সরকার ও জনগণের ঐক্যের দুর্গে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা : কাদের

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২০, ১৬:৪৮ | আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২০, ১৭:১৮

অনলাইন ডেস্ক

সমগ্র জাতি যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সফলতা দেখাচ্ছে, তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মতলবি মহল সরকার ও জনগণের দুর্ভেদ্য ঐক্যের দুর্গে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা করছে। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এ ধরনের কূটচাল দিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ভবন চত্বরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনটি স্বেচ্ছায় প্লাজমা-রক্তদান কর্মসূচি, এতিম ও অনাথদের মাঝে ঈদ উপহার, মৌসুমি ফল ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এরপর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষক লীগ নেতা বিশ্বনাথ সরকার বিটু। এসময় ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

আগস্ট মাসজুড়ে দলের ঘোষিত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মহামারির কারণে অশ্রুসিক্ত বেদনাবিধুর আগস্টের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। করোনা সংকট থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টার মাঝে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতের ফলে আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে।

করোনা সময়ে আম্পানের আঘাতের পরে বন্যার প্রকোপ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি জাতির প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃঢ় মনোবল রয়েছে। তাই যেকোনো দুর্যোগে আমরা নিরাশ হই না।

করোনাকালীন এই মহাদুর্যোগের সময়েও অকুতোভয় চিত্তে পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে বাঙালি জাতির আশার প্রদীপের সলতেটি জ্বালিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যে কোনো দুর্যোগকে এড়িয়ে না গিয়ে জাতির অভিভাবক হিসেবে সুদক্ষ নাবিকের মতো হাল ধরেন শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির শুরু থেকেই তার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রম ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের কারণে সংকট ঘনীভূত হয়নি। তার নির্দেশেই সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুরো সময়কাল জুড়ে এদেশের জনগণের পাশে ছিল। এবারের বন্যার শুরুতেই বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করেছেন বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় তার সরকারের যথেষ্ট বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন সকল প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার সূত্রকে জয় করে মহাদুর্যোগের এই সময়ে জনগণের জন্য একের পর এক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এবং তার নির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তখন মিডিয়ার কল্যাণে টিকে থাকা একটি দল বিএনপির নেতারা সরকারের সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছেন। আজ সমগ্র জাতি যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সফলতা দেখাচ্ছে, তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মতলবি মহল সরকার ও জনগণের দুর্ভেদ্য ঐক্যের দুর্গে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা করছে। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এ ধরনের কূটচাল দিয়ে আসছে। দুর্যোগের মতো এ ধরনের দুরভিসন্ধি মোকাবিলায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানব সভ্যতা বিধ্বংসী সকল ধরনের দানবীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে মানবের জয় হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের সমগ্র বিশ্ব আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন দেশের দ্বীপ নয়। বাংলাদেশও এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা মোকাবিলা করছি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধে লিপ্ত উল্লেখ করে নানক বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না, যারা জাতির পিতাকে স্বীকার করে না, সেই সমস্ত রাজনৈতিক দল এই বাংলাদেশকে স্বীকার করে না। কাজেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ইনশাল্লাহ, আমরা এগিয়ে যাবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। কোভিড-১৯ এর ভয়কে জয় করে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে শান্তি দেবো—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।