নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয়

নীলফামারীতে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৩

ওয়ালি মাহমুদ সুমন, নীলফামারী

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হবে দক্ষিণ এশিয়ার সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে এর আগেই বুধবার বিকেল চারটায় প্রস্তুতি ম্যাচে নীলফামারী শহরের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল। 
বাফুফের সহযোগীতায় এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার আয়োজন করছে উত্তরবঙ্গের নীলফামারী জেলা ক্রীড়া সংস্থা। 

সাফ ফুটবলের আগে নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে অনুশীলনের জন্য রাজধানী ঢাকার বাহিরে নীলফামারীতে প্রীতি ম্যাচে অংশ নিচ্ছে উভয় দল।

সাফ ফুটবলকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ম্যাচ বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। 
সকালে ঢাকা থেকে বিমান বন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ম্যাচটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি আমরা। এখানে ভালো করলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। এমনকি সাফ ফুটবলেও বিশেষ কাজে আসবে। 


বিকেলে শ্রীলঙ্কান দল শেখ কামাল স্টেডিয়ামে নিজেদের তৈরি করে নিতে অনুশীলনে অংশগ্রহণ করে। ২৫ সদস্যের দলে কোচ হিসেবে রয়েছেন পাকির আলী আর বাংলাদেশ দলে কোচ হিসেবে রয়েছেন জেমি ডে। 

শ্রীলঙ্কান কোচ পাকির আলী জানান, হার জিত মুখ্য বিষয় নয়। সৌজন্যতার এই ম্যাচটি আনন্দ উপভোগের জন্য। 
এদিকে টিকিট বিক্রির শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় ব্যাংকগুলোতে। হাজার হাজার দর্শককে টিকিট না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে। 

ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, আনসার এমনকি গ্রাম পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে স্টেডিয়ামসহ আশপাশের এলাকায়।

নীলফামারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘স্টেডিয়াম এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করা ছাড়াও শরীর তল্লাশী করে প্রবেশ করতে দেয়া হবে দর্শকদের।’ 

নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ জানান, নীলফামারীতে প্রথম বারের মত আন্তর্জাতিক একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘এর ফল দেখা যাবে নীলফামারীর ক্রীড়াঙ্গণে। বিশেষ করে উপকৃত হবে তরুণ সমাজ এবং খেলোয়ারগণ।’ 

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন জানান, প্রথম বারের আয়োজন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারবো। কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে সেগুলো চিহিৃত করতে পারবো। আমাদের এবারের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে উপকারে আসবে। ‘বিশেষ করে আমাদের আসন সংখ্যা কম হওয়ায় ফুটবল প্রেমীদের সবাইকে টিকিট দেয়া সম্ভব হয়নি।’ 
আগামীতে আরো বড় বড় খেলার আয়োজন হবে এই মাঠে। সেগুলো উপভোগ করতে পারবেন। 

এদিকে ম্যাচকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকাকে বিভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে। রাঙানো হয়েছে কচিঁ হাতের আল্পনায়।


প্রসঙ্গত, দেশের মাটিতে প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কা খুবই পরিচিত একটি নাম। এর আগে ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর যশোরে ও ২৭ অক্টোবর রাজশাহীতে লঙ্কানদের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। যশোরে ১-১ গোলে ড্র করলেও রাজশাহীতে ১-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। 

এছাড়া ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি যশোর শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪-২ গোলের জয়টি ভুলে যাওয়ার কথা নয়। প্রায় দুই বছর বাদে বাংলাদেশের সামনে আবারও লঙ্কানরা এবার মুখোমুখি হবে নীলফামারীর মাটিতে। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে সাফ ফুটবলের ড্রেস রিহার্সাল। 

কারণ এর পাঁচদিন পরই ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। পরের দিনেই ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। ফলে এই প্রীতি ম্যাচের আড়ালে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাফে চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ ‘এ’তে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান। গ্রুপ-‘বি’ তে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী ভারত ও মালদ্বীপ।


পিডিএসও/ এআই