ওজিলের পাশে অনেকেই আছেন

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৮, ১৭:১৫

অনলাইন ডেস্ক

মেসুত ওজিল বিতর্কে এসেছিলেন রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। বিতর্কের সূত্রপাত তুরস্ক প্রেসিডেন্ট তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ওজিলের বৈঠক পর্ব দিয়ে। যেখানে তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানকে একটা জার্সি উপহার দেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার। সেই মুহূর্তের ছবিটা আবার ফ্রেমবন্দি করার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ওজিল। শুরু হয় তা নিয়ে বিতর্ক।

অবশেষে সব বাকযুদ্ধের ইতি টানলেন মেসুত ওজিল। তাও আবার বিস্ফোরক এক ঘোষণায়। জার্মানি জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিলেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

বিস্ফোরক অবসর ঘোষণায় তোলপাড় হয়ে গেছে গোটা ফুটবল দুনিয়া। জার্মানি দল থেকে তার এই আচমকা বিদায়ের খবরটা শোনার জন্য ভক্তদের কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। জার্মান ফুটবল সংস্থার প্রধান কর্তা গ্রিনডেলের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলে বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওজিল। তার এই সিদ্ধন্তে অবাক হলেও সম্মান জানিয়েছেন অনেক রথী-মহারথী।

সেই দলেরই একজন ভারতীয় টেনিস সেনসেশন সানিয়া মির্জা। প্রিয় তারকার বিদায়ে ব্যথিতও হয়েছেন এই টেনিসকন্যা। সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকেই তিনি কোর্টের বাইরে। কিন্তু ক্রীড়া দুনিয়ার সব খবরই তার কাছে রয়েছে। পরশু রাতে ওজিলের খোলা চিঠির একাংশ টুইটারে পোস্ট করে সানিয়া লিখেছেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে এই লেখা পড়া অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। মানুষ হিসেবে ঠিক কাজই করেছেন ওজিল। কোনো অবস্থাতেই বর্ণবিদ্বেষ মেনে নেওয়া যায় না। অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তা খুবই দুঃখজনক।’

শুধু সানিয়া নন, ওজিলের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। রিও ফার্দিন্যান্ড, জেরমি বোয়াটেং, হেক্টর বেলারিনের মতো তারকা ফুটবলাররাও। ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা ফার্দিন্যান্ড টুইটারে লিখেছেন, ‘তোমাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’ ওজিলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে বোয়াটেং লিখেছেন, ‘একসঙ্গে ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব-২১ ইউরো কাপ জিতেছি। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তোমার সঙ্গ সবসময়ই উপভোগ করেছি।’

আর্সেনালে ওজিলের সাবেক সতীর্থ ও স্পেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার হেক্টরের প্রতিক্রিয়া, ‘অবিশ্বাস্য! মাঠের মধ্যে দেশের জন্য যে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে, মাঠের বাইরে তাকে এভাবে অপমান করা হবে? শাবাশ ওজিল, এই ধরনের ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠার জন্য।’

ওজিল ঠিকই গর্জে উঠেছেন প্রতিবাদ করেছেন, কিন্তু তার প্রতিবাদের ভাষাটা যে এতটা কঠিন হবে সেটা বোধহয় অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি।

পিডিএসও/তাজ