হারের হতাশায় শুরু টাইগারদের

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১২ | আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:২১

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২২ গজ মন্থর ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু অমন উইকেটেও ১৪১ রান নিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। বাংলাদেশ জিততে পারেওনি। স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটের হারে বহুল আলোচিত ও উৎকণ্ঠার সফর শুরু করেছে টাইগাররা।

কাল পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের সময়ও গাদ্দাফির উইকেটে কোনো বদল আসেনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা শোয়েব মালিক দেখিয়ে দিলেন এমন পিচে কেমন করে ব্যাটিং করতে হয়। ৪৫ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করে পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

জয়ের জন্য মাত্র ১৪২ রান তাড়ায় নামা পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের চেয়েও বাজে হয়েছিল। পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রানে হারায় তারা দুই উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক বাবর আজম আউট! রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি তিনি। দলের আরেক সিনিয়র মোহাম্মদ হাফিজ ৩ বাউন্ডারিতে ১৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন।

শুরুর ১০ ওভারেও পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা ঠিক তেড়েফুঁড়ে ব্যাট চালাননি। লক্ষ্য আয়ত্তের মধ্যে দেখে নিরাপদ ভঙ্গির ব্যাটিংয়ের দিকেই মনোযোগ দেন তারা। এর মাঝেই অভিষিক্ত ওপেনার আহসান আলি ৩২ বলে ৩৬ রান করেন।

১২ ওভারে ৮১ রানে ৩ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে জয়ের পথ দেখায় শোয়েব মালিক ও ইফতিখার আহমেদের জুটি। বেশি বল নষ্ট না করে এই জুটিতে পাকিস্তান যোগ করে ৩৬ রান। এমন উইকেটে সাফল্য পেতে হলে ঠিক কোথায় বল ফেলতে হবে, সেই জায়গাটাই খুঁজে পায়নি বাংলাদেশের বোলাররা। উইকেট টু উইকেট বল না করে আশপাশে বল রেখেছে বেশি। সঙ্গে দেশি ফিল্ডারদের বাজে ফিল্ডিং তো ছিলই। ফলে রান তুলতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের কিছুটা সমস্যা হলেও উইকেট বাঁচিয়ে রাখতে বাড়তি তেমন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে হয়নি তাদের।

১৪১ রান তাড়া করতে পাকিস্তানকে ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও ৫ উইকেটের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শফিউল ইসলাম সবচেয়ে সফল। ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। আল-আমিন একটিমাত্র উইকেট পেলেও ছিলেন ভীষণ কৃপণ। তবে রান খরচায় বেহিসেবি ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ৪০ রানে ১ উইকেটÑ দলের স্ট্রাইক বোলারের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স কোচের চিন্তা বাড়ানোরই কথা।

ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। প্রথম বলে শোয়েব মালিক নেন ২ রান। দ্বিতীয় বলে ১ রান। তবে এক্সট্রা কাভার থেকে সরাসরি থ্রোটা ঠিক হলে নিশ্চিত রানআউট হতেন শোয়েব মালিক। থ্রো হয়েছে, কিন্তু সেটা স্টাম্প মিস করেছে। তৃতীয় বলে মোহাম্মদ রিজওয়ান সুইপ খেলেছেন। মিড উইকেটে ক্যাচ উঠেছিল। সহজ সেই ক্যাচ হাতে নিয়েও রাখতে পারেননি মিঠুন আলি। এরই ফাঁকে দুবার জায়গা অদল-বদল করেন রিজওয়ান ও শোয়েব। সেই জোড়া রানেই ৫ উইকেটের জয় পাকিস্তানের।

একই মাঠে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে উভয় দল। আজ হারলেই এক ম্যাচ বাকি রেখে সিরিজ খোয়াবে বাংলাদেশ।

পিডিএসও/তাজ