ইংল্যান্ড-বেলজিয়ামের সান্তনার লড়াই

প্রকাশ | ১৪ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩৮

ক্রীড়া ডেস্ক

শেষ চারে পরাজয়ের দগদগে ক্ষতটা হয়তো এখনো শুকায়নি। কিন্তু এই যন্ত্রণা নিয়েই আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে নামতে হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপের দুই সেমিফাইনালিস্ট বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডকে। এই সেন্ট পিটার্সবার্গেই ফাইনালে উঠার স্বপ্নটা বিসর্জন দিতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। পরের দিন মস্কোর লুঝনিকিতে একই ফল করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। অথচ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জিতলেই লুঝনিকির ফাইনালটা রাঙাতে পারত ইংলিশরা।

আজ যখন নির্বিষ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হবে তখন নিশ্চয় ফাইনালের যন্ত্রণাটা কিছুক্ষণ পরপর তাদের স্মৃতিতে ফিরে আসবে। কারণ পরের দিনই যে তাদের দেখতে হবে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল ম্যাচ!

সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল বেলজিয়াম। এরপর মাঝখানে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ অপেক্ষার ৩২ বছর। বিশ্বকাপে যাওয়া আসার মাঝে বারবার হতাশাটা বেড়েছে বেলজিয়ানদের। তবে অপেক্ষাটা আর দীর্ঘ হতে দেয়নি ইডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকোদের নিয়ে গড়া বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্ম। ৬ জুলাই, কাজান অ্যারেনায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হৃদয় ভেঙে দ্বিতীয়বার সেমিতে উঠে রবার্তো মার্টিনেজের দল। সেই থেকে তারা স্বপ্ন বুনতে শুরু করে ফাইনালে যাওয়ার।

কিন্তু ভাগ্য হয়তো সেদিন বেলজিয়ামের পক্ষে ছিল না। পুরো ম্যাচে আধিপত্য নিয়ে খেলার পরও ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে নতুন ইতিহাস লিখতে ব্যর্থ হয় মার্টিনেজের শিষ্যরা। অথচ পুরো আসর জুড়ে ওই একটি ম্যাচেই পরাজিত হতে হয়েছে তাদের। আসরের সর্বোচ্চ গোল থেকে শুরু করে অন্য সব দল থেকে এগিয়ে ছিল কালো ঘোড়া খ্যাত বেলজিয়াম।

অন্যদিকে, সুইডেনকে কাঁদিয়ে শেষ চারে উঠেই শিরোপা জেতার আনন্দ শুরু করে দিয়েছিল ব্রিটিশ মিডিয়া। সে হওয়ারই কথা। কারণ ডেভিড বেকহাম, স্টিভেন জেরার্ড, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডদের সোনালি প্রজন্ম যা পারেনি তাই করে দেখিয়েছেন হ্যারি কেন, ডেলে আলি, মার্কাশ রাশফোর্ডরা। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে ১৯৯০ সালের পর ইংল্যান্ডকে তুলেন শেষ চারে। একদিকে, ২৮ বছরের অপেক্ষা অবসানের পর ইংলিশরা স্বপ্ন দেখছিল ৫২ বছরের অপেক্ষাটা লাঘব করতে।

১৯৬৬ সালে ঘরের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যে আর একবারও ফাইনাল খেলতে পারেনি! কিন্তু সেমিফাইনালের জুজুটা কাটাতে পারল কই ইংলিশরা। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে পাঁচবারের মধ্যে চারবারই যে তাদের বিদায় নিয়ে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। সেমিতে ইংলিশদের হৃদয়টা ভেঙে দিল ক্রোয়েশিয়ানরা। ২-১ গোলে জিতে রচনা করে ফেলল নিজেদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ গল্পটি।

হয়তো চোখের পানিটা এখনো শুকায়নি দুই দলের। কিন্তু সমস্ত দীর্ঘশ্বাস ভুলে তৃতীয় স্থান দখলের লড়াইয়ের জন্য আজ আরেকবার দুই দলকে মুখোমুখি হতে হবে। এই বিশ্বকাপেই দুই দলের এটি দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ‘জি’ গ্রুপেই দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল। উত্তেজনাহীন ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছিল বেলজিয়াম। তবে একটি জায়গায় দুই দলের মিলটা বেশ চোখে পড়ার মতো। এর আগে একবার করে তৃতীয় স্থানের জন্য লড়াই করলেও দুই দলকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চতুর্থ হয়ে। এবার সেই আক্ষেপটা ঘুচিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে দুই দল।

আজকের ম্যাচটি হতে পারে দুই ফরওয়ার্ড হ্যারি কেন বনাম রোমেলু লুকাকোর লড়াইও। এরইমধ্যে ৬ গোল করে রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে আছেন কেন। অন্যদিকে, ৪ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে আছে লুকাকো। আজ যদি লুকাকো হ্যাটট্রিক করে বসেন তবে কপাল পুড়তে পারে কেনের। তবে গত ম্যাচে নিজের ছায়া থাকলেও আজ হয়তো গোল্ডেন বুটটা নিজের করে নেওয়ার জন্য জ্বলে উঠতে পারেন কেন। আর তা হলে ১৯৮৬ সালের গোল্ডেন বুট জয়ী ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের পাশে বসবেন এই টটেনহাম ফরওয়ার্ড।

জয় পরাজয় ড্র র‌্যাংকিং

ইংল্যান্ড :  ১৫ ৩ ৪ ১২ বেলজিয়াম :  ৩ ১৫ ৪ ৩

পিডিএসও/তাজ