রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রংপুরকে হারালো ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৫

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

হাই ভোল্টেজ ম্যাচ তাই গ্যালারি ছিলো দর্শক পরিপূর্ণ। শুক্রবারের প্রথম ম্যাচটি দেখতে আসা দর্শক হতাশ হয়নি। তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ম্যাচে চার-ছক্কার বৃষ্টি। রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। অবশেষে জয় ঢাকা ডায়নামাইটসের। শুরুতেই রংপুরের বাঁহাতি ওপেনার ক্রিস গেইলকে দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতেছিল ঢাকা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রিলে রুশোর ঝোড়ো ইনিংসে ঢাকার উল্লাস টিকেনি বেশিক্ষণ। অবিশ্বাস্য এ ম্যাচে শুরুর মতো শেষেও হাসেন ঢাকার খেলোয়াড়রাই। একের পর এক উইকেট নিয়ে রংপুরকে জয় থেকে বঞ্চিত করেন। ২  রানে জিতে মাঠ ছাড়ে ঢাকা ডায়নামাইটস। 

তবে শুরুর দিকে ঢাকার দেওয়া ১৮৪ রানের টার্গেটকে মামুলি মনে হলেও শেষ দিকে অচেনা তরূণ অ্যালিস ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মনে হয় পাহাড়সম রান। রুশোর দানবীয় ব্যাটিং, সঙ্গে মোহাম্মদ মিথুনের দুরন্ত ইনিংস। এসব কিছুর মিশেলেই জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল রংপুর। রুশো-মিথুনের ক্যাচ ফেলে  দিয়ে খল নায়কে পরিণত হওয়া অ্যালিসই শেষ পর্যন্ত ঢাকার জয়ের নায়ক। 

রুশোর ব্যাট থেকে আসে ৮৩ রান। মাত্র ৪৩ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছয়ের মারে ৮৩ রান করেন তিনি ।  মোহাম্মদ মিথুনেরও অবদান কম নয়। তিনি ৩৫ বলে ৪৯ রান করে । ক্রিস গেইলের দিকে সকলে পাখির চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকলেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে পোলার্ডের যে দুর্দান্ত ক্যাচে গেইল আউট হয়েছেন সেটার জন্য তিনি ভাগ্যকে গাল-মন্দও করতে পারেন। এটা যে ছিল নিশ্চিত ছয়! 

শুক্রবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করে ঢাকা ডায়নামাইটস। টসে জিতে ঢাকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। 

দুই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড-আন্দ্রে রাসেলের তাণ্ডবে বিশাল সংগ্রহ করে সাকিবের ঢাকা। মাঝে সাকিবও খেলেন ধীরগতির কিন্তু কার্যকরী এক ইনিংস। পোলার্ড মাত্র ২৬ বলে ৬২ রান করেন। তারমধ্যে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছয়ের মার। আন্দ্রে রাসেলের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ২৩ রান। দুই ক্যারিবীয়র ব্যাটেই মূলত দুইশর কাছাকাছি যেতে পারে ঢাকা। 

তবে সাকিবও খেলেন কার্যকরী ইনিংস। যদিও টি-টোয়েন্টি মানসম্মত না। ৩৭ বলে ৪টি চারের মারে ৩৬ রান আসে ঢাকার অধিনায়কের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া রনি তালুকদার ১৮ রান করেন। আগের দুই ম্যাচে ঝড় তোলা হজরতুল্লাহ জাজাই ব্যর্থ ছিলেন এ ম্যাচে। মাত্র ১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন শফিউল ইসলাম। এ ছাড়া সোহাগ গাজী ও বিনি হাওয়েল নেন দুই উইকেট করে।

এমন বিপিএল'ই তো চান সকলে। চার ছক্কার ঝনঝনানি আর গ্যালারি ভরা দর্শক। এসব কিছুই ছিল ঢাকা-রংপুর ম্যাচে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরের পঞ্চম দিনে এসে যেনো পুর্ণতা। গযালারি ভরা দর্শক মাঠে খেলোয়াড়দের ঝকঝকে পারফর্মেন্স। দীর্ঘ লাইনে থেকে টিকিট কেটে যারা এসেছে খেলা দেখতে তাদের জন্য একদম পয়সা উসুল। 

পিডিএসও/রিহাব