আবারও স্বপ্নের মঞ্চে ফ্রান্স

ফ্রান্স ১ - ০ বেলজিয়াম

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০৮:১৫ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৮, ১১:১৭

অনলাইন ডেস্ক

কোয়ার্টার ফাইনালে হট ফেভারিট ব্রাজিলকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল বেলজিয়াম। ৩২ বছর পর ইউরোপের কালো ঘোড়ারা উঠেছিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। রাশিয়ার বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছিল বেলজিয়ানরা। কিন্তু স্বপ্ন এবং ফাইনাল দুইটিই অধরা হয়ে থাকল হ্যাজার্ড-লুকাকু-ডি ব্রুইনদের। কাল বেলজিয়ামের রূপকথার রথযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। রবার্তো মার্টিনেজের দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে এক যুগ পর আবারো ফুটবল মহাযজ্ঞের ফাইনালে উঠে গেছে ফরাসিরা। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দলটি উঠল ফাইনালের মঞ্চে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভিনদেশি কোনো কোচের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির নেই। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে বেলজিয়ামেই ছিল বিদেশি কোচ। কিন্তু ইতিহাসের দেয়ালটা ভাঙতে পারেননি স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে তার দল। তাতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে স্বদেশি কোচের অধীনেই বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছে ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া কিংবা ইংল্যান্ড।

কাল সেন্ট পিটার্সবার্গে ফাইনালে ওঠার লড়াইটা শুরু থেকেই উত্তেজনার রেণু ছড়াতে থাকে। আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণে মুখরিত হয়ে ওঠে সবুজ প্রান্ত। তারণ্যে ঠাসা দুই দলের সোনালি প্রজন্মের ফুটবলাররা আপ্রাণ চেষ্টা করেও খুঁজে নিতে পারেননি জালের ঠিকানা। তাই প্রথমার্ধে নিষ্ফলাভাবেই শেষ হয়েছে দুই ইউরোপিয়ান দলের মহারণটা।

গোলমুখ না খোলার কারণ দুই গোলরক্ষক। বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবাউট কোর্তোয়া ব্রাজিল ম্যাচের মতো এদিনও গড়ে তোলেন বাধার প্রাচীর। অন্যদিকে গোলপোস্টে নিচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন ফরাসি অধিনায়ক হুগো লরিস। এদিন লুকাকু, হ্যাজার্ড, ডি ব্রুইনদের মুহুর্মুহু আক্রমণ নিষ্ফল করে দিয়েছেন ফ্রান্সের গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণের ধার বাড়ালেও লরিসকে আর ফাঁকি দিতে পারেনি বেলজিয়ানরা। ইতিহাসের সম্ভাব্য সেরা দল নিয়ে ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে ইউরোপের কালো ঘোড়াদের।

বেলজিয়ামের স্বপ্নভঙ্গ করে ওদিকে আবার ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটা খোদাই করার নিñিদ্র পথে হাঁটছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। দুই দশক আগে ফুটবলার ভূমিকায় ফরাসিদের স্বপ্নটা পূরণ করেছিলেন তিনি। জিনেজিন জিদান, থিয়েরি অঁরিকে নিয়ে দেশকে উপহার দিয়েছেন বিশ্বকাপের প্রথম সোনালি ট্রফিটা। এবার কোচ হিসেবেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি দেশমের সামনে।

এই সুযোগের সামনে আনার জন্য ফরাসি কোচ ধন্যবাদ দিতে পারেন স্যামুয়েল উমতিতিকে। কাল সেমিফাইনালে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটা যে করেছেন এই ডিফেন্ডারই। এদিন বিপদসীমা সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে উঠে এসে সেন্ট পিটার্সবার্গে নীল উৎসবের ঢেউ উঠিয়েছেন উমতিতি।

তবে গোল করার সম্ভাব্য কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। কিন্তু কিছুতেই যেন লরিসকে ফাঁকি দিতে পারলেন না মার্টিনেজের ছাত্ররা। অবশেষে বিরতি থেকে ফিরেই ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন উমতিতি। ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্তভাবে মাথা ছুঁয়ে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান বার্সেলোনা ডিফেন্ডার। উমতিতি বৃথা যেতে দেননি অ্যান্তনিও গ্রিজম্যানের ঘূর্ণি শটটা।

আক্রমণ রুখে দিয়ে পাল্টা আক্রমণেই বেলজিয়ান বধের ছক কষেছিলেন ফ্রান্স কোচ দেশম। হ্যাজার্ড-লুকাকুদের ঝাঁঝালো সব আক্রমণ সামলে ফরাসিরা প্রতি আক্রমণে কয়েকবার কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বেলজিয়ানদের বিপদসীমা। যদিও গোল হজমের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কালো ঘোড়াদের হাতে। এদিন ম্যাচের ৬৪ শতাংশ বল নিজেদের পজিশনে রেখে খেলেছে তারা। কিন্তু বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকাটাই যে এবারের আসরে প্রায় সব দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে! বেলজিয়ামকেও একই ভাগ্য বরণ করতে হলো। একজন ফিনিশারের অভাবটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তারা। আক্রমণভাগে ভরসার নাম লুকাকু পুরো ম্যাচে খেলেছেন নিজের ছাঁয়া হয়ে। যেটার খেসারত দিয়ে ১৯৮৬ সালের পর আরো একটা ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া করল বেলজিয়াম।

তবে ইতিহাস ফেরানোর মিশনে ভালোভাবেই আছে ফ্রান্স। এমবাপ্পে-গ্রিজম্যান-পগবাদের নিয়ে গড়া সোনালি প্রজন্মের এই তারুণ্যের দলটা স্বপ্ন দেখছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফেরানোর। কুড়ি বছর আগে ওই আসরে দেশমের নেতৃত্বে বহু অরাধ্যের ধন ঘরে তুলেছিল ফ্রান্স। এবার রাশিয়া বিশ্বকাপের ছড়াচ্ছে ফরাসি সৌরভ। হারানো শিরোপা ঘরে তুলতে আর মাত্র একটি জয় দরকার তাদের। রবিরাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে স্বপ্নের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড কিংবা ক্রোয়েশিয়া। এই মঞ্চেই আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দল দুইটি। পক্ষান্তরে, ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পরাজিত দলের সঙ্গে সান্ত¦নার তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম।

পিডিএসও/হেলাল