সুইসদের গোল বাতিল চান ব্রাজিল কোচ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৮, ২১:০১

অনলাইন ডেস্ক

আর্জেন্টিনা ও জার্মানির পর ফেভারিটের তকমা পাওয়া ব্রাজিলেরও বিশ্বকাপের যাত্রা শুভ হলো না। জার্মানি বিশ্বকাপ যাত্রা পরাজয় দিয়ে শুরু করলেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল শুরু করেছে ড্র দিয়ে।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ যাত্রা জয় দিয়েই শুরু করতে পারতো। কিন্তু নেইমার, পাওলিনহো, ফিরমিনোরা সবাই ছিলেন সুযোগ নষ্টের মিছিলে। একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছিলেন ফিলিপ কুতিনিহো। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। 

রোস্তভ অ্যারেনায় রোববার রাতে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্র করে রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেলেকাওদের কোচ তিতে সুইসদের দেয়া গোলটি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি মনে করেন রেফারির উচিত ছিল গোলটি বাতিল করে দেয়ার। 
শুধু যে তিনিই বলেছেন তাও নয়। তার সঙ্গে একইভাবে সুর তুলেছেন ফিফার সাবেক ইংলিশ রেফারি কেইথ হ্যাকেট।
তিতে বলেন, স্টিফেন জুভের যেভাবে গোলটি করেছেন, সেটা অবশ্যই বাতিল করা উচিত ছিল।

ব্রাজিল কোচ মনে করছেন, সমতায় ফেরানো গোলের সময় জুভের ডি বক্সের মধ্যে যা করেছেন, সেটা অপরাধ। তিনি বলেন, মিরান্ডার ওই ঘটনার মুহূর্তটা খুবই পরিষ্কার ছিল। খুবই পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে। আপনি (রেফারি) পেনাল্টি (আবেদন) নিয়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু প্রথম ঘটনাটা নিয়ে আলোচনার কিছু ছিল না। আপনাকে অবশ্যই সৎ থাকতে হবে। আমি এমন কিছু নিয়ে কথা বলব না, যা একেবারে সুষ্পষ্ট ছিল। এটা ফাউল ছিল।

ফিফার সাবেক ইংলিশ রেফারি কেইথ হ্যাকেট বলেছেন, আমার মনে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই যে, প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে রেফারির গোলটি বাতিল করা উচিত ছিল। এটা বিশ্বকাপের জন্য একটা খারাপ সংবাদ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে লেখা এক কলামে কেইথ হ্যাকেট বলেন, জুবের জায়গা করে নেয়ার জন্য ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মিরান্ডাকে তার বাহু দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। কিন্তু রেফারির বুঝতে ভুল হয়েছিল এটা পেনালিজিং ফাউল নয়। এমনকি ব্রাজিলিয়ানরা ফাউলের আবেদন করার পর তার সহকারী ও প্রযুক্তি রেফারিরা চ্যালেঞ্জ আনার জন্য মাঠের মূল রেফারি রামোসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্ক্রিনে দেখে সিদ্ধান্ত রিভিউ করার সুযোগ ছিল রামোসের কাছে। আমার কাছে কোনও সন্দেহ নেই, রেফারি তার ভুল বুঝতে পারতো এবং গোলটি বাতিল করে দিতো।

সেলেকাও কোচ আরও বলেন, আমি এটাও বলতে চাই, মিরান্ডা আমাকে বলেছিল-‘ভালো, যখন সে আমাকে ধাক্কা দিল। আমার পড়ে যাওয়া উচিত ছিল।’ কিন্তু আমি বলেছি-না, অবশ্যই নয়। ভান করার কোনও প্রয়োজন নেই। ফাউল নেয়ার প্রয়োজন নেই। না হলে মনে হবে, তুমি এটা নিতেই চাইছিলে।
তবে গোল নিয়ে ব্রাজিলের অভিযোগকে আমলে না নিয়ে সুইজারল্যান্ড কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিক বলেন, এটা স্বাভাবিক একটা গোল ছিল। সুযোগ তৈরি করতে আপনাকে জায়গা করে নিতেই হবে। ডিফেন্ডার সঠিক পজিশনে ছিল না। ভিএআরের রেফারিরাও কিন্তু এই ঘটনাটায় চোখ রেখেছিল।

যার কর্ণার থেকে বিতর্কিত গোলটি এসেছে, সেই শাকিরিও এটাকে ফাউল মনে করছেন না। সুইস ফরোয়ার্ড বলেন, এটাকে ফাউল বললে বাড়াবাড়ি হবে। প্রতি ম্যাচেই একটু আধটু স্পর্শ লাগে (খেলোয়াড়দের মধ্যে)। এটাই ফুটবল। এই স্পর্শ করা ছাড়া আপনি মাঠে থাকতে পারবেন না। হ্যাঁ, কিছু ধাক্কা হয়তো ফাউল। তবে কর্ণার থেকে এটা সাধারণ একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এটা ফাউল ছিল না।

তবে ম্যাচ ড্রয়ের জন্য গোল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিতে আরও জানান, আমরা কিছু ভালো এবং পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা আরও বেশি নির্ভুল হতে পারতাম। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলার ভাবনা থেকেই এই উদ্বেগ এসেছে। এমনকি কোচও উদ্বিগ্ন হয়।
১৯৭৮ আসরের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে শুভসূচনা পেলো না ব্রাজিল। ম্যাচের ফলে তাই সন্তুষ্ট হতে পারেননি কোচ। নেইমার-জেসুসরা পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারেননি বলেও মনে করেন তিনি।

পিডিএসও/রিহাব