আজ শিরোপার লড়াই

প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাকি ফাইনাল দুর্ভাগ্য?

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ১২:১৬

সাহিদ রহমান অরিন

প্রশ্নটা করতে না চাইলেও বারবার ঘুরে-ফিরে আসে। অনেক তো হলো, আর কত? আর কতবার হতাশায় ডুবতে হবে ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশিদের? বলা হচ্ছিল, টাইগারদের ‘ফাইনাল দুর্ভাগ্যের’ কথা। সাকিব-তামিমদের ফাইনাল উপলক্ষ মানেই যে হৃদয় ভাঙার একেকটি নতুন গল্প। গেল এক দশকে ৬টি ট্রফি জেতার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় চোখের জলে লেখা হয়েছে কষ্টের উপাখ্যান।

শুরুটা ২০০৯ সালে, মিরপুরে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটের হার দিয়ে। মাত্র ১৫৩ রান ডিফেন্ড করতে নেমে নাজমুল হোসেনের তোপে ৬ রানেই ইনিংসের অর্ধেক খুইয়ে বসে লঙ্কানরা। বাংলাদেশ তখন চালকের আসনে। সেখান থেকে দলকে একাই টেনে তোলেন কুমার সাঙ্গাকারা। পরে পারভেজ মাহরুফকে সঙ্গে নিয়ে ১৩ কোটি বাংলাদেশির (তৎকালীন জনসংখ্যা) হৃদয় ভাঙার কাজটা সারেন সেদিনের ‘হার্ডহিটার’ মুত্তিয়া মুরালিধরন।

এরপরের গল্পটা তো আরো হৃদয়বিদারক। ২০১২ সালে মিরপুরে এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের হার। তীরে এসে তরী ডোবানোর আক্ষেপ আর সাকিব-তামিম-মুশফিকদের শিশুসুলভ কান্নার সেই দৃশ্য স্মৃতির আয়নায় আজও ভেসে ওঠে। হতাশাগ্রস্ত ফাইনালের গল্প রয়েছে আরো। গত বছরেই যেমন তিন দফা ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাশরাফি-তামিম-মাহমুদউল্লাহদের। কলম্বোয় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বলে দিনেশ কার্তিকের ছক্কা কিংবা মরুনগরী দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের কাছে শেষ বলে আত্মসমর্পণের দুঃসহ স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে টাইগার ভক্তরা।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন রোমন্থন করলেন বেদনার সেসব স্মৃতি। পরে শোনালেন আশার কথাও। তার মতে, ব্যাট-বলের স্কিল দিয়ে দুর্ভাগ্যের শিকে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ছিঁড়বে বাংলাদেশ। প্রথমবার জিতবে কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা। ‘ফাইনাল হারাটা সব সময়ই কষ্টের, কাছাকাছি গিয়ে হারাটা আরো কষ্টের। আগে যেসব ফাইনাল হেরেছি, সেখানে আন্ডারডগ ছিলাম। এবার মনে হচ্ছে আমরা ফেভারিট। আশা করি স্কিলের মাধ্যমে আমরা এবার ভাগ্যকে জয় করতে পারব।’

তিন জাতির সিরিজে সত্যিই দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। দাপুটে জয় এসেছে তিন ম্যাচেই। ডাবলিনের মালাহাইডে শুক্রবারের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলে পেছনের সব শিরোপা হাতছাড়ার দুঃখ হয়তো ঘুচে যাবে না, তবে বাংলাদেশ নাম লেখাবে নতুন অধ্যায়েই। ‘লাকি সেভেন’-এ সুযোগ আর হাতছাড়া করবে না বলেই বিশ্বাস সকলের।

বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে যাকেই একাদশে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, মেলে ধরছেন নিজেকে। গেল ম্যাচে সুযোগ পেয়েই লিটন দাস এসেই খেলে দেন ৭৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। একই ম্যাচে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা রাহি তুলে নেন ৫ উইকেট। পুরো দল ছন্দে থাকায় ফাইনালের একাদশ নিয়ে টাইগারভক্তদের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। ফাইনালে তামিমের সঙ্গী সৌম্য, না লিটন? মুস্তাফিজ একাদশে ফিরলে রুবেল থাকবেন তো?

আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সময় কোমরে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন প্রাণভোমরা সাকিব। শিরোপার লড়াইয়ে তার থাকা, না থাকাটা নিজের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এবার কি তা হলে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে বাংলাদেশ, নাকি আগের ভুলগুলো শুধরে ফের টাইগারদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের উপাখ্যান লিখবে ক্যারিবীয়রা? আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।

পিডিএসও/হেলাল