শূন্য আসনে বিএনপির তৎপরতা বেশি

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২০, ১৮:৫২

বদরুল আলম মজুমদার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মরহুম সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৮ আসন এখন খালি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রধান বিরোধীদল বিএনপি থেকে বেশ কয়েকজন প্রার্থী নিজেদের অনুকুলে দলীয় টিকেট আনতে এরই মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপর হয়েছেন। তাদের এ তৎপরতা দেখে দলীয় নেতাকর্মীদেরও ভাবনা বেড়েছে। 

আসনটিতে গত নির্বাচনের প্রার্থী ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে। এবার তাদের সে রকম আনাগোনা দেখা যাচ্ছে না। তবে দলীয় মনোনয়ন নিতে তৎপর থাকা বিএনপি নেতারা মৃত্যু জনিত আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই নিজেরা এখনই বেশ জোরালো ভাবে মাঠ এবং বলয় রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। করোনার কারণে জমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় প্রকাশ্যে কিছু দেখা না গেলেও গত কয়েকদিন থেকে সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব তারা। এ আসনে নির্বাচন করার জন্য বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের নগর উত্তর সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন আগে থেকেই সক্রিয়। তার এ সক্রিয়তা নির্দিষ্ট একটি বলয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও কখনও সিনিয়র পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারেননি। এ আসনের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মেজর (অব) কামরুল ইসলামের প্রভাবের কাছে তুচ্ছই থেকেছেন জাহাঙ্গীর। ২০১৪ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং পরের নির্বাচনে কামরুল ইসলাম নির্বাচনে না আসায় যুবনেতা জাহাঙ্গীর ভেতর ভেতর এমপি নির্বাচন করার ব্যাপক প্রস্তুতিতে ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত নির্বাচনে জাহাঙ্গীর হোসেন ও অরেক ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদীকে দলীয় চিঠি দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী নেতা নিজের ব্যক্তিগত কারনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। এ অবস্থায় দলের একক চিঠি হাতে রেখেও নিজের জন্য কিছু করতে পারেননি এস এম জাহাঙ্গীর। ফলস্বরুপ জোট থেকে অখ্যাত একব্যক্তি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে এ আসনের নেতাকর্মীদের মন ভেঙে দেয়, আর দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জাহাঙ্গীরের অক্ষমতাও প্রকট হয়ে উঠে। 

উপ-নির্বাচনের এ সময়ে বৃহত্তর উত্তরার রাজনীতির ধারা-গতিধারা অনেকটাই পাল্টেছে। পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেই যুবনেতা জাহাঙ্গীর আবার মাঠে আসলেও এবার পরিস্থিতি অনেকটাই প্রতিকুল। সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের ঘনিষ্ট অনুসারী, মুল দলের সিনিয়র নেতা ও শিল্পপতি এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ নির্বাচনী মাঠে ভালোভাবে নেমেছেন। উত্তরা বিএনপির বর্নাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী এবং কামরুল ইসলামের আর্শিবাদপুষ্ট এ নেতা ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতাদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। অনেকের মতে, কামরুল ইসলামের বলয়টি নিয়ে পুরোপুরি মাঠে নামতে পারলে তার অবস্থান নিঃসন্দেহে ভালো হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাহাঙ্গীরের মতো প্রভাব ফেলতে না পারলেও দলের হাই লেভেলে তার যথেষ্ঠ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিএনপির বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে সর্বাধিক অনুদান প্রদান করে দলীয় আনুগত্যের জায়গায়ও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ অবস্থায় তাকে মাঠে পেয়ে কামরুল ইসলামের সেই পুরোনো অনুসারীরা যারপরনাই খুব খুশি।

তবে এবারের উপ-নির্বাচন সামনে রেখে এখনো অনেক প্রার্থী মাঠে নামার অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত আড়ালে থাকা এসব নেতারা মাঠে আসলে নির্বাচন কেন্দ্রিক জল্পনা কল্পনায় আরও ডাল পারা গজাতে পারে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন তরুন ব্যবসায়ী বাহাউদ্দিন সাদি। তিনি নিজে বা তার বলয়ের লোকজনের তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি। বিএনপির হাই কমান্ড ঘনিষ্ট এ নেতা উপরের সিগন্যাল পেলে খুব শিগগির মাঠে নামতে পারেন। এছাড়া আরও দুই একজনের নামও আলোচনায় আছে।