কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ০৮:১৪ | আপডেট : ১৩ মে ২০১৮, ০৮:৩২

প্রতীক ইজাজ

অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হলো বাংলাদেশের। মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক মহাকাশ জয়ের স্বপ্নযাত্রা। শুধু দেশই নয়; বিশ্ব ছাড়িয়ে বাংলাদেশের এখন সফল পদচারণা মহাকাশেও। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব স্যাটেলাইট যুগে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক তৈরি করল দেশটি। বিশ্বের স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর ৫৭তম দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো মহাকাশে বাংলাদেশও পদচিহ্ন আঁকল। এই গৌরবান্বিত কীর্তির জন্য ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখা থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের। এই স্বপ্নযাত্রার শুভ সূচনার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে মানুষ।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে ও বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে ফ্লোরিডার স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কে নিয়ে মহাকাশে উড়ে যায় ফ্যালকন-৯। এই কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯ থেকেই মানুষকে নিয়ে চাঁদে রওনা হয়েছিল চন্দ্রযান অ্যাপোলো-১১। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এখন থেকে লাল সবুজের পতাকাখচিত ও বাঙালির স্বাধীনতা-সংগ্রামের সেøাগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ সম্বলিত বাংলাদেশের উপগ্রহটিও বীরদর্পে মহাকাশ থেকে প্রদক্ষিণ করবে পৃথিবীকে। এই সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচারে নতুন যুগের সূচনা হলো বাংলাদেশে।

সফল উৎক্ষেপণের দুই ধাপ পেরিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহটির

কক্ষপথে পৌঁছানোর সংবাদ জানিয়ে এক টুইট বার্তায় সংস্থাটি লিখেছে, স্যাটেলাইটের প্রথম ধাপের পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্যালকন-৯ রকেট ইতোমধ্যে ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসেছে।

গতকাল দুপুরেই উৎক্ষেপণের প্রথম ১০ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। বিজ্ঞানের হিসেব অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই মহাকাশযানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে গাজীপুরের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের। এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে চলছে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ।

সফল উৎক্ষেপণের গৌরব নিয়ে আনন্দে ভাসছে দেশ ও মানুষ। বিশ্ব গণমাধ্যমও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে উৎক্ষেপণের সংবাদ। পুরো উৎক্ষেপণ পর্বটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ইউটিউব চ্যানেলেও উৎক্ষেপণ পর্ব সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। বিভিন্ন জেলা শহরে বড় পর্দায় সেটা প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করা হয়। মধ্যরাতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফল উৎক্ষেপণের জন্য দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার সকালে এক বার্তায় তিনি এ অভিনন্দন জানান। বার্তায় আবদুল হামিদ বলেন, এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করল। জাতি হিসেবে এটা অনেক গর্বের ও আনন্দের। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্থায়িত্ব কামনা করেন।

উৎক্ষেপণের পরপরই এক ভিডিও বার্তায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রার আরো একটি মাইলফলক যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। আজ আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির অগ্রগযাত্রার ধারাবাহিকতায় যোগ হয়েছে আরো একটি মাইলফলক। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আজ আমরা মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে ফ্লোরিডায় স্পেসএপের লঞ্চিং স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একটি প্রতিনিধি দল।

উৎক্ষেপণের পর আবেগাপ্লুত জয় কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ, তা আরো উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হলো। দক্ষিণ এশিয়া তথা এশিয়া মহাদেশ ছাড়িয়ে গোটা বিশ্ব এখন অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করবে। স্পেস সেন্টারে টি শার্ট ও টুপি পরিহিত জয়ের হাতে ছিল লাল-সবুজের পতাকা। উৎক্ষেপণের দৃশ্য মনিটরে দেখে তিনি বারবার উল্লাস করছিলেন। উৎক্ষেপণের আধা ঘণ্টা পর স্যাটেলাইটটি জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছানোর দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ওঠেন। এ সময় ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথমে টেলিফোন এবং পরে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন জয়। অন্যপ্রান্ত থেকে শেখ হাসিনা এ প্রকল্প যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। প্রবাসীদেরকেও অভিবাদন জানান তিনি।

