সুখস্মৃতির কার্ডিফে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ১১:৩০ | আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ১৩:২৪

আরিফ সোহেল

একদিকে টপ ফেভারিট ইংল্যান্ড। অন্যদিকে বিশ্বকাপ সমীকরণে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের ৩ ম্যাচে সম্মুখ লড়াইয়ে বাংলাদেশ ২। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ১।

২০১৯ বিশ্বকাপ মঞ্চেও সমপর্যায়ে দুই। দুই ম্যাচ এক জয়ের বিপরীতে পরাজয়ও একটি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রলম্বিত অভিযাত্রায় আজ সুখস্মৃতি আবহে কার্ডিফে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তবে একটি শঙ্কা বড় হয়ে উঁকি দিচ্ছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে। দুই দলই ফিরতে চাইবে জয়ের ধারায়।

ইংল্যান্ডের কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনের মাঠটি বড় পয়া বাংলাদেশের জন্য। এই মাঠে আছে বাংলাদেশের ২০০৫ সালে। অস্ট্রেলিয়াকে এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে নাকাল করেছিল।

অবশ্য দলীয় অবস্থান; র‌্যাঙ্কিং সব সমীকরণই ইংল্যান্ডের পক্ষে, কিন্তু সেগুলো বাংলাদেশের দিনে এক ফুৎকায় উড়ে যেতে পারে। টিম বাংলাদেশের প্রাণপুরুষ মাশরাফিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটু এলেবেলে মনে হয়েছে। ঠিকঠাক ফিল্ডিং হয়নি। ক্যাচগুলো বারবার হাতের নাগালের একটু বাইরে পড়ছিল, মাশরাফি বোলিংয়েও পথ দেখাতে পারেনি। রানআউটের সুযোগ মিস হয়েছে। ফলে দুরন্ত বাংলাদেশের ছন্দ পতন হয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচেই। তবে তৃতীয় ম্যাচে আবার সেই বাংলাদেশকে দেখা যাবে— এমনটাই বলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি।

নিউজিল্যান্ডের কাছে স্নায়ু-উত্তেজক ম্যাচে হেরে গতকাল অনুশীলন সেশনে মাশরাফি বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ পর্যন্ত আমাদের নাগালেই ছিল। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। তবে আমাদের এখনো সামনে ৭ ম্যাচ আছে। আশা করছি আমরা কামব্যাক করতে পারব।’

ইংলিশ হলেও পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কোচ স্টিভ রোডস বলেছেন, বাংলাদেশ এখন হারাতে শিখেছে। তবে মাশরাফিদের জন্য কাজটা হয়তো এতটা সহজ নয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের রেকর্ডটা সেই ২০০৭ সালের। বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে বাংলাদেশ হেরেছিল ৪ উইকেটে। কিন্তু ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে শফিউল-মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত করেছিল। ২০১৫ সালে অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের কাছে হেরে তো বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিয়েছিল ইংলিশরা।

বাংলাদেশের ক্রিকেট যে গতিতে চলছে তাতে ক্রমাগতই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশকে এখন আর বৃষ্টি-আম্পায়ার-কিংবা নেপথ্যের কোনো শক্তির দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। বাংলাদেশ এখন পারে; গনায়ও ধরতে হয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে। বিশ্বকাপ জয়ের পথচলা শুরু বাংলাদেশের। বাড়ছে অভিজ্ঞতা। পরিণত হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। সাকিব-তামিম-মাশরাফি-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে চোখ রঙিন করছেন সৌম্য-লিটন-মোসাদ্দেক-মিরাজ-মোস্তাফিজ-সাইফুদ্দিনরা। বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে নিয়ে সম্ভাবনার আলোর বাতিঘর দেখছেন অনেকেই।

তবে চার বছর আগের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে ইচ্ছে হচ্ছে। ক্যানভাসে ভেসে উঠছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ জয়ের সেই সুখস্মৃতি। কার্ডিফে নামার আগে মিডিয়া কিন্তু ঠিকই উসকে দিচ্ছে পুরোনো ইতিহাস। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে টানা ২ ম্যাচে হারানো বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষের ট্যাগও লাগিয়ে দিয়েছে। হেরেছে সেই ২০০৭ সালে। কার্ডিফে আজ জয়ের হ্যাটট্রিক গড়ার স্বপ্নও কিন্তু অমূলক নয়।

পিডিএসও/তাজ