ঈদে বেড়েছে অনলাইনে কেনাকাটা

প্রকাশ | ০২ জুন ২০১৯, ১৬:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত পুরো দেশবাসী। ছোট-বড় বিপণিবিতানগুলোর পাশাপাশি ঈদের জমজমাট কেনাকাটা চলছে অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এফ-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতেও।

অন্য যেকোনো সময়ে অনলাইনে ঈদ কেনাকাটার তুলনায় এবার সব থেকে বেশি লেনদেন হওয়ার আশা করছেন দেশীয় বাজারের ই-কমার্স খাত সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরের এলাকার মানুষরা অনলাইনে সেরে নিচ্ছেন ঈদ কেনাকাটা। দারাজ, অথবা ডটকম, বাগডুম, আজকের ডিল, ইভ্যালির মতো অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোর প্রতি আস্থা রাখছেন ক্রেতারা। এছাড়াও গ্রাহকদের অর্ডারে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে এফ-কমার্সের বহুল জনপ্রিয় পেজ ও গ্রুপ পরিচালনাকারীদের।

অনলাইনে নিয়মিত কেনাকাটা করেন এমন বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কে যানজট এবং শপিং সেন্টারগুলোর ভিড়ের যন্ত্রণায় অনলাইনই হয়ে উঠছে অনেকের কেনাকাটার প্রথম পছন্দ। অনলাইন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অথেনটিক শপ, পণ্যের গুণগতমান বজায় রাখার প্রতি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিশ্রুতি এবং উন্নত গ্রাহক সেবার কারণে গ্রাহকরাও আকৃষ্ট হচ্ছেন কেনাকাটার আধুনিকতম এ মাধ্যমে।

কেনাকাটায় সাধারণ দামের ওপর মূল্যছাড় এবং সর্বোপরি অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করলে ক্যাশব্যাকের অফার লুফে নিচ্ছেন গ্রাহকরা। নারী ও পুরুষ সব ধরনের ক্রেতারাই কিনছেন ঈদের নানা পণ্য। নারী ও পুরুষদের পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিকস ও গ্যাজেটস, ফ্যাশন আইটেমসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যই অনলাইনে কিনছেন গ্রাহকরা।

রাজধানীর এক বাসিন্দা অনলাইনে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, সড়কে এমনিতেই অনেক জ্যাম। আর শপিংমলগুলোতে মানুষের অনেক ভিড়। সত্যি কথা বলতে এমন অবস্থায় একটি পণ্য কেনার সময় যাচাই করে দেখারও সুযোগ পাওয়া যায় না। তার থেকে ভালো ইন্টারনেট থেকে কেনা। পণ্যের বিস্তারিত দেখা যায়। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বাসায় বসে পণ্য যাচাই করে তারপর দাম পরিশোধ করারও সুযোগ থাকছে। আর অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করলে তো আরো ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। তাই অনলাইনই ভালো।

ঈদের কেনাকাটায় ঠিক কত টাকার লেনদেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে হয় তার সঠিক হিসেবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-ক্যাবের কাছে না থাকলেও যেকোনো বারের থেকে এবার অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি আর্থিক লেনদেন হবে বলে আশা সংগঠনটির।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল গণমাধ্যমকে বলেন, এখন আমাদের দেশে ই-কমার্সে বার্ষিক ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যার বড় অংশই দুই ঈদের সময়ে। আর ঈদুল ফিতরের সময় এই কেনাকাটার চাপ থাকে সব থেকে বেশি। আমরা আশা করছি এবারের ঈদে লেনদেন অন্যান্য সময়ের থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে। আমাদের সংগঠনে ৯৫০টিরও বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠান আছে যারা এখন প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার অর্ডার গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করছেন। অন্যান্য সময়ে এর পরিমাণ ২০ হাজারের কিছু বেশি থাকে।

ই-কমার্সগুলোও গ্রাহকদের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও বেড়েছে এখানে। যার কারণে গ্রাহকরা নানাবিধ পণ্যের সমাহার ঘরে বসে এক জায়গাতেই খুব সহজে পাচ্ছেন। ফলে ই-কমার্সের পুরো সিস্টেমেই একটা বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এসব কিছুরই ফল ই-কমার্সে গ্রাহকদের এ আস্থা।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান গণমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই-কমার্স শপিং ট্রেন্ডের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে বাংলাদেশ।

পিডিএসও/তাজ