টেলিটকে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানি

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ১১:৪৩

গাজী শাহনেওয়াজ

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টেলিটকে বিনিয়োগের ব্যাপারে একাধিক বিদেশি কোম্পানি আগ্রহী। বড় অঙ্কের বিনিয়োগেও রাজি তারা। এ ক্ষেত্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং টেলিটকের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে টেলিটক ধীর গতিতে চলছে। অন্যদিকে টেলিটক বলছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়টি তাদের পর্যায়ে নেই; এগুলো খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয় ।

জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, টেলিটকে বিনিয়োগ করতে চাইছে অনেকগুলো ঐহিত্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ প্রস্তাবও দিয়েছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে কোম্পানি। সেখান থেকে সমন্বিত প্রস্তাব এলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী বলেন, সব বিনিয়োগকারীকে স্বাগত জানাই।

কিন্তু সবার আগে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না— তা আগ্রাধিকার দেওয়া হবে। টেলিটকে ফোর জি সম্প্রসারণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, টেলিটক নিয়ে যখন কোনো কথা ওঠে, তখন ওই প্রশ্নই উঠে আসে— এই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কত। যেখানে জিপির সব মিলিয়ে বিনিয়োগ ৩৯ হাজার কোটি টাকা; টেলিটকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের মার্কেট শেয়ার মাত্র ৩ শতাংশ, এই পর্যায়ে জিপির ৪৮ শতাংশ।

টেলিটকের এমডি কাজী মো. গোলাম কুদ্দুসের কাছে বিদেশি বিনিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সবকিছু দেখভাল করছে মন্ত্রণালয়। ফোর জি প্রসঙ্গে এমডি বলেন, কবে থেকে গ্রাহকরা এই সেবা পাবেন এখনো জানি না। সময় নির্ধারণ করে বলতে পারব না। জানা গেছে, টেলিটকে বিনিয়োগের জন্য অনেক দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানিগুলো। এমন একটি সৌদি সরকারের মালিকানাধীন টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি টেলিকম কোম্পানি (এসটিসি)’। শুধুমাত্র ফোর জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণেই এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এর আগে তারানা হালিম যখন এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সে সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল; তখন তা নাকচ করা হয়। কারণ, রাষ্ট্রীয় মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর হলে ‘টেলিটক’ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, মন্ত্রণালয় এমনটাই জানিয়েছিল। এ ছাড়া শর্তজুড়ে মন্ত্রণালয় আরো বলেছিল, এ পর্যায়ে বিনিয়োগের সম্মতি চাইলে নির্বাহী বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে। নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর এসটিসি ফের তৎপরতা শুরু করে; যা পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সৌদি প্রতিষ্ঠান এসটিসি ছাড়াও জাপান, ভিয়েতটেল এবং কেডিডিআই বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এদিকে, গ্রামীণ, রবি ও বাংলালিংক চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ফোর জি সেবা চালু করলেও টেলিটকের এখনো কোনো সুখবর নেই। মূল,ত বিনিয়োগে অপ্রতুলতার কারণেই বেসরকারি সেলফোন কোম্পানিগুলো থেকে অনেক পিছিয়ে। অন্য অপারেটররা যেখানে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, টেলিটক সেখানে মাত্র ২০০ কোটি টাকায় নেটওয়ার্ক উন্নয়ন করে ফোর জি’তে যাওয়ার চেষ্টায় আছে।

টেলিযোগাযাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির হিসাবে, দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটির বেশি। এর মধ্যে ছয় কোটি ৭৪ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছে গ্রামীণফোনের হাতে। এ ছাড়া রবির গ্রাহক সংখ্যা চার কোটি ৫৬ লাখ, বাংলালিংকের তিন কোটি ৩৩ লাখ এবং টেলিটকের মাত্র ৩৯ লাখ।

তবে, টেলিটক নিজেরা অর্থিকভাবে দুর্বল হলেও গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের বিনিয়োগের সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম। কারণ, চিন্তা একটাইÑ অন্যরা সুযোগ পেলে তাদের কর্তৃত্ব থাকবে কি না। তবে মন্ত্রণালয় কিছুটা আগ্রহী হওয়ায় কিছুটা হলেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন টেলিটককে রাজি করিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দিতে মন্ত্রণালয় কতটুকু সহায়তা পাবে— এ ইস্যুতে নানামহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

পিডিএসও/তাজ