গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টুর রূপান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

প্রকাশ | ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২১

অনলাইন ডেস্ক

মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টুর রূপান্তর ইস্যুতে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান অ্যাসেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (এইমস) রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটির অবসায়ন কিংবা রূপান্তরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) জারি করা চিঠির কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ৩০ জুলাই বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও মো. সোহরাওয়ার্দির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও বিএসইসির চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনে এইমসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএসইসি কর্তৃক গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু ফান্ডটির প্রসপেক্টাস অনুমোদনের সময় এর মেয়াদ ১৫ বছর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিএসইসির জারি করা নির্দেশনা অনুসারে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা এবং মেয়াদান্তে এর অবসায়ন কিংবা রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এ অবস্থায় ফান্ডটির ভবিষ্যৎ কী হবে, এ বিষয়ে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চার মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল বিএসইসির পক্ষ থেকে গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু ফান্ডের ট্রাস্টি গ্রামীণ ফান্ডকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর এর ১০ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কারণে কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে এর অবসায়ন কিংবা রূপান্তরের বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়। কমিশনের নির্দেশনা পেয়ে ট্রাস্টি ফান্ডটির রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, রিটের বিষয়ে এইমসের আইনজীবীর পক্ষ থেকে একটি চিঠি কমিশনে গেছে। কিন্তু আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি এখনো তারা হাতে পাননি। আদেশের কপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন কমিশন কর্মকর্তারা।

এদিকে গতকাল ফান্ডটির ট্রাস্টি সভায় ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের জন্য ইউনিটহোল্ডারদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ হয়েছে ৩০ আগস্ট। আর এ সময় ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সা। বিনিয়োগকৃত সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফান্ডের ইউনিটপ্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৩৩ পয়সা, যেগুলোর ক্রয়মূল্য ১১ টাকা ৩৬ পয়সা।

বর্তমানে ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ১৮২ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মোট ইউনিটের ২০ দশমিক ৫২ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৬০ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে, ১ দশমিক ১৯ শতাংশ বিদেশী এবং বাকি ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ ইউনিট সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে। ফান্ডটির উদ্যোক্তা গ্রামীণ ব্যাংক আর কাস্টডিয়ান হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফান্ডটির ইউনিট সর্বশেষ ১৬ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গতকাল এর সমাপনী দর ছিল ১৬ টাকা ৬০ পয়সা। ডিএসইর তথ্যানুযায়ী ফান্ডটির সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত ১৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

পিডিএসও/রিহাব