ভারতবধের মিশন

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ১০:৪৫ | আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ১১:১৬

রিহাব মাহমুদ

বিশ্বকাপে ওল্ড ট্রাফোর্ডে রোববার মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্ধী ভারত ও পাকিস্তান। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। পরিসংখ্যান যাই হোক আজ জিতবে পাকিস্তান। ভারতবধ করবে সরফরাজবাহিনী। কথাটা ভারত সমর্থকদের শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে। কিন্তু পাকিস্তান দলের সঙ্গে আনপ্রেডিকটেবল শব্দটা বহু আগে থেকেই জুড়ে আছে। যার আঁচ কিছুটা হলেও ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচে দেখা গিয়েছিলো। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের আগে ও পরের ম্যাচের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে ভারতকে এগিয়ে রাখতে চাইবে সমর্থকরা। অন্যদিকে টানা হারের স্বাদ নিতে নিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ৪টি ম্যাচের মধ্যে একটিতে মাত্র জয় পেয়েছে পাকিস্তান। সেই জয়টাও ছিলো কঠিন। এবারের বিশ্বকাপের টপ ফেবারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জিততে গিয়েও হেরে গেলো। এই ম্যাচে পাকিস্তানের অনেক ভুল ছিলো যা পরে আলোচনা করছি। অন্যদিকে ৩ ম্যাচের মধ্যে ২টিতে জয় ও একটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিঃসন্দেহে ভালো অবস্থানে বিরাট কোহলির ভারত। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ট্রফির দাবিদারও বলা হচ্ছে টিম ভারতকে। পয়েন্ট টেবিলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের অবস্থান চতুর্থ। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান অষ্টম। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৩০ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের জয় ৫৩টি। পাকিস্তান জিতেছে ৭৩টিতে। ৪টি ম্যাচ হয় পরিত্যক্ত।

চিরপ্রতিদ্বন্ধী ভারত-পাকিস্তানের খেলা মানেই ক্রিকেট প্রেমীদের মনে উন্মাদনা। কেননা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর উত্তাপ ছড়িয়ে পরে দেশ থেকে দেশান্তরে। এই উত্তেজনা যুদ্ধের মাঠের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। ১৪ ফ্রেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘সিআরপিএফ’ এর ওপর হামলার পর সারা ভারতজুড়ে রব উঠেছিলো বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ বাতিলের। কিন্তু ম্যাচ বাতিল হলে ক্ষতি হতো ভারতের। পূর্ণ পয়েন্ট পাবে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আইসিসি ম্যাচ বাতিল করেনি। এই ম্যাচকে ঘিরে দর্শক, সমর্থক, ক্রিকেটবোদ্ধা সর্ব মহলে আলোচনা-সমালোচনা। ম্যাচ জিতবে কে?

ব্লকবাস্টার মহারণ ঘিরে উত্তাপ সর্বত্র। এই উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বিতর্কও শুরু হয়েছে। ম্যাচের আগে পরিবার, স্ত্রী-সঙ্গ ইস্যুতে বিতর্ক পাকিস্তান শিবিরে। সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ভারতবধের স্বপ্ন দেখছে তারা।

এবার স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে থাকার অনুমতি পেয়েছে পাক ক্রিকেটারেরা। তাই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) তুলোধুনা করলেন সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ। হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে পিসিবির নির্দেশিকায় ক্ষিপ্ত তিনি। নিজের খেলোয়াড়ী অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে ইউসুফ বলেন, ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭- তিন বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলাম। তবে পিসিবি কখনই আমাদের টুর্নামেন্ট চলাকালীন পরিবার সঙ্গে রাখার অনুমতি দেয়নি। ‘৯৯  স্কোয়াডে অনেক বড় বড় নাম ছিল। ইচ্ছা করলে একই হোটেলে স্ত্রীদের নিয়ে থাকতে বোর্ডের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। কারণ, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ফোকাসটা কেবল ক্রিকেটেই থাকা উচিত।

