প্রযুক্তি নির্ভর পানির ট্যাংক পরিস্কারে ‘ক্লিনটিম@উত্তরা’

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৯, ১৬:৩৬ | আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ১৬:৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবদেহের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগের উৎপত্তি ঘটে পানিবাহিত রোগের মাধ্যমে। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য পানিতেই থাকে রোগ জীবাণুর উৎস বলে চিহ্নিত এসব ব্যাক্টেরিয়া। নিজেরা একটু সচেতন হলে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াজনিত পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় খুব সহজেই। নিরাপদ পানি এখন সবার জন্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই, নিরাপদ পানি সকলের অধিকার, এমন একটি শ্লোগান আজ বিশ্বব্যাপি আলোচিতও হচ্ছে। অন্যদিকে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি সংকটও দিন দিন প্রকট হতে থাকবে। এমন বাস্তবতায় নিরাপদ পানির প্রয়োজনীয়তা ও পানিকে অধিকতর নিরাপদ করার পদ্ধতি ভোক্তাদের গ্রহণ করতেই হচ্ছে।

এমন একটি বাস্তবতাকে সামনে রেখে বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় প্রথমবারের মতো বাড়ির পানির ট্যাংকি পরিস্কারের অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা বদরুল আলম মজুমদার। তিনি প্রতিদিনের সংবাদ অনলাইনকে বলেন, বাসা বাড়ির ব্যবহার করা পানিকে অধিক নিরাপদ রাখতে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে শুধু বাড়ির মালিক নয়, মালিক-ভাড়াটিয়া সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমাদের উত্তরাতে এমন অনেক বাড়িওয়ালাকে আমি চিনি যারা তাদের ব্যবহৃত পানির ট্যাংকি অনেক দিন থেকেই পরিস্কার করেন না, বা এটাকে বেশি গুরুত্বও দিতে চান না। পানির রির্জাভকে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে বছরে রুটিন করে দুই বার পরিস্কার করতে হবে। এটা করতে হবে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে। বাজারের ডিটারজেন্ট অথবা সাবান-ফেনা দিয়ে পরিস্কার করা হলে রোগের জীবাণু পুরোপুরি মুক্ত হয় না। আবার বাসা বাড়ির দারোয়ান বা অরডিনারি লেবার দিয়ে পানির ট্যাংকি পরিস্কার করার অভ্যাস আমাদের ত্যাগ করতে হবে। এটাতে অনেক বেশি ঝুঁকি থাকে এবং ঠিক মতো পরিস্কারও হয় না। আমরা অনেক কিছুতে আধুনিকতাকে গ্রহণ করেছি, তাহলে এখানে কেন নয়। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার কিছু বেসিক গাইড লাইন মেনেই আমরা প্রথমবারের মতো উত্তরাতে এ সেবা নিয়ে এসেছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে পানি সংরক্ষণের রিজার্ভ ও সাপ্লাই ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিচর্যা করলে ৮০ শতাংশ রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঢাকায় যদি ২৫ লাখ রেজিস্টার্ড বিল্ডিং থাকে তাহলে আপাত হিসাবেই বলা যায়, ৫০ লাখ পানির ট্যাংক আছে। এ বিষয়ে বাড়িওয়ালাদের আরো অধিক স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। কেননা ঢাকা ওয়াসার পানি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। নিরাপদ পানির সরবরাহের অভাবে প্রতিদিনই প্রায় ময়লা আবর্জনা পানির ট্যাংকিতে এসে জমা হয়। সেগুলো পচে গলে পানির রং ও স্বাদে ব্যপক পরিবর্তন ঘটে, তাছাড়া নিজ চোখে এসব ময়লা আবর্জনা দেখে সেই পানি পান করার বা ব্যবহার করার মতো অবস্থা থাকে না। নগর বাসীর প্রতিটি নাগরিকের উচিত, খাদ্যকে সব সময় ভেজাল মুক্ত রাখার চেষ্টা করা। আর এক্ষেত্রে পানির নিরাপত্তা বা এর শোধন নিয়ে আরো বেশি সর্তক হতে হবে।

ক্লিন টিমের সেবা প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা আরো বলেন, পানিকে নিরাপদ রাখার এ সেবামূলক কাজটি আমরা অর্গানাইজড ভাবেই করছি। ভোক্তার মেম্বারশিপ কোর্ড ব্যবহার করে আমরা একটি সংক্রিয় সফটওয়ারের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি করে থাকি। যেমন ধরুন, একটি বাড়ির পানির ট্যাংকি আমরা জানুয়ারির ১০ তারিখ পরিস্কার করলে পরবর্তীতে ঠিক ৬ মাস পর সেই তারিখে আমরা বাড়িওয়ালাকে একটি স্মরণ ম্যাসেজ দিয়ে থাকি। এতে বাড়িওয়ালার প্রয়োজন মতো সেবা পেতে কোনও হ্যাসেল পোহাতে হয় না। আর আমাদের এ সেবামূল্য গতানুগতিক লেবারের চেয়ে কোনও অংশেই বেশি নয়।

পিডিএসও/রি.মা