মোবাইল অপারেটরদের স্বার্থরক্ষার কারণেই কলরেট বৃদ্ধি

মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি এ মন্তব্য করেছেন

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৯

অনলাইন ডেস্ক

উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ভয়েস কলের পরিমাণ কমে গিয়েছে। আমাদের দেশেও ভাইবার, হোয়াটসআপ, ইমু ব্যবহার করে প্রায় ২ শতাংশ। আর অবৈধপথে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও প্রায় ৩ শতাংশ। অতএব ৯৫ ভাগ গ্রাহকই সরাসরি ভয়েস কলের উপর নির্ভরশীল। বর্তমান কলরেট বৃদ্ধির ফলে গড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা গ্রাহকের খরচ বৃদ্ধি হয়েছে। এতে করে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা গ্রাহকদের ব্যয় হতে পারে।

মোবাইলে ভয়েস কলরেট বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ। সংগঠনটি ভয়েস কলরেট কমাতে ৯ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। 

লিখিত বক্তব্যে মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইইটিইউ) সহায়তায় বিটিআরসি ভয়েস কলের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রেট বেঁধে দেয়।

সেই সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি কস্ট মডেলিংও করেছিল। কিন্তু গত ১৪ আগস্ট ২০১৮ হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি প্রজ্ঞাপন জারী করে গ্রাহকদের ম্যাসেজের মাধ্যমে জানানো হলো এখন থেকে ভয়েস কলরেটে অন নেট অফ নেট থাকছে না।

রেট হবে পূর্বের ফ্লোর রেট ২৫ পয়সার স্থলে ৪৫ পয়সা আর সর্বোচ্চ সিলিং রেট ২ টাকা থাকবে। এর মধ্যে অপারেটররা যার যার সুবিধা দিতে পারবে। কারণ একটি অপারেটরের ৯০ শতাংশ কল হচ্ছে অন নেটে। অন্য অপারেটরদের ৭০ শতাংশ। আর রাষ্ট্র মালিকানাধীন টেলিটকের ১০ শতাংশ। যুক্তি হিসাবে বলা হলো- অন নেট, অফ নেট এক হওয়াতে মনোপলি ভাঙ্গা যাবে।

মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, যুক্তি অত্যন্ত হাস্যকর। কারণ প্রথমত মনোপলি ভাঙ্গার কাজ এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার নয়, এজন্য আমাদের দেশে প্রতিযোগিতা কমিশন রয়েছে, আছে আইনও। যদিও তা কাগজে কলমে। দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে দিচ্ছেন কাকে? ওই অপারেটর বা অন্য কোন অপারেটরকে। এই ক্ষেত্রে গ্রাহকদের লাভ কোথায়? তৃতীয়ত, প্রজ্ঞাপনের ফাঁক ফোকর থাকায় গ্রাহকরা চরমভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ল।

কারণ আপনি ২৫ পয়সার জায়গায় ৪৫ পয়সা করেছেন। আর সর্বোচ্চ ২ টাকা নিতে বলেছেন। তাহলে কেউ যদি ১.৮০ পয়সা বা সর্বোচ্চ ২ টাকায় নেয় তার জন্য তাকে কি দায়ী করা যায়? দেশে বর্তমানে সক্রিয় সিমের সংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লক্ষ। গ্রামীণফোনের ৭ কোটি ২ লক্ষ, রবির ৪ কোটি ৫৩ লক্ষ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৩৪ লক্ষ, টেলিটকের ৩৭ লক্ষ।

বিটিআরসির হিসাব মতে গ্রামীণফোনের অন নেট কল হয় ৯০ শতাংশ, রবির ৭১ শতাংশ, বাংলালিংকের ৬৯ শতাংশ ও টেলিটকের ১০ শতাংশ।

অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবও যদি ধরি তাহলে দেখা যায় বর্তমান রেটে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে ৫০ শতাংশ। যার প্রমাণ রবির বর্তমান কলরেটের বিজ্ঞাপন। অন্যদিকে গ্রামীণফোন প্রতি মিনিট নিচ্ছে ২ টাকা।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, আপনারা দ্রুত বর্তমানে নেয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। সেই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির কারণ পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করুন।

দেশে বিপুল সংখ্যক সক্রিয় সিমের বিপরীতে হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। অর্থাৎ একজন গ্রাহক ২ বা অধিক সংখ্যক সিম ব্যবহার করে কেবলমাত্র অন নেট সুবিধা পাওয়ার জন্য। এ সকল বিষয় বিচার বিবেচনা না করে শুধুমাত্র অপারেটরদের স্বার্থরক্ষার কারণেই এই কলরেট বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

মহিউদ্দীন আরও বলেন, আমরা মনে করি সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টার এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি আলাদা আইন ও কমিশন গঠন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ খান, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম বুলু।

পিডিএসও/তাজ