ব্রাজিলের কষ্টমাখা বিদায়

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫২

অনলাইন ডেস্ক

ভূতুড়ে বিশ্বকাপের প্রায় ষোলো কলা যেন পূর্ণ হলো। ল্যাটিন আমেরিকার শেষ প্রতিনিধি দল হিসেবে রাশিয়ার রঙ্গমঞ্চ থেকে ছিটকে গেল হট ফেভারিট ব্রাজিলও। কাল কাজান এরিনায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম। দারুণ এই জয়ে ৩২ বছর পর সেমিফাইনালে উঠে গেল ইউরোপের কালো ঘোড়ারা। তাতেই থামল সেলেকাওদের ‘হেক্সা’ মিশন।

এর ঠিক চার ঘণ্টা আগেই নিঝনি নোভগোরদে ল্যাটিন আমেরিকার আরেক দল উরুগুয়ের স্বপ্নযাত্রা থেমেছে। দুর্দান্ত ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই হারে হারানো শিরোপা উদ্ধারের অভিযানটা অসমাপ্তভাবেই শেষ হলো। দল হিসেবে শুরুটা হয়েছিল কলম্বিয়াকে দিয়ে। শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি। টাইব্রেকারে ইংলিশদের কাছে হেরে গেছে কলম্বিয়ানরা। ল্যাটিন আমেরিকার দুই প্রতিনিধি হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। কিন্তু ল্যাটিনদের জন্য কাল রাতটা দুঃস্বপ্ন হয়েই এলো।

দুটি দলের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল এক রাতে। তাতে এটা নিশ্চিত হয়ে গেল যে, ফুটবল মহাযজ্ঞের কুড়িতম আসরের ট্রফিটা থাকছে ইউরোপেই। অপেক্ষা এবার অল ইউরো সেমিফাইনালের। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দাবিদার অবশ্য চারটি দল। আজকের সুইডেন-ইংল্যান্ড, রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ দুটির জয়ী দল মঙ্গলবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরস্পরকে মোকাবিলা করবে। কাল কাজানে ফেভারিটের তকমা নিয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু রাশিয়ার এই ফুটবল মহাযজ্ঞে যে ফেভারিট বলে কোনো শব্দ নেই। সেটাই যেন আরো একবার প্রমাণিত হলো।

৩১ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে ম্যাচ থেকে যেন প্রায় ছিটকে যায় যায় অবস্থা ব্রাজিলের। বেলজিয়ানদের শারীরী এবং গতিশীল ফুটবলের সামনে নেইমার-সিলভাদের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছিল। এর সঙ্গে ইতিহাসও চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। ১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর শেষ আটের শুরুতে দুই গোল হজম করে কোনো দলেরই পরের রাউন্ডে যাওয়ার নজির নেই। দলটা ব্রাজিল বলেই আশার আলো দেখেছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু শেষ অবধি নিরাশ হতে হলো সেলেকাওদের।

দুটি হলুদ কার্ড দেখায় কোয়ার্টার ফাইনালে নিষিদ্ধ ছিলেন ক্যাসেমিরো। ডিফেন্সিভ এই মিডফিল্ডারের শূন্যতাটাই সর্বনাশ করে দিল ব্রাজিলের। তার পরিবর্তিত হিসেবে ফার্নান্দিনহোকে শুরুর একাদশে মাঠে নামিয়েছিলেন সেলেকাও কোচ টিটে। সেই ফার্নান্দিনহোর গোলেই ১৩ মিনিটে বড় ধাক্কা। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে বল জড়িয়ে দেন নিজেদের জালে। তার কাঁধে লেগে ফাটল ধরে ব্রাজিলের রক্ষণদুর্গে।

উপহারসূচক আত্মঘাতী গোলে লিড নেয় বেলজিয়াম। কাজান স্টেডিয়ামে ওঠে উৎসবের লাল ঢেউ। গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠা ব্রাজিল ৩১ মিনিটে হজম করে বসে দ্বিতীয় গোল! তা-ও আবার সেট পিস থেকে। কেভিন ডি ব্রুইনের দূরপাল্লার শটে চূর্ণ হয় ব্রাজিলের ডিফেন্স। ম্যাচটা কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল ওখানেই।

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা দল ব্রাজিল বলেই তবু একটা আশা ছিল। নেইমার-কুতিনহো-মার্সেলোরা মুহুর্মুহু আক্রমণ করলেও সব যেন প্রায় নিষ্ফলা করে দিচ্ছিলেন বেলজিয়ানরা। ছন্দের এবং দুর্দান্ত সব আক্রমণ করলেও সেলেকাওদের বারবার হতাশ করছিলেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবাউট কোর্তোয়া। এদিন গোল পোস্টের নিচে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করেছেন কোর্তোয়া। না হলে ম্যাচের চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত।

৭৬ মিনিটে রেনাতো অগাস্টো দারুণভাবে হেডে মাথা ছুঁয়ে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কোর্তোকে পরাস্ত করেন (২-১)। শেষ কয়েক মিনিটে ঝাঁঝালো আক্রমণ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি টিটের দলের। তবে এই হারে নিজেদের ভাগ্যকেই দুষতে পারে ব্রাজিল। এদিন বল পজিশন (৫৯), আক্রমণ (২৭), গোলমুখে শট (৯), কর্নার সবকিছুতে এগিয়ে ছিল তারা। যেখানে বেলজিয়ামের গোলমুখে শট ছিল মাত্র ৩টি। আর মোট আক্রমণ ৯টি।

কিন্তু সবকিছুতে এগিয়ে থাকলেও শুধু ম্যাচের ফলটাই নিজেদের অনুকূলে আনতে পারল না সেলেকাওরা। দুঃস্বপ্নের এই হারের জন্য চাইলে ব্রাজিলিয়ানরা দুষতে পারেন রেফারিকেও। কারণ, এদিন প্রাপ্য পেনাল্টি বঞ্চিত হয়েছে ল্যাটিন দলটি।

পিডিএসও/তাজ