বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

দুর্গম এলাকায়ও মিলবে ইন্টারনেট সেবা

তৈরি হবে অনলাইনে স্কুলে পড়ার সুযোগ | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে তরুণরা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৮, ১৬:০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্গম এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ দিয়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়ে প্রযুক্তিবৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইন্টারনেট পৌঁছালে ওইসব এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রোগ্রামিংয়ে এগিয়ে যাবে। দূরের শিক্ষার্থীরা অনলাইন স্কুলে পড়বে। চিকিৎসক দেখাতে জেলা শহর বা ঢাকায় আসতে হবে না। টেলিমেডিসিনের (দূর-চিকিৎসা) মাধ্যমে এলাকায় বসে রোগী অভিজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পারবেন, পাবেন ব্যবস্থাপত্রও।

দ্বীপ এলাকার জেলেরা মাছের দাম জেনে বিক্রি করতে পারবেন। জানা গেছে, সার্ক স্যাটেলাইট (সাউথ এশিয়ান স্যাটেলাইট) বাংলাদেশের ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যদি সার্ক সাটেলাইট বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারে, তাহলে দ্বীপ এলাকা, ছিটমহল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সার্ক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছানো হবে। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে এ কাজে ব্যবহার না করে তখন ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হবে। তবে সার্ক স্যাটেলাইট ব্যবহার করা সম্ভব না হলে তখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটই হবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর ইন্টারনেটের উৎস।

গত ৫ এপ্রিল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সন্দ্বীপ সফরে যান। সন্দ্বীপের জনগণকে কীভাবে কানেক্টিভিটি দেওয়া যায়, ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া গেলে দ্বীপ এলাকাটির কী ?উন্নয়ন হতে পারে তা সরেজমিনে দেখতে যান তারা। সফর থেকে ফিরে আসার পর পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনের আভাসও মিলেছে। এ বিষয়ে তখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য বাড়ি বাড়ি ইন্টারনেট পৌঁছানো।

এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। সেটা তৈরি করতে গিয়ে দেখেছি এখনো দেশের ৭৭২টি ইউনিয়ন কানেক্টিভিটির আওতায় নেই। এর মধ্যে আবার ২২৬টি আবার অতি দুর্গম এলাকায়। এ ইউনিয়নগুলো এবং ছিটমহলেও ইন্টারনেট পৌঁছাতে হবে। আমরা ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলে আইএসপিগুলোকে (ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান) বলব তোমরা এবার বাড়ি বাড়ি ইন্টারনেট পৌঁছে দাও। সব জায়গায় তো আর বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো যাবে না। সে ক্ষেত্রে সেখানকার স্কুল, কলেজ, বাজারে ইন্টারনেট পৌঁছানো হবে।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের বিভিন্ন দ্বীপ এলাকা, হাওর, ছিটমহল, প্রত্যন্ত এলাকা ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারলে ইন্টারনেটনির্ভর শিক্ষা দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া টেলিমেডিসিন (দূর-চিকিৎসা) সেবা চালুর মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার কমানো যাবে। জটিল রোগীর চিকিৎসা গ্রামে বসেই করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, সন্দ্বীপের মাছ ও ফসলের ন্যায্যমূল্য, হাওর এলাকায় মাছ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন স্কুল বা দূরশিক্ষণ অনুষ্ঠান, ছিটমহলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। অনুন্নত এলাকাকে ইন্টারনেট সভ্যতার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সরকার, কৃষি নিয়ে আমরা যা যা ভাবী তার সবকিছুই এ এলাকায় ইন্টারনেট দিয়ে করা হবে।

প্রসঙ্গত, দেশের দুই শতাধিক হাওর, বিল, প্রত্যন্ত এলাকা ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে এই সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব এলাকার ৭৭২টি ইউনিয়ন ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। যার মধ্যে ২২৬টি একেবারে দুর্গম এলাকায়। এর মধ্যে কয়েকটি ছিটমহলও রয়েছে।

এরই মধ্যে দেশের ১ হাজার ২০০ ইউনিয়নে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। এ ছাড়া সরকারের ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে কানেক্টিভিটি দেওয়া হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