আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলের সুযোগ নিতে পারেন অন্যরা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৬:১১

মো. ইমাম হোসেন, পিরোজপুর

পিরোজপুরে তিনটি আসনে জয় নির্ভর করবে কোন দল কেমন প্রার্থী নির্ধারণ করছে তার ওপর। বিএনপি গোপনে প্রচার চালালেও এখন আওয়ামী লীগের বড় সমস্যা অভ্যন্তরীণ কোন্দল। নির্বাচনকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও তারা রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে উভয় গ্রুপ মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সভা-সমাবেশ শুরু করছে, বিভিন্নভাবে চালাচ্ছে দলীয় ও সাংগঠনিক প্রচার-প্রচারণা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার, ব্যানার সাঁটিয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। নেতাকর্মীরাও শুরু করেছেন নানান হিসাব-নিকাশ, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্য দলগুলোর এ জেলায় তেমন কোনো তৎপরতা না থাকলেও গোপনে কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে এ জেলায় সাঈদী পরিবারের উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এ কারণে পিরোজপুরের তিনটি আসনের দুটিতেই জয়-পরাজয় নির্ভর করবে জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পরিবারের সদস্যের নির্বাচন করা না করার ওপর বলে মনে করে সচেতন মহল। যদিও সাঈদীর এক ছেলে ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ বিন সাঈদী এ প্রতিবেদককে তার পরিবারের কেউ নির্বাচন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জেলায় একটি আসনেও জিততে পারেনি আওয়ামী লীগ। তিনটি আসনের একটিতে জামায়াতে ইসলামী, একটিতে বিএনপি ও একটিতেন জাতীয় পার্টি (জেপি) জয়লাভ করে। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনটি আসনেই জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে আওয়ামী জোট। একটি আসনে জয়লাভ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে তিনটি আসনেই জয়লাভ নির্ভর করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় জোটের প্রার্থী নির্বাচনের ওপর।

পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর ও নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) : এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসন থেকে টানা দুবারের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম। জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. হাবিবুর রহমান মালেক। মাঠে সক্রিয় না থাকলেও কেন্দ্রে জোর লবিং চালাচ্ছেন সদ্য মনোনীত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এনায়েত খানের মেয়ে শেখ এ্যানী রহমান।

এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য নৌযান ব্যবসায়ী ফকরুল আলম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন, জেলা বিএনপির সদস্য মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন, আমেরিকা প্রবাসী জাহীদ এফ সরদার সাদী, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এলিজা জামান, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমতের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মেজ ছেলে শামিম বিন সাঈদীও এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব থেকে সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারও প্রার্থী হতে পারেন।

পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভা-ারিয়া ও ইন্দুরকানী) : তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-২ আসন। এ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রয়েছেন জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছেলে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ভা-ারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাভলু, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আহসান কবীরের নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার ব্যাপারে এই মুহূর্তে নিজের তেমন কোনো ইচ্ছা না থাকলেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পরিবারের কাউকে নির্বাচনে টেনে আনার ব্যাপারে তৎপর ইন্দুরকানী উপজেলা জামায়াত ও বিএনপি ঘরানার অনেকে। আর এ ক্ষেত্রে সাঈদীর ছোট ছেলে ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ বিন সাঈদীর নাম এলাকায় আলোচিত হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া এ আসনটিতে মনোনায়ন চাইতে পারেন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকা লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) : একটি মাত্র উপজেলা নিয়েই পিরোজপুর-৩ আসন গঠিত। এখানে বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. এম নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তাজউদ্দিন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. মো. রুস্তুম আলী ফরাজীর ব্যাপারে গুঞ্জন রয়েছে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলীয়ভাবে মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

এ আসন থেকে বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন দুলাল, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এজি আলীম, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলন, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম জোবায়ের এজাজ, জেলা বিএনপির সদস্য চৌধুরী মো. আফজাল, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা জিয়াউল ফারুক শামসু তালুকদার ও জেলা বিএনপির সদস্য কামাল উদ্দিন আকন।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ

"