করোনা ঠেকাতে অ্যাপ দিয়ে নজরদারি!

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২০, ১৭:৪১

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে করোনা রুখতে সরকারের মোবাইল অ্যাপ নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার বিতর্ক। অভিযোগ করা হয়েছে, এই অ্যাপ গোপনীয়তার অধিকার ভঙ্গ করছে। নাম আরোগ্য সেতু অ্যাপ। করোনা নিয়ে সব তথ্য সেখানে রয়েছে, আর রয়েছে একটা বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে সেটা ধরা পড়ার ১৪ দিন আগে কারা তার সংস্পর্শে এসেছেন তা অ্যাপ জানিয়ে দেবে। যদি অ্যাপ ব্যবহারকারী কেউ করোনায় আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন তা হলে নিজেকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। তারপর অ্যাপই বলে দেবে কবে তিনি আবার বাইরে যেতে পারবেন। অ্যাপ এটাও বলে দেবে কখন বেরনোটা তুলনায় নিরাপদ। কোথায় করোনা হয়েছে, কতজন আক্রান্ত, করোনা হলে কী করতে হবে, করোনা ঠেকাতে কী করতে হবে, কাছাকাছি কোন দোকান খোলা, তাও বলে দেবে অ্যাপ।

আর মোদি সরকার ফরমান জারি করেছে, সব কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে এই অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এমনকি বেসরকারি সংস্থায় যারা কাজ করেন, তাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। বেসরকারি অফিসের কর্তা নিশ্চিত করবেন, যাতে সবাই এই অ্যাপ ডাউনলোড করেন। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের দিল্লি ঘেঁষা শহর নয়ডার ফরমান আরো কঠোর। অ্যাপ ডাউনলোড না করলে এক হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের জেল। শুধু সরকারি বা বেসরকারি অফিসের কর্মী নন, এই অ্যাপ সবাইকে ডাউনলোড করতে হবে।

ৎকেন্দ্রীয় সরকারের এই অ্যাপ নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাধিক সংগঠন দাবি করেছে, এই অ্যাপ লোকের গোপনীয়তার অধিকার ভঙ্গ করছে। এই অ্যাপ ব্লুটুথ ও জিপিএসের মাধ্যমে কাজ করে। যার কাছে এই অ্যাপ আছে, তার গতিবিধি রেকর্ড হয়ে যায়। তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করছেন, সেটা যেমন জানা যায়, তেমনই তার ব্যক্তিগত তথ্য, তার কনট্যাক্টসসহ সব তথ্যই পৌঁছে যাচ্ছে সরকারের কাছে।

বিতর্ক বাড়ছে দেখে সরকারের তরফে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অ্যাপের গোপনীয়তার নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সবার সুবিধার জন্যই ব্যবহারকারীর লোকেশন বা তিনি কোথায় আছেন, সেই তথ্য নেওয়া হয় এবং তা সার্ভারে নিরাপদে এনক্রিপ্ট করে রাখা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় কন্ট্যাক্টদের সম্পর্কে তথ্য দিলে তা স্টোর করে রাখা হয় এবং তিনি করোনায় আক্রান্ত হলে তবেই তা দেখা হয়।

 এই অ্যাপকে আরো উন্নত করা হচ্ছে এবং পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে সবার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ ও গোপন আছে। টিম আরোগ্য সেতু জানিয়েছে, কারো কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি।

পিডিএসও/তাজ