

পিডিএসও/হেলাল