দুই দলের ডজন প্রার্থী মনোনয়ন দৌড়ে

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০১:৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিআইপি রাজনীতিকদের জেলা কিশোরগঞ্জের সব কটি আসনই এখন সরকারি দলের দখলে। গতবার বিএনপি অংশ না নিলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জেলার ছয়টি আসনই পায় আওয়ামী লীগ। নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা দুটি নিয়ে সংসদীয় আসন কিশোরগঞ্জ-৫। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি মো. আফজাল হোসেন। এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চান তিনি। এ ছাড়া দল থেকে মনোনয়ন চাইছেন অনেকে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে চাঙ্গা বিএনপির স্থানীয় প্রার্থীরা। মনোনয়ন পেতে এখনই এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছেন স্থানীয় বিএনপির কমপক্ষে অর্ধডজন প্রার্থী। তবে জোটের রাজনীতির কারণে মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারেন বর্তমান মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খাঁর ছেলে কামরুজ্জামান।

জানা যায়, দীর্ঘদিন এ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া ছিল। মোনায়েম খানের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে মুসলিম লীগের প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বিজয় কেড়ে নেয় আওয়ামী লীগ। ভোটাররাও নতুন মুখ শিল্পপতি মো. আফজাল হোসেনকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে। গত নির্বাচনেও তিনি এ এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে চান অনেকে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মেজবাহ উদ্দিন আহমদ, সাবেক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলাউল হক মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে আরো কয়েকজন প্রার্থী এবার মনোনয়ন চাইবেন। তারা হলেন বাজিতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ নূরুন্নবী বাদল ও প্রবীণ নেতা আবদুল লতিফের ছেলে ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন।

অন্যদিকে, আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে চাঙ্গা বিএনপির স্থানীয় প্রার্থীরা। মনোনয়ন পেতে এখনই এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছেন স্থানীয় বিএনপির হাফডজন প্রার্থী। তবে জোটের রাজনীতির কারণে এবার বিএনপি নেতারা মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খাঁর ছেলে এবং বর্তমান মুসলিম লীগ সভাপতি কামরুজ্জামানের কাছে। অবশ্য স্থানীয় অনেক প্রার্থী মনে করেন, এবার মনোনয়ন দিতে হবে বিএনপি থেকেই। বিএনপির বাইরে কোনো প্রার্থীকে তারা এলাকায় ঢুকতে দিতে রাজি নন।

কিশোরগঞ্জ জেলার দুটি থানা বাজিতপুর ও নিকলী নিয়ে সংসদীয় আসন কিশোরগঞ্জ-৫। বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এখানে এমপি নির্বাচিত হন আফজাল সুজের স্বত্বাধিকারী মো. আফজাল হোসেন। বিএনপির সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মঞ্জু মারা যাওয়ায় এখানে এবার দল থেকে মনোনয়ন চান প্রায় ডজনখানেক নেতা। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা এরই মধ্যে দলের হাইকমান্ডে বাড়িয়ে দিয়েছেন যোগাযোগও। বিএনপির প্রয়াত মজিবুর রহমান মঞ্জু এ এলাকা থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে এ আসনে একবার তিনি পরাজিত করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকেও। সাবেক মুসলিম লীগ অধ্যুষিত এলাকার সন্তান ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা ও গভর্নর মোনায়েম খাঁ। স্বাধীনতার পর তার আরেক ছেলে খালেকুজ্জামানও একবার এমপি নির্বাচিত হন।

এসব কারণে এ আসনে আওয়ামী বিরোধী জোট থেকে মনোনয়ন পেতে অনেক নেতাই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল সে সময়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে মেনে নিতে পারেননি। তুমুল প্রতিরোধের মুখে দলের হাইকমান্ড সেই ‘দেওয়া’ মনোনয়ন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির এ সদস্য নির্বাচন করতে এখনই জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী বা দুই থানার নেতারা এবারও তাকে প্রতিরোধ করতে একাট্টা বলে জানা যায়।

সেই প্রতিরোধের চিন্তা থেকেই এবার খোদ বাজিতপুর থানা এলাকাতেই বিএনপির মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি সালেহউজ্জামান খান রুনু, বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহসান কুপিয়া, প্রয়াত মজিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল, বাজিতপুর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল খান ও প্রফেসর বাদল। তারা সবাই বাজিতপুরের বাসিন্দা। সবাই এবার মনোনয়ন নিতে এরই মধ্যে বেশ এগিয়েছেনও। তবে, নিকলী উপজেলা থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল আলম রাজন। তিনি বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারেক ঘনিষ্ঠ এ নেতা এবার মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই থানায় ছাত্র-যুব সংগঠনে একক প্রভাবে কারণে মাঠে ভালোই প্রভাব ফেলতে পারেন তিনি। তা ছাড়া আঞ্চলিকতার প্রভাব থাকায় এককভাবে নিকলী উপজেলায় রাজনের প্রভাব লক্ষণীয়। তার শ্বশুর প্রয়াত মতিউর রহমান বীর বিক্রম ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির আমৃত্যু সভাপতি।

জোটের ভোটের কারণে এখানে প্রার্থী হতে চান মুসলিম লীগ নেতা কামরুজ্জামান। বিএনপি এবার জোটের এ নেতাকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়ন দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে, এ খবরের সত্যতা নাই জানিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এটা হতে পারে না। এলাকায় তাদের কিছুই নেই। নির্বাচন হবে ভোটের। ভোটই যদি না থাকে প্রার্থী দিয়ে কী হবে?’ তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির নেতারা একাট্টা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া আমার আত্মীয়। ২০০১ সালে আমি মনোনয়ন পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম। এবার আমিই দল থেকে মনোনয়ন পাব। অন্য যারা প্রার্থী আছেন তারা আমার কিছুই করতে পারবে না।’

পিডিএসও/বদরুল/মুস্তাফিজ

"