কী খান বিশ্বকাপের ফুটবল তারকারা

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৮, ১৫:২২

অনলাইন ডেস্ক

জনি মার্শ বিশ্বের শীর্ষ বেশ কজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত শেফ। ওই ফুটবলারদের বাড়িতে গিয়ে তিনি রেঁধে দিয়ে আসেন। এ তারকা ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ড দলের ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার এবং গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড। মার্শের কাস্টমারের তালিকায় একইসঙ্গে রয়েছেন বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রাইনা এবং মারওয়ান ফেলাইনি। এরা দুজনই ইংলিশ প্রিমিয়ারশিপেরও তারকা। বিশ্বকাপের এই তারকাদের জন্য কী কী রাঁধেন জনি মার্শ?

রাশিয়ায় প্রতিটি দলের নিজস্ব শেফের টিম রয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়রা কী খাবেন সে সিদ্ধান্ত অনেকটাই নেন টিম ম্যানেজার। গ্যারেথ সাউথগেট আমাকে ডাকবেন বলে এখনো আমি আশা করছি, কিন্তু আমি জানি মাঠে ফুটবলাররা কতটা পারফর্ম করবেন, তার পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ নির্ভর করে তারা ম্যাচের আগে কী খাচ্ছেন তার ওপর। বিবিসি গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর জানায়।

একেক ফুটবলারের পছন্দ একেক রকম, কিন্তু ইংলিশ ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার ম্যাচের আগে চান স্প্যাগেতি বোলোনেজ। এটি একটি ইটালিয়ান খাবার। গরুর কিমা এবং টমেটো দিয়ে সস বানিয়ে সিদ্ধ স্প্যাগেতি বা পাস্তার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। তবে ওয়াকার একটু ভিন্নভাবে খাবারটি চান। তার পাস্তা সিদ্ধ করা হয় বিটরুটের রসে যাতে ঐ পাস্তা বিটরুটের আয়রন এবং নাইট্রেট শুষে নিতে পারে। এই দুই খনিজদ্রব্য মাঠে তাকে বাড়তি শক্তি দেয়।

কেভিন দ্য ব্রাইনের জন্য খাবার রেঁধে তার বাড়িতে দিয়ে যান জনি মার্শ। কেভিন দ্য ব্রাইনা চান প্রচুর শর্করা। আমার ক্লায়েন্টদের নিয়ে আমি অত্যন্ত খুশি, কারণ তারা খুঁতখুঁতে নন। তারা চান সাদাসিধে খাবার, কিন্তু তাতে থাকতে হবে পুষ্টি। যেমন, বেলজিয়াম এবং ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবের তারকা কেভিন ডি ব্রাইনা চান ম্যাচের আগে তার খাবারে যেন যথেষ্ট শর্করা থাকে, তবে খুব ভারী যেন না হয়। আর ম্যাচের পর তিনি চান আমিষ-মাংস।

শেষবার তার ম্যাচের আগে শেফ জনি কেভিনের জন্য তৈরি করেছিলেন, বার-বি-কিউ চিকেন টাকো। একটি মোটা রুটির ভেতর বার-বি-কিউ করার মুরগির মাংসের টুকরো ঢুকিয়ে তার সঙ্গে লেটুস পাতা, টমেটো এবং অ্যাভোকাডো ফলের ফালি দিয়ে রোল করে বানানো হয় মেক্সিকান ঘরানার এই সহজ খাবারটি। সঙ্গে কেভিনকে তিনি দিয়েছিলেন গাজর এবং বাঁধাকপির সালাদ।

ইংল্যান্ড দলের গোলকিপার জর্ডান পিকপোর্ড ম্যাচের আগে খুব বেশি খেতে চান না। দরকারও নেই, কারণ অন্য ১০ জন খেলোয়াড়ের চেয়ে গোলকিপারকে ছুটতে হয় কম। ফলে তার শক্তি খরচও হয় কম। মাঝে মধ্যে ফুটবলাররা রুটিনের বাইরে বেরুতে চান। ফাস্ট ফুড খেতেও চান।

তারা যদি বার্গার এবং ফ্রাই চান, আমি তাদের জন্য মসলাদার টার্কি বার্গার করে দিই, খেয়াল রাখি বেশি যেন তেল-চর্বি ব্যবহার না হয়। মিষ্টি খাওয়ার ওপর অনেক বিধিনিষেধ রয়েছে, কিন্তু অনেকেই মিষ্টি পাগল, বিশেষ করে ম্যাচের পর তারা পুডিং দাবি করেন। আমি আমার ক্লায়েন্টদের ‘অ্যাভোকাডো-চকলেট মুস’ তৈরি করে দিই, সঙ্গে কিছু প্রোটিন যোগ করে দিই, যাতে দ্রুত তাদের ক্লান্তি কাটে।

ইলকে গুনদোগানের বাড়িতে গিয়ে রাঁধতে হয় জনি মার্শকে। ইলকে গুনদোগান চান তুর্কি খাবার। জার্মানি এবং ম্যানচেস্টার সিটির ইলকে গুনদোগান জার্মান। কিন্তু তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত। সুতরাং, তার জন্য খাবার তৈরির সময় আমি চেষ্টা করি যেন তার পিতা-মাতার দেশের (তুরস্কের) খাবারের স্বাদ-গন্ধ যতটা সম্ভব রাখতে পারি। অধিকাংশ সন্ধ্যায় আমি খাবার রেঁধে কেভিনের বাড়িতে পৌঁছে দিই, তারপর ইলকের বাড়িতে গিয়ে রান্না করি।

অনেক সময় তার সঙ্গে বসে ডিনার খাই। তবে জনি মার্শের স্বপ্নের ক্লায়েন্ট অবশ্যই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আমি তাকে ভীষণ পছন্দ করি, আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফ্যান, সে আমার হিরো। রোনালদো এবং ফ্রান্সের পল পগবার জন্যও রাঁধতে চান ম্যানচেস্টারের এই ইংলিশ শেফ। আশা করছেন সে সুযোগ তার হবে।

পিডিএসও/তাজ