আজ নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল

ইতিহাস গড়তে চায় টাইগাররা

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৮, ১০:১৫ | আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৮, ১৬:৩৯

ক্রীড়া ডেস্ক

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। পরশু স্নায়ুঠাসা অলিখিত সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়ে স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে চলে এসেছে টাইগাররা। আজ শিরোপা লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-তামিমরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন।

শক্তি-সামর্থ্য, ইতিহাস কিংবা মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল। কোনো কিছুতেই বাংলাদেশে সঙ্গে ভারতের তুলনা চলে না। তবু শিরোপা জয়ের বিকল্প ভাবছে না টাইগাররা। কারণ, ভারতের সঙ্গে লড়াইটা শুধু ম্যাচ নয়, এর চেয়ে বেশি কিছু। বলা যায় টাইগারদের জন্য এটা প্রতিশোধের ম্যাচ। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ভারতের কাছেই কয়েকবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। সবশেষ ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে। বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে শেষ ওভারে নাটকীয়তায় ম্যাচটা জিতে নেয় ভারতীয়রা।

সেই দুঃসহ স্মৃতির ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সম্ভাব্য সেরা সুযোগটা আজ আবার পাচ্ছে লাল-সবুজরা। কারণ, এই টুর্নামেন্টের পূর্ণশক্তির দল নয় ভারত। তাছাড়া লঙ্কানদের বিপক্ষে দারুণ দুটো জয় বাংলাদেশকে করে তুলেছে উজ্জীবিত। এর সঙ্গে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দলে ফেরা।

কিন্তু প্রত্যাশার কোনো চাপ নিতে নারাজ বাংলাদেশ অধিনায়ক। নির্ভার হয়ে খেলতে চান সাকিব। বলেছেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যতটা নির্ভার থাকা যায় এবং খোলা মনে থাকা যায়। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভালো করার জন্য ফ্রি থাকাটা খুবই জরুরি। চাপ হিসেবে চিন্তা করলেই চাপ; আর না চিন্তা করলে চাপ না। আমি নিশ্চিত সবাই অনেক নির্ভার আছে।’

কাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আরো বলেছেন, ‘কালকের (শুক্রবার) ম্যাচ পর্যন্ত যদি এটা ধরে রাখতে পারি তাহলে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আশা করি, কেউ কোনো রকম চাপ নেবে না। শুধু খেলার দিকেই মনোযোগ দেবে এবং প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখার চেষ্টা করবে।’

ফাইনালে বারবার ব্যর্থ হওয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা কম হয়নি। হতে পারে এটি একটি ‘মেন্টাল ব্লক’, বড় ম্যাচের ভাষাটা রপ্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। বহন করতে পারেনি বড় ম্যাচের ওজন। দল হয়ত বুঝে উঠতে পারেনি, এমন বড় ম্যাচ জিততে এগোতে হয় কোন পথে।

মানসিকতার দুর্বলতা থাকতে পারে, অস্বীকার করছেন না সাকিব। তবে সেটা দূর করার মন্ত্র তার কাছে সেই একটিই। চাপমুক্ত থাকা। সাকিব বলেছেন, ‘সবার মানসিকতা এক রকম না। সবার চিন্তাধারাও এক রকম না। (মানসিক বাধা) হয়ত কারো ওপর প্রভাব ফেলে, কারো ওপর ফেলে না। আমি আশা করব যেন, কারোর ওপরই প্রভাব না ফেলে। সেটা যদি না করে তাহলে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। আমরা যদি ফাইনাল ম্যাচ মনে করি, মনে করি চাপের ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে খেলা, অনেক বড় ম্যাচ, তাহলে আসলে চাপ। এগুলো চিন্তা না করে, একটা দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হবে, যারা ভালো করবে তারাই জিতবে... তাই সেদিকেই মনোযোগ রাখা উচিত।’

পিডিএসও/হেলাল