চ্যাম্পিয়ন্স লিগ : রাতে রোমাঞ্চের ফাইনাল

মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ-লিভারপুল : সরাসরি রাত পৌনে একটা

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৮, ১৭:৩৯ | আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ১৭:৫১

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মর্যাদার আসর শুরু হতে বেশি দিন বাকি নেই। তবে জাতীয় দলের যুদ্ধের আগে ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় লড়াইটা। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এনএসসি অলিম্পিস্কি স্টেডিয়ামে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাঠে নামবে ইউরোপের দুই কুলীন দল রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুল। এবং সেটা আজই। বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১টায় ধ্রুপদী লড়াইটা মঞ্চস্থ হবে।

দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইতোমধ্যে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। কারণটা অনুমেয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলাটাকে এক প্রকার অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। গত চার মৌসুমে লস ব্লাঙ্কোসরা শিরোপা জিতেছে তিনবার। তন্মধ্যে গত দুই মৌসুমে দুটি। এবার জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আজ লিভারপুলকে হারাতে পারলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টানা হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের বিরল এক কীর্তি গড়তে পারবে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

ফাইনাল খেলাটাকে রিয়াল মাদ্রিদ এক প্রকার নিয়মে রূপান্তর করে ফেললেও লিভারপুল স্বপ্নের মঞ্চে উঠেছিল ১১ বছর আগে। শেষবার এসি মিলানের কাছে হেরে ষষ্ঠ শিরোপাটা হাতছাড়া করেছিল অল রেডরা। কিন্তু এবার সেই ভুলটা করতে চায় না ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। এই স্বপ্নযাত্রায় লিভারপুলকে আশা দেখাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহ। মৌসুমজুড়ে আগুন ঝরানো মিসরীয় সেনসেশনও খুব করে চাইছেন মধুর সমাপ্তি টানতে।



আজকের লড়াইয়ে ফেভারিট খোঁজা মুশকিল। কারণ শিরোপা ধরে রাখার একটা চাপ থাকবে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর। এর সঙ্গে অভিজ্ঞতার কারণেও এগিয়ে রাখতে হচ্ছে স্প্যানিশ ক্লাবটিকে। রিয়ালের জন্য স্বস্তির খবর চোট কাটিয়ে ক’দিন আগে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেইসঙ্গে ফর্মে আছেন গ্যারেথ বেল ও করিম বেনজেমা। সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে বেনজেমার জোড়া গোলেই বায়ার্ন মিউনিখ সেতু পার হয়েছিল রিয়াল। লা লিগা নিজেদের শেষ ম্যাচে গোল করেছেন বেল। যদিও দু’দুবার এগিয়ে থেকেও ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্রয়ের অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল রিয়ালকে। বেল গোল করেছিলেন সব শেষ এল ক্লাসিকোতেও।

এল ক্লাসিকোর মতো কিয়েভের ফাইনালে জিদানের প্রধান ভরসা হয়ে উঠতে পারেন ‘বিবিসি’। যদিও রিয়ালের সব খেলোয়াড়ই আছেন ফর্মে। আক্রমণভাগে ইস্কো, মার্কো অ্যাসেনসিও ও লুকাস ভাজকুয়েজদের কেউ থাকতে পারেন শুরুর একাদশে। আক্রমণে তাদের সহায়তা দিতে আছেন মধ্যমাঠের দুই সারথী লুকা মডরিচ ও টনি ক্রুস। ‘মিস্টার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’খ্যাত ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাক মার্সেলো হয়ে উঠতে পারেন প্রতিপক্ষের ত্রাস।

ফাইনালে অবশ্য ক্লপ বরাবরের মতো আস্থা রাখবেন আক্রমণভাগের তিন সেনা সালাহ, রবার্তো ফিরমিনো ও সাদিও মানের উপর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমে এই তিনজন মিলে করেছেন মোট ২৯ গোল। ইতোমধ্যে এই ত্রয়ী নাম কুড়িয়েছেন প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বিবিসির সঙ্গে এই ত্রয়ীর লড়াইটিই গড়ে দিতে পারে কিয়েভের ফাইনালের ভাগ্য।

লিভারপুলকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে অতীত পরিসংখ্যান। ইউরোপের মঞ্চে দুই দলের পাঁচবারের দেখায় তিনবারই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অল রেডরা। যদিও সর্বশেষ দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে রিয়াল। তবে সাম্প্রতিক দুঃস্মৃতি ভুলে লিভারপুল খুব করেই চাইবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে। ১৯৮১ সালে প্রথমবারের দেখাতেই যে রিয়ালকে হারিয়ে ইউরোপসেরা দল হয়েছিল লিভারপুল।

পিডিএসও/তাজ