আ’লীগ-বিএনপির লড়াইয়ে আছে তৃতীয় পক্ষও

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৬:১৯

মঞ্জুরুল হক, জামালপুর

জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনটির দারুণ এক বৈশিষ্ট্য, সর্বশেষ যে দল ক্ষমতায় থাকে পরবর্তী নির্বাচনে সেই দলের মনোনীত প্রার্থী এমপি পদে বিজয়ী হন। সে কারণে আসনটি দখলে রাখাটা আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। আর হারানো এই আসনটি ফিরে পাওয়া বিএনপির জন্য কম বড় চ্যালেঞ্জ নয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অনুদান ও সহযোগিতার নামে অর্থ দিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থিতার কথা। অনেকেই রাস্তার মোড়ে ডিজিটাল ব্যানার টানিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। দুই জোটের কর্মী-সমর্থকরাও প্রার্থীদের সমর্থনে তৎপর রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ পরপর দুবার ক্ষমতায় আসায় এ আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকা বিজয়ের ধারা অক্ষুণœœ রাখাটা এখন তাদের জন্য ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’। তবে দলের প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে চরম মাশুল দিতে হতে পারে দলটিকে। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে তারাও ছেড়ে কথা বলবেন না।

এ আসনে স্বাধীনতার পর তিনবার আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি, একবার কমিউনিস্ট পার্টি ও একবার জাতীয় পার্টি জয়লাভ করেছে। বর্তমানে এ আসনের এমপি জাতীয় পার্টির মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার। তবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির যেকোনো দলের প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৪ দল মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার। ওই নির্বাচনে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নূরুল ইসলাম ও সাবেক সংসদ সদস্য ডাক্তার মুরাদ হাসানের রেষারেষির কারণে ভাগ্য বদলে যায় ১৪ দলের প্রার্থী জাতীয় পার্টির নেতা মামুনুর রশিদ জোয়ার্দারের। তবে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত ও চাঙা করতে না পারায় এ আসনে গতি ফেরেনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম মনোনয়নের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে। তবে দলের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে নির্বিঘেœ নামতে পারবেন কি না তা নিয়ে তারা সংশয়ে রয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করেন অনেকে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসান। তিনিও এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান বলেন, তিনি এমপি থাকাকালে এ আসনের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সেই গতি ফিরিয়ে আনতে এবারও দলের মনোনয়ন চাইবেন।

মনোনয়নপ্রাপ্তির লড়াইয়ে এবার আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও ঢাকার তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আবদুর রশিদ। তিনি রাজধানীর তেজগাঁও (মহানগর উত্তর) থানা আওয়ামী লীগের সভাপতিও। বর্তমানে এ আসনের ভোটারদের কাছে গিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ আবদুুর রশিদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তার ওপর অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব সাফল্য ও সততার সঙ্গে পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়গুলো জানেন। এসব কারণে এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন। তার সমর্থনে নয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতিরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া দলের আরেক প্রার্থী সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পেতে তার নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশ ও দৌড়ঝাঁপের মধ্যে রয়েছেন।

অপরদিকে দীর্ঘদিন সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগকে আগলে রাখা সাবেক এমপি আবদুুল মালেকের ছেলে প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলালের নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থী-দৌড়ে। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এসে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নূরুল ইসলামও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলেন গুঞ্জন চলছে। এদিকে দলের কনিষ্ঠ আরেক প্রার্থী সরিষাবাড়ী কলেজের সাবেক ভিপি জামালপুর জেলা পরিষদের সদস্য খোরশেদ আলম। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান, আমেরিকা প্রবাসী আবদুুস সামাদ আজাদ তারা।

সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন জোটভিত্তিক হলে বড় দুই দলই শরিক দলের জন্য জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনটি ছেড়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে জাতীয় পার্টি থেকে মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর মোস্তফা বাবুল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

"