সেমিফাইনালে ফ্রান্স

প্রকাশ | ০৬ জুলাই ২০১৮, ২০:২৩ | আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৮, ২১:৫৫

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়া বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে এমবাপ্পে-গ্রিজম্যানের দল ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারানে এবং দ্বিতীয়ার্ধে গ্রিজম্যানের গোলে এই জয় পায় দেশটি।

শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় উরুগুয়ে ও ফ্রান্স। এডিনসন কাভানি যে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবেন না সেটা আগেই জানা গিয়েছিল। ফরাসিদের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে লাইন আপে পিএসজি তারকার নাম না দেখে তাই অবাক হননি কেউই। অন্যদিকে ফ্রান্স নেমেছে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাই উরুগুয়ের চেয়ে কিছুটা এগিয়েই রইল দিদিয়ের দেশমের দল। 

বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় নিঝনি নোভগোরোদ স্টেডিয়াম শুরু হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ। একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়ে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।

প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে ফ্রান্স। ৬০ ভাগের বেশি বলের দখল রাখেন এমবাপ্পে-জিরুদরা। তবে কাজের কাজটি করতে পারছিলেন না কেউই। অবশেষে ৪০তম মিনিটে এসে গোলের সুযোগ পায় ফ্রান্স। ফ্রি কিক পেয়েছিল ফরাসিরা। গ্রিজম্যানের নেওয়া দারুণ কিকে মাথা ছোয়ান রাফায়েল ভারানে। 

৪৩ মিনিটে গোল শোধের দারুণ সুযোগ পায় উরুগুয়ে। তবে গোলরক্ষকের অসাধারণ দক্ষতায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় ফ্রান্স। 

দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে পতুর্গালের বিপক্ষে দুই গোল দেওয়ার ম্যাচে ৭৪ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাঁধে ভর রেখে মাঠ ছাড়েন কাভানি। এরপর জানা যায়, অবস্থা বেশ খারাপ তার। এরপর আর  দলের অনুশীলনে অংশ নেননি তিনি। ফরাসি কোচ অবশ্য জানিয়েছেন, কাভানির কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। 

কোয়ার্টার ফাইনালে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ফুটবল ভক্তরা। একদিকে লুইস সুয়ারেজ, ক্রিস্টিয়ান স্টুয়ানির মতো ক্ষুধার্ত বাঘ অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে, আতোয়ান গ্রিজম্যান, পল পগবার মতো দক্ষ শিকারী। কে কাকে শিকার করবে সেটা জানা যাবে ম্যাচের পরই। 

১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে উরুগুয়ে। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। লড়াইটা হচ্ছে লাতিন আর ইউরোপের ফুটবলের। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টারে এসেছে ফ্রান্স। আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হায়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে উরুগুয়ে। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল উরুগুয়ে ও ফ্রান্স। ম্যাচটি ড্র হয়েছিল। সবমিলে বিশ্বকাপে তিনবার দেখা হয়েছে দল দুটির।  দুটি ম্যাচ ড্র হয়। অপরটিতে জয় পায় উরুগুয়ের। 

আজকের ম্যাচে পেনাল্টি শুট আউটের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুট আউটে ফ্রান্সের জয়-পরাজয় সমান দুটি করে। শেষ ২০০৬ সালে ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হারে ফরাসিরা। অপরদিকে বিশ্বকাপে একবারই টাইব্রেকারের অভিজ্ঞতা আছে উরুগুয়ের। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ঘানাকে টাইব্রেকারে হারায় সুয়ারেজের দল। 

এনিয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে ফ্রান্স। আগের ছয় ম্যাচে চারবারই সেমিফানা উঠেছে দলটি। উরুগুয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে চারবার। তিনবার সেমির মুখ দেখেছে ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। 

উরুগুয় একাদশ: মুসলেরা, লাক্সালত, গোডিন, গিমেনেজ, ক্যাসেরাস, নানডেজ, ভেসিনো, টোরেইরা, বেনটানকার, স্টুয়ানি ও সুয়ারেজ।

ফ্রান্স একাদশ: লরিস, পাভার্দ, রাফায়েল ভারানে, উমতিতি, হার্নান্দেজ, কান্তে, পগবা, এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, লিমার ও জিরুদ।

পিডিএসও/রিহাব