আজ পাক-ভারত আগুন

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২১

প্রিন্স রাসেল

ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে ধ্রুপদী লড়াইয়ের নাম ভারত বনাম পাকিস্তান। ব্যাট-বলের বারুদঠাসা যুদ্ধটার উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক অস্থিরতা। তাদের দা-কুমড়া সম্পর্কই এশিয়া কাপকে টেনে নিয়ে এসেছে মরুর দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের আগের দুটো আসরেরই মঞ্চ বসেছিল বাংলাদেশে। ভারতের মাটিতে ১৪তম আসর আয়োজনের কথা থাকলেও বেঁকে বসে পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট বর্জনের ভাবনাও ঢুকে গিয়েছিল পাক বাহিনীর মাথায়। বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বার প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে—এমন কথাও তো উঠেছিল। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) দফায় দফায় বৈঠকের ফসল হিসেবে তৃতীয়বার আরব দেশ টুর্নামেন্টের স্বাগতিক।

এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে ছয়টি দল। যে দুটি দলের বৈরিতা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গন সরগরম তাদের আরো একবার দেখা হচ্ছে আজ। প্রস্তুত লড়াইয়ের মঞ্চ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। অপেক্ষা কেবল বল মাঠে গড়ানোর। বরাবরের মতো এই লড়াইটারও সারকথা একই। লড়াইটা হতে যাচ্ছে ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের বোলিংয়ের।

চিরচেনা এই দ্বৈরথের সার্বিক পরিসংখ্যানটা পাকিস্তানের পক্ষেই কথা বলছে। ১২৯ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ৭৩ বার হারিয়েছে পাক বাহিনী। যেখানে ভারতের জয় ৫২টি। তবে এশিয়া কাপের মঞ্চে দুই দলের সাফল্য ও ব্যর্থতা একই সুতোয় গেঁথে আছে। (ওয়ানডে ফরম্যাটে) ১১ বারের সাক্ষাতে উভয় দলেরই জয় সমান পাঁচটি করে। আজকের মহারণটা ভারত-পাকিস্তানের জন্য এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছে।

নিজেদের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ‘নিষিদ্ধ’ হওয়ার পর থেকে কয়েক বছর ধরে মরুর দেশে তাঁবু টানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আরব আমিরাতের মাটি, পাক বাহিনীর জন্য রীতিমতো ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। পর্যটন ও খনিজ সম্পদের দেশে ২৬ বারের লড়াইয়ে ১৯ বার ভারতকে হারিয়েছে তারা। বাকি সাতটি ম্যাচ ভারত জিতলেও তাদের স্বস্তি দিতে পারে একটা তথ্য। এই দেশে আগের যে দুটি এশিয়া কাপ হয়েছিল, দুবারই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠেছিল ভারতের মাথায়।

এবারও শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে ভারতকে। শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ-ই অন্যদের তুলনায় দলটাকে আলাদা করে রেখেছে। অথচ ভারত এশিয়া কাপে খেলতে এসেছে নিয়মিত অধিনায়ক ও বর্তমান বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলিকে ছাড়াই। পাকিস্তানের ভারতের ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ১৮৩ রানের ইনিংসটা কোহলিরই। যিনি আপাতত আছেন বিশ্রামে। কোহলির পরিবর্তে নেতৃত্বের জোয়ালটা পড়েছে রোহিত শর্মার কাঁধে। তার নেতৃত্বে কাল থেকে অভিজানও শুরু করে দিয়েছে ভারত।

হংকংকের বিপক্ষের ম্যাচটাকে ভারতের জন্য পাকিস্তান মহারণ প্রস্তুতিও বলা চলে। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে রোহিত-ধোনিরা সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিয়েই আজ চিরশত্রুর মুখোমুখি হচ্ছেন। ‘এ’ গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই হংকংকে ১১৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।

বাছাইপর্বের গণ্ডি পেরিয়ে আসা পুঁচকে দলটাকে হেসে-খেলে হারিয়ে দেওয়ার কথা ভারতের। তাই প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকার কথা নয় কারোরই। দুই দলের আসল শুরু যে দ্বিতীয় ম্যাচ দিয়ে হচ্ছে, সেটা ম্যাচের আগে স্বীকার করে নিয়েছেন অধিনায়কদ্বয় সরফরাজ আহমেদ ও রোহিত শর্মা। দুই অধিনায়কই নিজেদের সেরাটা খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান দুই দলই যদি সবটুকু উজাড় করে দেয় তাহলে কী হবে? নিশ্চিতভাবেই জমজমাট একটা লড়াই দেখা যাবে।

ভারতের সম্ভাব্য একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাউল, মনিশ পান্ডে, মহেন্দ্র সিং ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদ্বীপ যাদব, জাসপ্রিত বুমরা ও যুজভেন্দ্র চাহাল।

পাকিস্তান : ইমাম-উল-হক, ফখর জামান, বাবর আজম, আসিফ আলি, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, হাসান আলি, মোহাম্মদ আমির, জুনাইদ খান ও উসমান খান।

পিডিএসও/হেলাল