রাকিটিচ বনাম গ্রিজম্যান

প্রকাশ | ১৫ জুলাই ২০১৮, ১৬:৪৭

ক্রীড়া ডেস্ক

কার হাতে ২১তম বিশ্বকাপ উঠবে তা নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা। একদিকে ফ্রান্সের শিরোপা উদ্ধার অভিযান আর অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নের ফাইনাল। পৃথিবীর শত কোটি মানুষের আজ চোখ থাকবে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের দিকে। হাজার হাজার দর্শক গলা ফাটাবে প্রিয় দলের সমর্থনে। আর মাঠে ২২ জনকে দেখা যাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য একের পর এক ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করতে।

তবে ম্যাচের স্পটলাইটটা একটু বেশি থাকবে দুই দলের দুই তারকা ফুটবলার আঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও ইভান রাকিটিচের দিকে। দুই দলের প্রধান অস্ত্রও যে তারা। যদিও মাঠের পজিশন এক না হলেও দুই দলের খেলার কারিগর কিন্তু এই দুইজন।

রাকিটিচ মধ্য মাঠের খেলোয়াড়। আর গ্রিজম্যান খেলেন ফরওয়ার্ডে। কেবল গোল করা নয় গোলের জোগানদাতা হিসেবেও কার্যকর থাকেন তিনি। ফরাসিদের এই প্রধান ভরসা রাশিয়া বিশ্বকাপে এরই মধ্যে করে ফেলেছেন ৩ গোল। যার মধ্যে ২টি গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে। এছাড়া গোলে সহায়তা করেছেন ২টি। ৬ ম্যাচে মোট ৪৮০ মিনিট মাঠে ছিলেন এই ২৭ বছর বয়সী ফরওয়ার্ড।

অন্যদিকে রাকিটিচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০২ ডিগ্রি জ্বর সত্ত্বেও ১২০ মিনিট মাঠে ছিলেন। দলের প্রয়োজনে যে সবকিছু প্রস্তুত তা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ড ও কোয়ার্টার ফাইনালে দুইবারই ক্রোয়েশিয়ার উদ্ধার কর্তার নাম রাকিটিচ। টাইব্রেকারে দুই দুইবার শেষ গোলটি করে ক্রোয়াটদের ভাসিয়েছেন জয়ের আনন্দে। দলকে ফাইনালে তুলতেও বড় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ৬ ম্যাচে ১ গোল করার পাশাপাশি এই ৩০ বছর বয়সী মাঠে ছিলেন ৫৪৯ মিনিট।

দুই তারকা ফুটবলার একটা দিক দিয়ে মিলও আছে। দুইজনেরই জার্সি নাম্বার লাকি ‘সেভেন’। এছাড়া দুইজনই খেলেন স্প্যানিশ লা লিগায়। রাকিটিচ খেলেন বার্সেলোনায় আর গ্রিজম্যান অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের প্রাণভোমরা। গত মৌসুমে বার্সা লিগ শিরোপা জিততে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন রাকিটিচ। অন্যদিকে গ্রিজম্যানের ওপর ভর করেই ইউরোপা লিগ শিরোপা জিতেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তবে এসব ভুলে আজ দুই ক্লাব প্রতিপক্ষ মাঠে নামবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের শিরোপাটা নিজের করে নিতে।

বিশ্বকাপ জিতলেই আজ কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানদের পাশে জায়গা করে নেবেন গ্রিজম্যান। সেই সঙ্গে দুই বছর আগে ইউরো কাপের ব্যর্থতাটাও লাঘব করতে পারবেন তিনি। তবে সেবার ইউরোর বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা উঠেছে তারই হাতে। আর রাকিটিচ চাইবেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে পূর্বসূরিদের পরাজয়ের যন্ত্রণাটা আজ ক্রোয়াটবাসীদের ভুলিয়ে দিতে।

পিডিএসও/তাজ