শোকাবহ আগস্ট

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০৭:৫৩ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৭, ১২:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

একসময় বৈতরণী এসে ঠেকে ঊনসত্তরে। স্বাধিকার আদায়ে শুরু হয় বাঙালির গণঅভ্যুত্থান। জ্বলে ওঠে আগুন। আসে ৭০-এর নির্বাচন। নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। সে গ্লানি পোড়ায় পশ্চিমা শাসকদের। বাঙালিকে রুখে দিতে বেছে নেয় অস্ত্রের পথ। সব পথ বন্ধ। সামনে মৃত্যু। ঠিক তখনই দীপ্ত পায়ে সামনে এসে দাঁড়ান বাঙালির অমোঘ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ডাক দেন। ঘর ছাড়ে মানুষ। পথ দেখান। মৃত্যুর থাবায় মেলে দেয় বুক কোটি জনতা। শুরু হয় বাঙালির স্বাধীনতার লড়াই। তারপর টানা নয় মাস, সেই প্রাণপ্রিয় নেতার নির্দেশেই চলে মুক্তিযুদ্ধ। একদিন স্বাধীন হয় দেশ। পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট-‘বাংলাদেশ।’ জন্ম নেন এক চিরভাস্বর মুখ—জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সেই কালজয়ী মানুষকেই এই আগস্টে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা সপরিবারে। রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার পবিত্র মাটি। বাঙালির ইতিহাসে যোগ হয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়। বাঙালি কাঁদে। কাঁদায় বিশ্ববাসীকে। বুকের খুনে বঙ্গবন্ধু রচনা করেন, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক কালজয়ী ইতিহাস। ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি, মেধা ও প্রজ্ঞায়, বঙ্গবন্ধুকে নেতৃত্ব পেয়ে বসে স্কুলজীবন থেকেই। বেড়ে ওঠেন হিন্দু-মুসলমান, এক কাতারে, এক মানুষে। তার প্রমাণ মেলে ১৯৩৮ সালের একটি ঘটনায়। বঙ্গবন্ধুর বয়স তখন ১৮। পড়েন মিশন স্কুলে। গোপালগঞ্জে আসবেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সভা হবে। প্রদর্শনী হবে। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করার ভার পড়ল স্কুলপড়ুয়া বঙ্গবন্ধুর ওপর। দলমত নির্বিশেষে বাহিনী হলো ঠিকই, কিন্তু দল থেকে সরে পড়তে লাগল হিন্দু ছাত্ররা। কংগ্রেস তাদের স্পষ্ট নিষেধ করল সভায় যোগ না দিতে। প্রদর্শনীতে দোকানপাট না বসাতে। এ খবর শুনে আশ্চর্য হলেন বঙ্গবন্ধু। কারণ, তার কাছে তখন হিন্দু মুসলমান বলে কোনো জিনিস ছিল না। হিন্দু ছেলেদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। একসঙ্গে গানবাজনা, খেলাধুলা, বেড়ানো সবই চলত।

তবু সভা হবে, নেতারা আসবেন। দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন বঙ্গবন্ধু। লোকবল জড়ো হলো দুই পক্ষেরই। একদিকে কংগ্রেস, মুসলিম লীগের সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠন করায় ক্ষিপ্ত হিন্দু সম্প্রদায়-অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু, হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়ে মানুষ। শেষে নিরুপায় বঙ্গবন্ধু মুসলমান ছাত্রদের নিয়েই করল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। সঙ্গে থাকলেন নমশুদ্র কিছু হিন্দু। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই গোপালগঞ্জ এলেন বাংলার দুই নেতা, এক সঙ্গে। সভা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন হলো শান্তিপূর্ণভাবেই। হক সাহেব গেলেন পাবলিক হল দেখতে, সোহরাওয়ার্দী মিশন স্কুলে। বঙ্গবন্ধু তখন সে স্কুলেরই ছাত্র। সেবারই প্রথম সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে পরিচয় বঙ্গবন্ধুর।

পিডিএসও/হেলাল