ইউসুফ যে একেবারে অযৌক্তিক কথা বলেছেন, তা কিন্তু নয়। বিশ্বকাপের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অবশ্যই খেলায় মনোনিবেশ থাকা জরুরি। পিসিবি পরিবার সঙ্গে থাকার অনুমতি কিভাবে দেয় তা নিয়ে সমালোচানা হওয়াটা স্বাভাবিক। অন্যদিকে ভারতীয় খেলোয়াড়দের ওপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ছিলো। এটাও জানা গিয়েছিলো ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের পর থেকে বিরাট কোহলিরা তাদের স্ত্রীদের পাশে পাবেন। এর আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কড়া নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বিরাট কোহলীরা। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে ধোনীর স্ত্রী সাক্ষীকে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা যাওয়ায় তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। 

আসা যাক খেলা প্রসঙ্গে। বিশ্বকাপে এসে যে খেলা পাকিস্তান শুরু করেছে তাতে করে ভারতকে হারানো তো দূরের কথা বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ারই সম্ভাবনা। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচে পাকিস্তানের ফিল্ডিং ছিলো খুবই বাজে। যা নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরামও কড়া সমালোচনা করেছেন। 

ওয়াসিম আকরাম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচে অনেক ভুল করেছে পাকিস্তান। টনটনের পিচটা ভালো করে বুঝতেই পারেনি তারা। একটু ঘাসের আস্তরণ দেখে তারা বোধ হয় ভেবেছিল, পেসারদের জন্য সহায়ক হবে এটি। শাদাব খানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধন্তটি ছিল বড় রকমের ভুল। যেটা সাধারণত দেখা যায় না। এটা অনেকটা সেরা ফর্মে থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া দল থেকে শেন ওয়ার্ন বা পাকিস্তান থেকে সাকলায়েন মুশতাক বা মোশতাক আহমেদকে বাদ দেওয়ার মতো ব্যাপার। আমাদের ফিল্ডিং ছিল যাচ্ছেতাই। বারবার এ ধরনের ফিল্ডিং দেখাটা হতাশাজনক। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দেও দেখে মনে হয়েছে তাদের শরীর যেন চলছেই না। শুধু আমির ছিল বলেই অস্ট্রেলিয়াকে বেঁধে রাখতে পেরেছিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপের আগে আমি অনেকবার বলেছি, আমিরকে দলে রাখতেই হবে। ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ তারা কথা শুনেছে। এখন বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানকে প্রথাগত খেলা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এখন সবক'টি ম্যাচ জেতা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগই নেই। ভারতের সঙ্গে জিততে হলে এই ম্যাচে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে সরফরাজদের।

ওয়াসিম আকরাম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তার মতামতটাও পিসিবির আমলে নেয়া উচিত। তবে পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ আগেই জানিয়েছেন ভারতের সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে কোনও চাপ নেই। ভারতীয় খেলোয়াড়রাও জয়ের জন্যে মরিয়া হয়ে থাকবে না এটাও কম বিশ্বাসযোগ্য। বিরাট কোহলির সামনে বিশ্বরেকর্ডের হাতছানি। ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার জন্য মাত্র ৫৭ রান পিছিয়ে তিনি। কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যাবেন কোহলি। এদিকে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির এখন পর্যন্ত ১০ উইকেট নিয়ে সেরা বোলারের অবস্থান ধরে রেখেছেন। গত ম্যাচে আমিরের যে বোলিং তোপ দেখা গেছে পরের ম্যাচে তা তাণ্ডব আকারে ধারণ না করলে কোহলিদের আটকানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ভারতবধ করতে হলে শুধু আমির নয়, বাবর আজম, ইমাম উল হক কিংবা শোয়েব মালিক কাউকে না কাউকে জ্বলে উঠতে হবে। 

পিডিএসও/হেলাল