এর আগে বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মিনিটে এসেই থমকে যায় সেকেন্ডের কাঁটা। রকেটের যাত্রা (স্টার্টআপ মোড) শুরু হওয়ার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে আর উড়ছে না বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। ঘোষণা করা হয়, শুক্রবার ফের চালু হবে কাউন্টডাউন। সে অনুযায়ী শুক্রবার সফল উৎক্ষেপণ হয় কৃত্রিম উপগ্রহটির।

নানা সম্ভাবনা, লাভ : মহাকাশে পাড়ি জমানো দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে ত্রিমুখী লাভ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হলো—তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, আর্থিক সুবিধা এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। বিশেষ করে এসব সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেটি হলো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অভিজাত দেশের ক্লাবে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

বিটিআরসির বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের এই প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এখনো যেসব দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সুবিধার আওতায় আসেনি, সেসব এলাকায় এই সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থান করে স্যাটেলাইটটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং পর্যবেক্ষণে দেশের সক্ষমতা সম্প্রসারিত করবে। সার্ক দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরঘিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কিস্তান এবং কাজাকিস্তানের একটি অংশ স্যাটেলাইটটির আওতায় আসবে।

বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বর্তমান টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যদি কখনো ভেঙে পড়ে তখন গোটা দেশব্যাপী এই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল রাখা ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কৃত্রিম স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে প্রায় ৩০টি স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য প্রতি মাসে একটি চ্যানেলের ভাড়া বাবদ গুনতে হয় তিন থেকে ছয় হাজার মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে চ্যানেলগুলোর খরচ হয় ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এই স্যাটেলাইট ভাড়া কমবে। আবার দেশের টাকা দেশেই থেকে যাবে।

শুধু তা-ই নয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার বা সক্ষমতা অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ থাকবে। এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে বলে সরকার থেকে বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এই স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার বিক্রির জন্য সরকারের গঠন করা বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি (বিসিএসবি) লিমিটেড কাজ শুরু করেছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আরেকটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য হবে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ড। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার থেকে ৪০ মেগাহার্টজ হারে তরঙ্গ বরাদ্দ (ফ্রিকোয়েন্সি) সরবরাহ পাওয়া সম্ভব। এ হিসাবে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো এক হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ। কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এই এক হাজার পুরোটা ব্যবহার করা যাবে না। তবে কমপক্ষে এক হাজার ৪০০ মেগাহার্টজ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইটের এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক এম কায়কোবাদ বলেন, সরকারকে স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনের কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। সব বিষয় যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎক্ষেপণের পর মুহূর্ত থেকে এ স্যাটেলাইটের মেয়াদ থাকবে ১৫ বছর। অযথা সময়ক্ষেপণ করা হলে বাংলাদেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে তৈরি এ স্যাটেলাইটের উদ্দেশ্য পূরণ কঠিন হবে।

স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু- ১ : এর ওজন তিন দশমিক ৭ মেট্রিক টন। মোট ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরের জিওস্টেশনারি কক্ষপথে থাকবে। যোগাযোগ স্যাটেলাইট বেশিরভাগই রয়েছে এই কক্ষপথে। তীব্র গতিতে পাক খাওয়ার কারণে এসব স্যাটেলাইট টিকে থাকে কক্ষপথে। এর কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। উৎক্ষেপণের সময়ই পর্যাপ্ত জ্বালানি ভরে দেওয়া হয়েছে। কেননা, মহাকাশে রিফুয়েলিংয়ের কোনো সুযোগ নেই।

ন্যূনতম আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১৫ বছর। এর মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর তিন বছর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘থ্যালেস অ্যালেনিয়া’। এর পর গঠিত ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ দেখভাল করবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। স্যাটেলাইট তৈরি এবং ওড়ানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। এ জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুওে তৈরি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন (ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন।

​পিডিএসও/হেলাল