ভারতে বন্ধ হতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৮, ১৫:০৬

অনলাইন ডেস্ক

সাধারণ মানুষের কাছে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম, সেটাই এখন সন্ত্রাসীদের প্রথম পছন্দের অ্যাপ। ফলে সেটিই এখন ভারত সরকারের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। কারণ দেশের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। 

এই সুযোগে দেশবিরোধী শক্তিগুলো, সন্ত্রাসীরা, সমাজবিরোধীরা তথ্য আদান-প্রদানের স্বাধীনতার পুরো ফায়দা তুলছে। নিজেদের ও সাংগঠনিক স্বার্থসিদ্ধি করতে চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে হোয়াটসঅ্যাপের। তাই তা নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ভারত সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছিল যাতে হোয়াটসঅ্যাপে লেনদেন হওয়া তথ্য, ছবি, ভিডিও যদি ফিল্টার বা সেন্সর করা যায়। কিন্তু মেসেজ এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড হওয়ায় সেটার কোনও উপায় নেই। এজন্য ঝামেলা এড়াতে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার ভারতে পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খুব গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি কাশ্মীরে হিংসা, অশান্তি জিইয়ে রাখতে দেশবিরোধী শক্তিগুলো হোয়াটসঅ্যাপকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। চলতি মাসেই মেঘালয়ের শিলংয়ে কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা গোষ্ঠী সংঘর্ষে উসকানি দিতে হোয়াটসঅ্যাপকে যথেচ্ছ ব্যবহার করা হচ্ছে। গুজব ছড়িয়ে ও উসকানির মাধ্যমে দাঙ্গা, অশান্তি, হিংসা বাধাতে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপকেই। তাই নিরুপায় হয়ে ফেসবুকের মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপকে ‘নিষিদ্ধ’ করার কথাই ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এদিকে ভারত সরকারের নির্দেশ বা আইন না মানলে হোয়াটসঅ্যাপকে শিগগিরই নিষিদ্ধ করা হবে। ঠিক এ কারণেই পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস ও ভিডিও কলিং নিষিদ্ধ। চীনে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ দুটোই নিষিদ্ধ। চীনারা উইচ্যাটে কাজ চালান। তাই হোয়াটসঅ্যাপ ভারত সরকারের কথা না শুনলে চীন বা আরব দেশগুলোর মতো বন্ধ হয়ে যেতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ।

পিডিএসও/তাজ