নতুন ইতিহাস হতে পারে বাংলাদেশও

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯, ১০:৪০

আরিফ সোহেল

বিশ্বকাপের রানের চলমান মসৃণযাত্রা এভাবে থমকে যাবে ভাবা যায়নি। রানের রাজ্য এখন রানের খরায় মজে উঠছে। এতটা লো স্কোরিং ম্যাচের চিন্তা ৩ ম্যাচ আগেও করা যায়নি। ৩০০ প্লাস রানের সীমানায়; এখন ২০০ প্লাস রান অ্যাটাকই যথেষ্ট। রানে হাসি ছলছল আঙিনায় রানকাতর পরিবেশেই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ‘ছোট’ আফগানিস্তান। এই ছোটরাই কিন্তু মহাবড় ভারতের বিপক্ষে রূপকথা রচনা করতে যাচ্ছিল। বিশ্বকাপে হঠাৎ সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ সামি হ্যাটট্রিক না করলে নতুন গল্পের শিরোনাম হতো আফগানিস্তান। হঠাৎ তেজিয়ান আফগানে তাই ক্ষাণিকটা ভয় থাকছেই। বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচ সাউদাম্পটনের লম্বা-চওড়া মাঠে। শ্রীলঙ্কার এক জয়ে বিশ্বকাপে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পরশু লো স্কোরিং ম্যাচে আফগান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়েছে; তাতে মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপ এবারও ভক্তদের জন্য বিশেষ কিছু তুলে রাখছে। যেখানে বাংলাদেশও হতে পারে আরেকটি নতুন ইতিহাস।

সাউদাম্পটনের রোজ বোলে আফগানদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশকে জানতে হচ্ছে আবাহওয়ার খবরও। না, আজ তেমন কোনো বিপদ খবর নেই প্রকৃতির। বড় মাঠে ফিল্ডারদের ফিটনেসও বড় কথা। স্পিন সহায়ক এই পিচে আফগান স্পিনাররা যদি পারেন; সেখানে আমাদের সাকিব-মিরাজ-মোসাদ্দেক অস্ত্র কিন্তু খুব কাজে আসবে।

বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ৬টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে সাকিব-মাশরাফিরা। বাকি ৩টি ম্যাচ। সেমিফাইনালের শেষস্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই ৩ ম্যাচেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। আজকের পর ২ ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষ ভারত ও পাকিস্তান। ৩ ম্যাচ শুধু জিতলেই চলবে না—রয়েছে আরো নানা পরনির্ভর সমীকরণ। নির্ভর করতে হবে অমুকের জয়, তমুকের পরাজয়ের ওপরও।

আফগানিস্তানের বোলিংয়ের মূল শক্তি স্পিন। তাদের রয়েছে অন্যতম বিশ্বসেরা স্পিনার রশিদ। হুটহাট ব্যাট চালাতে পারেন—এমন ক্রিকেটাদের সংখ্যা নেহাত কম নেই দলে। ভারতের বিপক্ষে কিন্তু খুব কাছাকাছি এসে বিপদের আভাস দিয়েছিলেন লোয়ারের ব্যাটাররা। চাইলেও এই ম্যাচে এসব দুশ্চিন্তা এড়াতে পারছেন না বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্নে একটু হলেও রং পেয়েছে। ম্যাড়মেড়ে বিশ্বকাপ জমিয়ে তুলতে এমন কয়েকটি ম্যাচের ভীষণ দরকার ছিল। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে শ্রীলঙ্কা শুধু বিশ্বকাপে প্রাণই ফেরায়নি, জমিয়ে দিয়েছে সেমিফাইনালের সমীকরণও। যে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফেভারিট, তারাও সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে যেতে পারে! তাদের ৩ ম্যাচের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর থেকে এই তিন দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কখনো জেতেনি ইংল্যান্ড। ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপে, আর নিউজিল্যান্ডকে শেষবার হারিয়েছিল ১৯৮৭ বিশ্বকাপে। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে হবে এই ইংল্যান্ড বেজায় শক্তিশালী। ইংল্যান্ড ৩ ম্যাচ হারলেই কেবল সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের এখন ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট। বাংলাদেশের ৬ ম্যাচে পয়েন্ট আপাতত ৫। বাংলাদেশ ৩ ম্যাচেই জিতলে পয়েন্ট হবে ১১। তবে এর ব্যত্যয় হলে বাংলাদেশ বাদ। আবার ৬ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট পাওয়া শ্রীলঙ্কা যদি ২ ম্যাচ জিতে যায়, তাদের পয়েন্ট হবে ১০। ৩ ম্যাচ জিতলে সেখানে ঘটতে পারে অন্য ঘটনা।

সাউদাম্পটনে বাংলাদেশ আজকের ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবেই আফগানিস্তানকে পাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো প্রতিরোধ দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বহুগুণ। বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। এই মাঠের স্লো উইকেটে ভারতের ব্যাটসম্যানরই কিন্তু মুজিব-রশিদ-নবীদের সমীহ করে খেলেছে। বাংলাদেশকেও সেই পথেই হাঁটতে হবে। স্পিনিং ট্র্যাকে বল থেমে থেমে আসবে। যেখানে স্পিনারদের খেলা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সঙ্গে বোলাররা যদি টার্নার হন; তাহলে আরো বিপদ। অবশ্য খুশির খবর হচ্ছে স্পিনে বাংলাদেশের টপ অর্ডার দুর্দান্ত। দুরন্ত মিডল অর্ডারও। সবচেয়ে বড় কথা আজ ব্যাটারদের সোজা ব্যাটে খেলতে হবে। ক্রস ব্যাট চালালেই বিপদ। রানের জন্য সুযোগ বুঝে ব্যাট চালাতে হবে। সহজ কথায়, স্পিনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সহজাত সামর্থ্যে সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

৬ খেলায় ২টি জয়, ৩টি হার ও ১টি পরিত্যক্ত ম্যাচ মিলিয়ে বাংলাদেশের ৫ পয়েন্ট। রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে। সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য কিছুটা কঠিনই হয়ে গেছে টাইগারদের জন্য। কারণ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা প্রথম চার দল সেমিফাইনালে পথে অনেকাংশে এগিয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারতের জন্য সেমিফাইনাল কঠিন নাও হতে পারে। তবে পুরোনো গল্প-ইতিহাস কথা বলছে ইংল্যান্ডের বিপদের কথা। তাদের ৩ ম্যাচ বাকি বড় দলগুলোর সঙ্গে। সেখানে বিশ্বকাপ তথ্য দিচ্ছে ওইসব দলের বিপক্ষে তাদের জয় নেই। ফলে টপ ফেভারিট ইংল্যান্ডকে সরিয়েই বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা সফল হবে। যেখানে ভাগ্যকেই প্রথম আরোধ্য বিবেচনা করতে হচ্ছে। কারণ ইতিহাস যাই থাকুক; এই ইংল্যান্ড অন্যমাত্রার ইংল্যান্ড।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছে না বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭টি ম্যাচে ৪টিতে জয় বাংলাদেশের। এর সঙ্গে কিন্তু ৩টিতে হারও যুক্ত। অবশ্য সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানদের ৩ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আর বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০১৫ সালে ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

পিডিএসও/হেলাল