আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে ফিফায় ইসরায়েল

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৮, ১৬:৫০

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের আগে ইসরায়েলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু নানা হুমকি ধমকির ও আন্দোলনের পর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এ ম্যাচটি বাতিল করে দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন এএফএ। এ ম্যাচটি বাতিল করে মনে হয় ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। 

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনজামিন নেতানিয়াহু ম্যাচটি যাতে বাতিল না হয় সেজন্য আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টকে ফোন পর্যন্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচটি পুনরায় চালু করার উদ্দ্যোগ ওখানেই শেষ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনাকে প্রীতি ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য করায় ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে ফিফায় মামলা করেছে ইসরায়েলি ফুটবল ফেডারেশন। এবার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকেই বাদ দেয়ার জন্য ফিফার কাছে যাচ্ছে ইসরায়েল।

আর্জেন্টিনার টিওয়াইসি পত্রিকার মতে, আর্থিক নানা দিক দিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকেই বাদ দেয়ার মতো অকল্পনীয় চিন্তা করছে ইসরায়েল। আর এজন্যই তারা ফিফার দ্বারস্থ হচ্ছে। শনিবার ইসরায়েলের জেরুজালেম স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু বার্সেলোনায় মেসিদের অনুশীলন ক্যাম্পের বাইরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন প্রীতি ম্যাচটি বাতিল করে। আর এতেই আর্জেন্টিনার সমালোচনায় মুখর ইসরায়েল।

ইসরায়েল-আর্জেন্টিনার এই ম্যাচের টিকিট থেকে শুরু করে আনা নেয়ার সব দায়িত্ব ছিল কমটেক কোম্পানির। ফিফার কাছে মূলত তারাই যাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার জন্য। স্পন্সর, টেলিভিশন এমনকি হাজার হাজার মানুষ টিকিট কিনেছিল এই ম্যাচের। কমটেক কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সুইজারল্যান্ডের জুরিখে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার এই অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের বিচার চাওয়ার জন্য। এখন দেখার বিষয়, ফিফা এই ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়। 

এদিকে ইসরায়েলি ফুটবল সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট রোতেম কামের রীতিমতো ফিলিস্তিন ফেডারেশনকে অভিযুক্ত করেছেন ‘ফুটবল-সন্ত্রাস’-এর দায়ে! তিনি বলছেন, ‘এই পরিস্থিতি একদম সীমারেখা অতিক্রম করে যাচ্ছে, এটা হতে দেওয়া যায় না। ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আর্জেন্টাইনদের ভয় দেখিয়েছেন, ফুটবল-সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে বাধ্য করেছেন ম্যাচটি বাতিল করার জন্য। এ জন্য ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাব।’

ইসরায়েলের ক্রীড়ামন্ত্রী মিরি রেগেভ বলেছেন, এসব কারণেই ম্যাচটি খেলতে আসেনি আর্জেন্টিনা, ‘মেসি এবং তার পরিবারসহ আর্জেন্টিনার অন্য খেলোয়াড়দের সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়ার কারণেই শুধু ম্যাচটি হয়নি।’ বিষয়টি দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মরিসিও মার্সিকে ফোনও করেছিলেন, ম্যাচটা যেন বাতিল না করা হয়। কিন্তু তাতেও কিছু হয়নি।

ইসরায়েল ফুটবল সংস্থার চেয়ারম্যান অফের এইনি বলেছেন, ‘রজবের লক্ষ্য ছিল আমাদের ক্ষতি করা। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেওয়াও একটি ইস্যু ছিল। কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি প্রকাশ্যে জার্সি পোড়ানোর কথা বলেন, তবে কেউ না কেউ তো এর থেকে এক ধাপ বেশি কিছু করবেই। আমার ধারণা, পুরো বিশ্বে যারা ফুটবল খেলে বেড়ায়, তারা কেউই ব্যাপারটি উপেক্ষা করতে পারবে না।’

আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়ার ভাষায়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করেই ম্যাচ খেলা সম্ভব হয়নি। ইজরায়েলের মানুষের বিরুদ্ধাচরণ করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। আশা করি ব্যাপারটাকে বিশ্বশান্তির নিরিখে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হবে।

মেসিকে যে খুনের হুমকি দেয়া হচ্ছিল তা স্বীকার করে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাও বলেছেন, হুমকিটা দিচ্ছিল প্যালেস্টাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস। এছাড়া ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তাও কদিন আগে মেসির জার্সি পোড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এসব কারণে নাকি শংকায় পড়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট জিব্রিল রাজব ইসরায়েলের প্রতি অভিযোগ করে বলেছেন, ইসরায়েলিরা মেসি আর আর্জেন্টিনার তারকাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। আমি ওদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই সফর বাতিল করায়। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।
ফিফার কাছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যে নালিশ দেয়া এবং তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের কথাটি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। এ ব্যাপারে তাদের ভাষ্য, আর্জেন্টিনাকে কোনও দোষ দেয়া হয়নি; বরং তারা যে কারণে খেলতে পারেনি সেটাই ফিফার কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

ইসরায়েল ফুটবল সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, ফিফাকে আমরা শুধু বলেছি প্যালেস্টাইনের জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকির জন্যই মেসিরা খেলতে আসেননি। এটা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নালিশ নয়। ওদের কোনও দোষ নেই। ফিফা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ঘটনার তদন্ত হবে। এই ম্যাচ বাতিল হওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হল। আরও বড় কথা, আমাদের হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মেসিদের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হল। এটা খুবই দুঃখজনক।

উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার নিরাপত্তার কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ বাতিল করে আর্জেন্টিনা। আর এতে ফিলিস্তিনির সাধারণ মানুষদের প্রশংসা এবং বাহবা পেতে থাকেন মেসিরা।

পিডিএসও/রিহাব